কাটাছেঁড়ার কত ঘণ্টার মধ্যে টিটেনাস নিতে হবে, জানুন ডাক্তারের ৫ নিয়ম

Published : May 13, 2026, 08:00 AM IST
HIv injection.jpg

সংক্ষিপ্ত

রান্না করতে গিয়ে ছুরিতে আঙুল কাটল, রাস্তায় হোঁচট খেয়ে হাঁটু ছড়ল, বা জং ধরা পেরেকে পা ফুটল – সামান্য কাটাছেঁড়া ভেবে পাত্তা দিচ্ছেন না? এই ছোট ক্ষত দিয়েই ঢুকতে পারে ‘ক্লস্ট্রিডিয়াম টিটানি’ ব্যাকটেরিয়া।  

বাড়ির বাগানে কাজ করছিলেন প্রদীপবাবু। জং ধরা তারে হাত ছড়ে গেল। স্যাভলন লাগিয়ে ভুলে গেলেন। ১০ দিন পর হঠাৎ চোয়াল শক্ত, মুখ খুলতে পারছেন না। হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তার বললেন, ‘ধনুষ্টংকার’। ১২ দিন ICU-তে থেকে কোনওমতে প্রাণে বাঁচলেন।

টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার নিয়ে আমাদের ধারণা – মরচে পড়া পেরেকে পা ফুটলেই শুধু হয়। এটা মারাত্মক ভুল। WHO-র তথ্য বলছে, টিটেনাস ব্যাকটেরিয়া মাটি, ধুলো, নোংরা জল, পশুর মল – সব জায়গায় থাকে। সামান্য আঁচড়, পোড়া, কুকুরের কামড়, এমনকি অপারেশনের কাটা দিয়েও ঢুকতে পারে।

টিটেনাস কীভাবে মারে? সাইলেন্ট কিলার

‘ক্লস্ট্রিডিয়াম টিটানি’ ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকে ‘টিটানোস্প্যাজমিন’ নামে নিউরোটক্সিন ছাড়ে। এই বিষ ব্রেন আর স্পাইনাল কর্ডে অ্যাটাক করে। মাসল কন্ট্রোল নষ্ট হয়। প্রথমে চোয়াল আটকায় – একে বলে ‘লকজ’। তারপর ঘাড় শক্ত, পিঠ ধনুকের মতো বেঁকে যায়, সারা শরীরে খিঁচুনি। শেষে শ্বাসের মাসল অকেজো হয়ে মৃত্যু।

ইনকিউবেশন পিরিয়ড ৩ থেকে ২১ দিন। মানে আজ কাটল, ৩ সপ্তাহ পরেও সিম্পটম আসতে পারে। তাই ‘কিছু হয়নি’ ভেবে বসে থাকা বিপদ।

কখন টিটেনাস শট মাস্ট? ৫টা গোল্ডেন রুল

রুল ১: ‘৬ ঘণ্টা রুল’ – গভীর, নোংরা ক্ষতে

ক্ষত যদি গভীর হয়, নোংরা মাটি, ধুলো, থুতু, মল লাগে, পোড়া হয়, বা পেরেক-কাঁচ ঢোকে – তাহলে চোটের ৬ ঘণ্টার মধ্যে টিটেনাস ইনজেকশন নিতেই হবে। যত দেরি, রিস্ক তত বেশি। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে কার্যকারিতা কমে, তবুও নিতে হবে।

রুল ২: ‘বুস্টার ডোজ রুল’ – শেষ টিকা কবে নিয়েছেন?

সবাইকে ১০ বছর অন্তর টিটেনাস বুস্টার ডোজ নিতে হয়। যদি আপনার শেষ টিকা ৫ বছরের বেশি আগে হয় আর এবার গভীর-নোংরা ক্ষত হয়, তাহলে এখনই একটা শট নিন। আর ক্ষত পরিষ্কার হলে ১০ বছর পর্যন্ত টেনশন নেই। ছোটবেলার DPT টিকা কাউন্ট হবে না, বড় হয়ে নেওয়াটা ধরুন।

রুল ৩: ‘জং ধরা মিথ’ ভাঙুন – সব কাটাই বিপজ্জনক

জং নিজে টিটেনাস করে না। জং ধরা লোহা নোংরা জায়গায় পড়ে থাকে, তাই ব্যাকটেরিয়া লেগে থাকে। কিন্তু রান্নাঘরের পরিষ্কার ছুরিতে কাটলেও রিস্ক আছে। কারণ ব্যাকটেরিয়া আপনার স্কিনেই থাকতে পারে। তাই ক্ষতের ধরন দেখুন, জিনিসটা কী ছিল সেটা নয়।

রুল ৪: ‘ইমিউনোগ্লোবুলিন রুল’ – ২৪ ঘণ্টা পেরোলে বা টিকা না থাকলে

যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি হয়ে যায়, বা আপনি জীবনে কোনওদিন টিটেনাস টিকা নেননি, বা ক্ষত খুব নোংরা হয় – তাহলে শুধু টিটেনাস টক্সয়েড ইনজেকশন নয়, ‘টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবুলিন’ বা TIG শটও নিতে হবে। এটা রেডিমেড অ্যান্টিবডি, ইনস্ট্যান্ট প্রোটেকশন দেয়। ডাক্তার ক্ষতের চারপাশে দেন।

