পরিবারের কেউ মারা গেলে রেশন কার্ডে এই কাজটা ভুলেও নয়! সময় পেরোলেই বাড়তে পারে ঝামেলা

Published : Sep 09, 2026, 01:48 PM IST
New Ration card

সংক্ষিপ্ত

পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে রেশন কার্ডের তথ্যও নিয়ম মেনে আপডেট করা জরুরি। মৃত সদস্যের রেশন কার্ড বা নাম সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধা ও নথিপত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

একজন মানুষ চলে যাওয়ার পর তাঁর ঘরটা একই থাকে, আলমারিতে জামাকাপড়ও একই থাকে, টেবিলের উপর পড়ে থাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। কিন্তু সরকারি খাতায় সেই মানুষটির পরিচয়ও যে বদলে দিতে হয়, শোকের সময়ে অনেকেই তা মনে রাখতে পারেন না। রেশন কার্ডও তার ব্যতিক্রম নয়।

পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর নাম রেশন কার্ডে থেকে গেলে বিষয়টি শুধুমাত্র একটি পুরনো তথ্য হয়ে পড়ে থাকে না। সরকারি খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থায় রেশন কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। তাই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ আর জীবিত না থাকলে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট রেকর্ডেও আপডেট করা প্রয়োজন।

মৃত্যু হলেই কি রেশন কার্ডের বিষয়টি ভুলে যাওয়া যায়?

একেবারেই নয়। কোনও পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হলে তাঁর নামে থাকা রেশন কার্ডের বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রেশন ব্যবস্থার সরকারি নির্দেশিকায় মৃত রেশন কার্ডধারীর কার্ড সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং এর জন্য ৩০ দিনের সময়সীমার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

তাই কয়েক মাস বা বছর কেটে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ভাবার বদলে, মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরকারি নথিপত্রের কাজের সঙ্গেই রেশন কার্ডের বিষয়টিও মিটিয়ে ফেলা ভালো।

এর একটি সহজ কারণ রয়েছে—সরকারি রেকর্ডে পরিবারের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তথ্যের মিল থাকা দরকার।

প্রথম ধাপটা আসলে রেশন কার্ড নয়

অনেকের কাছেই হয়তো বিষয়টি একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। কিন্তু রেশন কার্ডের তথ্য সংশোধনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলির একটি হল মৃত্যু শংসাপত্র।

কোনও ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরে তাঁর মৃত্যুর সরকারি নথিভুক্তি সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এরপর সেই ডেথ সার্টিফিকেটের কপি ব্যবহার করে রেশন কার্ড সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায়।

পশ্চিমবঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত পরিষেবার জন্য সরকারি জন্ম মৃত্যু তথ্য পোর্টাল রয়েছে। সেখান থেকেও মৃত্যু সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়া যায়। ফলে শুধুমাত্র হাসপাতাল বা পুরসভার কাগজপত্র সংগ্রহ করেই থেমে গেলে হবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ডও ঠিকঠাক রয়েছে কি না দেখে নেওয়া উচিত।

রেশন কার্ডে নাম বাদ দেওয়ার জন্য কী করতে হবে?

এখানেই আসে মূল কাজটি। পশ্চিমবঙ্গে রেশন কার্ড সারেন্ডার বা ক্যানশেল করার জন্য ফর্ম-৭ ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত সদস্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির রেশন কার্ডের তথ্য এবং মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথি দিতে হয়। সরকারি ফর্মে মৃত্যুর কারণে রেশন কার্ড সারেন্ডার করার ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দাহ করার সময় সার্টিফিকেট দেওয়া হয় তার কথাও উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু মুখে জানিয়ে দিলেই কাজ শেষ নয়। প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে সরকারি রেকর্ডে পরিবর্তনটি নথিভুক্ত করানোই আসল বিষয়।

কোথায় যাবেন?

এই কাজের জন্য প্রত্যেককে একই অফিসে যেতে হবে এমন নয়। বর্তমানে রেশন কার্ড সংক্রান্ত একাধিক পরিষেবা অনলাইনে পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গ খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমেও রেশন কার্ড সারেন্ডার বা ক্যানশেলেশন সংক্রান্ত পরিষেবা নেওয়া যায়।

কোন কোন কাগজ আগে থেকে গুছিয়ে রাখবেন?

