
ঘড়িতে দুপুর ২টা। পেট ভরে ভাত খেয়েছেন। তারপরই ডেস্কে বসে চোখ লেগে আসছে, মাথা ঝিমঝিম করছে। একে আমরা সহজে "ভাতঘুম" বলে চালিয়ে দিই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, রোজকার এই ঢুলুনির পিছনে শুধু পেট ভরা নয়, আরও অনেক কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটা একদম স্বাভাবিক, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটা শরীর খারাপের প্রাথমিক ইঙ্গিতও হতে পারে।
দুপুরে ঘুম পাওয়ার পিছনে ৫টি বড় কারণ:
দুপুরে আমরা সাধারণত ভাত, রুটি, ডাল আর একটু মিষ্টি খাই। এই হাই-কার্ব খাবার খাওয়ার পর রক্তে সুগার খুব দ্রুত বেড়ে যায়। তখন প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন বের হয় সেই সুগারকে ব্যালেন্স করার জন্য। এই পুরো প্রসেসের সময় মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং পরে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। এই দুটো হরমোনই ঘুম ঘুম ভাব আনে। অল্প হলে এটা একদম স্বাভাবিক, কিন্তু রোজ হলে খাবারের প্লেটটা একটু বদলাতে হবে।
আপনি রাতে ৫-৬ ঘণ্টার বেশি ঘুমান না? তাহলে দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে আপনার শরীরের "সার্কাডিয়ান রিদম" প্রাকৃতিক ভাবেই একবার স্লো হয়ে যায়। একে বলে "আফটারনুন স্লাম্প"। রাতের ঘুমের ঘাটতি থাকলে এই সময়টায় ক্লান্তি আর ঘুম দুটোই দ্বিগুণ হয়ে ধাক্কা দেয়। তাই দুপুরের ঘুম আসলে আগে রাতের ঘুমের হিসাব মেলান।
খাওয়ার ৩০-৪০ মিনিট পর যদি প্রচন্ড দুর্বলতা, ঘুম, হাত-পা কাঁপা আর মাথা ঘোরা লাগে, তাহলে সেটা "রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া" হতে পারে। মানে খাওয়ার পর সুগার খুব বেড়ে গিয়ে আবার হঠাৎ নেমে যাচ্ছে। এটা টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের খুব কমন আর্লি সাইন। সাথে যদি অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা ঘন ঘন প্রস্রাব থাকে, তাহলে সুগার টেস্ট করানো জরুরি।
অনেক সময় রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সারাদিন ঘুম কাটে না। এর কারণ হতে পারে থাইরয়েডের সমস্যা, শরীরে রক্ত কম বা স্লিপ অ্যাপনিয়া। স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে রাতে নাক ডাকেন এবং ঘুমের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গভীর ঘুম হয় না। সকালে মাথা ব্যথা আর দিনে ঘুম - এই দুটো একসাথে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আমরা অনেকেই সারাদিনে ঠিকমতো জল খাই না। ডিহাইড্রেশন হলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে যায়, ফলে ক্লান্তি আর ঘুম আসে। তার উপর যদি তেল-মশলাদার ভারী খাবার খান, তাহলে সেই খাবার হজম করতেই শরীরের সব এনার্জি চলে যায়। পেটে রক্ত বেশি যাওয়ার জন্য মস্তিষ্কে রক্ত কমে যায়, আর আপনি ঢুলতে থাকেন।
এই ৩টি লক্ষণ দেখলে আর দেরি করবেন না:
ডাক্তাররা বলছেন, দুপুরের ঘুমের সাথে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে অবশ্যই চেকআপ করান:
১. ওজন হঠাৎ বাড়া বা কমা + খুব তৃষ্ণা + ঘন ঘন প্রস্রাব → ফাস্টিং এবং PP সুগার টেস্ট করুন
২. রাতে প্রচন্ড নাক ডাকা + সকালে মাথা ব্যথা + দিনে ঘুম → স্লিপ স্টাডি করান
৩. সপ্তাহে ৫ দিনের বেশি দুপুরে ১ ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়ে পড়া এবং কাজে ব্যাঘাত → এটা আর "পাওয়ার ন্যাপ" নেই
ঢুলুনি থেকে বাঁচার ৩টি কার্যকরী উপায়:
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News