রুল ৫: ‘বিশেষ কেস রুল’ – কাদের রিস্ক ডবল

ডায়াবেটিস, বয়স্ক, কেমো পেশেন্ট, প্রেগন্যান্ট মহিলা – এদের ইমিউনিটি কম। সামান্য আঁচড়েও টিটেনাস শট নিন। পোড়া রোগী, রাস্তার অ্যাক্সিডেন্ট, ডেলিভারির সময় নোংরা ব্লেড ব্যবহার – এগুলো ‘টিটেনাস প্রোন ইনজুরি’। এক সেকেন্ড দেরি নয়। প্রেগন্যান্টদের ৫ মাস ও ৬ মাসে টিটেনাস টিকা মাস্ট, বাচ্চা ও মা দুজনেই বাঁচে।

রুল ৫: ‘বিশেষ কেস রুল’ – কাদের রিস্ক ডবল

ডায়াবেটিস, বয়স্ক, কেমো পেশেন্ট, প্রেগন্যান্ট মহিলা – এদের ইমিউনিটি কম। সামান্য আঁচড়েও টিটেনাস শট নিন। পোড়া রোগী, রাস্তার অ্যাক্সিডেন্ট, ডেলিভারির সময় নোংরা ব্লেড ব্যবহার – এগুলো ‘টিটেনাস প্রোন ইনজুরি’। এক সেকেন্ড দেরি নয়। প্রেগন্যান্টদের ৫ মাস ও ৬ মাসে টিটেনাস টিকা মাস্ট, বাচ্চা ও মা দুজনেই বাঁচে।

কখন টিটেনাস শট লাগবে না?

১. পরিষ্কার ব্লেডে ছোট কাটা, রক্ত ২-১ ফোঁটা, সাথে ধুয়ে ফেলেছেন।

২. শেষ বুস্টার ডোজ ৫ বছরের মধ্যে নেওয়া আছে, আর ক্ষত গভীর নয়।

৩. পুড়ে ফোসকা পড়েনি, শুধু লাল হয়েছে।

তবুও ডাউট থাকলে ডাক্তার দেখান। ‘হতে পারে’ রিস্ক নেবেন না।

কাটাছেঁড়ার সাথে কী করবেন? ফার্স্ট এইড

১. চাপ দিয়ে রক্ত বন্ধ করুন: পরিষ্কার কাপড় ৫ মিনিট চেপে ধরুন।

২. জল ঢালুন: কলের জলের তোড়ে ৫ মিনিট ক্ষত ধুয়ে নিন। সাবান দিন। মাটি-কাঁকর বের করুন।

৩. অ্যান্টিসেপ্টিক: বিটাডিন বা স্পিরিট দিন। হলুদ-সিঁদুর নয়।

৪. খোলা রাখুন: গভীর ক্ষত ব্যান্ডেজ দিয়ে এয়ারটাইট করবেন না। টিটেনাস ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেন ছাড়া বাড়ে।

৫. ডাক্তার: ৬ ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তার দেখিয়ে শট নিন কিনা জেনে নিন।

টিটেনাস হয়ে গেলে বোঝার ৪টা রেড অ্যালার্ট

১. লকজ: হাই তুলতে, খেতে গেলে চোয়াল আটকে যাচ্ছে।

২. রাইসাস সারডোনিকাস: মুখের মাসল টেনে অদ্ভুত হাসির মতো দেখানো।

৩. ওপিস্থোটোনাস: পিঠ ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া, ঘাড় শক্ত।

৪. খিঁচুনি: আলো, শব্দ, ছোঁয়ায় সারা শরীর কেঁপে ওঠা।

এই ৪টের ১টাও দেখলে ১০০ ডায়াল করুন। বাড়িতে বসে থাকলে মৃত্যু ৯৫% শিওর।

দাম ও কোথায় পাবেন:

সরকারি হাসপাতালে টিটেনাস টক্সয়েড ফ্রি। প্রাইভেটে ৫০-২০০ টাকা। TIG ইনজেকশন ১৫০০-৩০০০ টাকা, ওজন অনুযায়ী ডোজ। সব ওষুধের দোকানে থাকে না, বড় ফার্মেসি বা হাসপাতালে পাবেন।

শেষ কথা:

টিটেনাস ১০০% প্রিভেন্টেবল, কিন্তু হয়ে গেলে ১০০% ভয়ানক।

১০ বছরে ১টা শট – মাত্র ২ মিনিটের ব্যাপার। এটা নিতে কিপটেমি করবেন না।

আজই ভ্যাকসিন কার্ড চেক করুন। শেষ ডোজ কবে নিয়েছেন? ১০ বছর পেরোলে ফ্যামিলি ডাক্তারকে বলে বুস্টার নিয়ে নিন।

কারণ সামান্য কাটা থেকেই জীবন কাটা পড়তে পারে। আর একটা ইনজেকশনই পারে সেই কাটা জুড়ে দিতে।

 

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Kidney Health: এই খাবারগুলো কিডনির দফারফা! আজই বাদ দিন তালিকা থেকে
Flaxseed Benefits: ফ্ল্যাক্স সিড জলে ভিজিয়ে খাওয়ার উপকার জানেন?