
ফ্যাশন এখন শুধু স্টাইল স্টেটমেন্ট নয়। জেন জি মানসিক চাপ সামলাতে পরছে বিশেষ গয়না। দেখতে সুন্দর, আবার মনও শান্ত রাখে।
গয়না এখন মনের ডাক্তার।
ইনস্টাগ্রামের স্ক্রল, কেরিয়ারের চাপ, পরীক্ষার টেনশন। জেন জি বড় হচ্ছে উদ্বেগকে পাশে নিয়ে। তাই তারা সমাধানও খুঁজছে নিজেদের মতো করে। আর সেই সমাধানটা ধরা দিচ্ছে তাদের হাতের গয়নাতেই।
আগে গয়না মানে ছিল সৌন্দর্য। এখন তার সাথে যোগ হয়েছে মানসিক স্বস্তি। জেন জি এখন যাকে বলে 'অ্যাংজাইটি জুয়েলারি' বা 'ফিজেট জুয়েলারি' সেটাই বেশি পরছে। দেখতে সাধারণ গয়নার মতোই, কিন্তু কাজটা একদম আলাদা। টেনশন হলে আমরা অজান্তেই আঙুল নাড়ি, কলম টেপাটেপি করি। এই গয়নাগুলো ঠিক সেই কাজটাই করে দেয়, তবে অনেক স্টাইলিশ ভাবে।
যেমন স্পিনার রিং। উপরের অংশটা ঘোরানো যায়। মিটিং বা ক্লাসে নার্ভাস লাগলে চুপচাপ ঘোরাতে থাকলেই মনটা একটু শান্ত হয়। আবার কিছু ব্রেসলেট আছে যার গায়ে নানা রকম নকশা কাটা। আঙুল দিয়ে সেটা ঘষতে থাকলে মাথার মধ্যে একটা ছন্দ তৈরি হয়, স্ট্রেস কমে। কারও কারও পছন্দ আবার অ্যারোমা লকেট। ছোট্ট লকেটের ভিতরে ল্যাভেন্ডার তেলের তুলো রাখা যায়। মন খারাপ লাগলেই একটু গন্ধটা নিলেই নাকি মাথা ঠান্ডা হয়। আর ক্রিস্টালের গয়নার তো কদর আছেই। জেন জি বিশ্বাস করে অ্যামেথিস্ট বা রোজ কোয়ার্টজ নেগেটিভিটি দূর করে শান্তি আনে।
জেন জি এই ট্রেন্ডটা ধরেছে কারণ তারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে লজ্জা পায় না। থেরাপি, জার্নালিং এর পাশাপাশি এই ছোট ছোট জিনিসগুলো তাদের রোজকার জীবনে একটু আরাম দেয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, কাউকে বুঝতেও দেয় না। বন্ধু জিজ্ঞাসা করলে বলা যায় "নতুন রিং কিনেছি", "অ্যাংজাইটির জন্য নিয়েছি" বলতে হয় না। ফ্যাশনের আড়ালে তাই লুকিয়ে থাকছে তাদের নিজস্ব হিলিং।
টিকটক আর রিলসে #anxietyjewelry এখন ভাইরাল। ছোট ছোট ব্র্যান্ডগুলোও কাস্টম নাম, জন্মপাথর দিয়ে এই গয়না বানিয়ে দিচ্ছে। ফলে দামেও নাগালের মধ্যে, আবার মনও ভালো থাকে।
ফ্যাশন মানে শুধু বাইরে থেকে ভালো দেখা নয়। ভিতর থেকে ভালো থাকাটাও। একটা আংটি বা ব্রেসলেট যদি দিনের শেষে মনটাকে একটু হালকা করতে পারে, তাহলে সেটাই তো আসল স্টাইল।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News