এই ধরনের সরকারি কাজের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে নথি খুঁজতে গেলে অযথা সময় নষ্ট হতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক জায়গায় রাখা ভালো।

সাধারণভাবে মৃত ব্যক্তির রেশন কার্ডের তথ্য এবং ডেথ সার্টিফিকেটের কপি গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর পরিচয় এবং পরিবারের রেশন কার্ড সংক্রান্ত তথ্যও প্রয়োজন হতে পারে। অনলাইনে আবেদন করলে নথিগুলির পরিষ্কার ছবি বা স্ক্যান কপি লাগতে পারে।

তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—কোন পরিষেবার ক্ষেত্রে ঠিক কোন নথি লাগবে, তা আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট দফতরের সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

নাম বাদ দেওয়ার পরেই কি কাজ শেষ?

রেশন কার্ডের তথ্য সংশোধনের আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর তার স্ট্যাটাস বা আবেদনের ফলাফল দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

অনলাইনে আবেদন করলে সাধারণত আবেদন সংক্রান্ত রেফারেন্স বা অ্যাকনলেজমেন্টের তথ্য পাওয়া যায়। অফলাইনে আবেদন করলে জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে পাওয়া রসিদটি যত্ন করে রাখা উচিত।

কারণ ভবিষ্যতে কোনও প্রশ্ন উঠলে, আপনি যে নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি দফতরে আবেদন করেছিলেন, তার প্রমাণ এই নথিই হতে পারে।

এই ছোট কাজটির গুরুত্ব কোথায়?

ভাবুন, কয়েক বছর পর পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের রেশন কার্ডে সংশোধন করতে হবে। হয়তো পরিবারের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে, নতুন কোনও সদস্যের নাম যোগ করতে হবে, কিংবা অন্য কোনও পরিষেবার জন্য রেশন কার্ডের তথ্য প্রয়োজন হয়েছে। তখন পুরনো রেকর্ডে মৃত ব্যক্তির নাম রয়ে গেলে অতিরিক্ত যাচাই বা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

তাই রেশন কার্ডের তথ্যকে পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা শুধু নিয়ম মেনে চলার বিষয় নয়; ভবিষ্যতের অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ঝামেলা কমানোরও একটি উপায়।

একটা ভুল ধারণা এড়িয়ে চলুন

পরিবারের কেউ মারা যাওয়ার পর তাঁর রেশন কার্ডে নাম থাকলেই পরিবারের সদস্যরা ইচ্ছেমতো সেই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন—এমন ধারণা ঠিক নয়।

রেশন ব্যবস্থা সরকারি খাদ্যবণ্টনের অংশ। কার্ডে পরিবারের সদস্যদের তথ্যের পরিবর্তন হলে সেটি সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ডেও প্রতিফলিত হওয়া দরকার। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির নামে বরাদ্দ সুবিধা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে।

তাই কোনও পরিস্থিতিতেই বিষয়টি লুকিয়ে না রেখে নিয়ম মেনে রেশন কার্ডের তথ্য সংশোধন করাই সঠিক পথ।

শোকের মধ্যেও যে কাজটি ভুলে গেলে চলবে না

কেউ চলে যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতি, তাঁর ব্যবহার করা জিনিসপত্র, তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য দায়িত্ব—সবকিছুই পরিবারের কাছে ভারী হয়ে ওঠে। সেই সময়ে রেশন কার্ডের মতো একটি সরকারি নথির কথা মনে না থাকাটাও অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু প্রয়োজনীয় মৃত্যু শংসাপত্র হাতে আসার পর সরকারি রেকর্ডগুলিও ধীরে ধীরে আপডেট করে নেওয়া উচিত। রেশন কার্ড তারই একটি অংশ।

তাই পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে শেষকৃত্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের পাশাপাশি রেশন কার্ডের তথ্যটিও একবার পরীক্ষা করে নিন। মৃত সদস্যের নাম থাকলে নিয়ম অনুযায়ী ফর্ম -৭-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। একটি ছোট প্রশাসনিক কাজ সময়মতো করে রাখলে ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যদের অনেক অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ থেকে বাঁচানো সম্ভব।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Glowing Skin: ত্বকের জেল্লা ফেরাতে ৮টি ঘরোয়া ফেস মাস্ক
Peanuts: রোজ একমুঠো চিনেবাদাম খেলে কী হয় জানেন?