Jharkhand Travel Tips: বর্ষায় ডিজিটাল ডিটস্ক হতে ঘুরে আসুন ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা থেকে, রইল টিপস

Published : Jun 24, 2026, 01:34 PM IST
India Monsoon Travel Spots

সংক্ষিপ্ত

Travel Tips: ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট বলছে সারান্ডা হলো এশিয়ার সবচেয়ে ঘন শাল গাছের জঙ্গল। ৮২০ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে শুধু শাল আর শাল। পাহাড় ৭০০টার বেশি, তাই নাম "সারান্ডা = ৭০০ পাহাড়"।  সেরা সময় নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি। কলকাতা থেকে ৪০ কিমি, জাগসাই/মানোহরপুর হয়ে ঢুকতে হয়। পারমিশন মাস্ট। নেটওয়ার্ক নেই, বিদ্যুৎ কম - তাই আসল "ডিজিটাল ডিটক্স"। 

Travel Tips: মানোহরপুর স্টেশনে নামলে বুঝবে সভ্যতা শেষ। সামনে শুধু জঙ্গল আর পাহাড়। এই জঙ্গলের নাম সারান্ডা। ৮২০ বর্গ কিমি - গোটা কলকাতা শহরের ১.৫ গুণ। আর ৯০% জুড়ে শুধু শাল গাছ। এত ঘন শালবন এশিয়ায় আর কোথাও নেই।

সারান্ডা মানে ঝাড়খণ্ডের ফুসফুস। "সারান্ডা" শব্দটা হো আদিবাসীদের দেওয়া। সারাং = ৭০০, ডা = পাহাড়। এখানে গুনে শেষ করা যাবে না কত পাহাড়-টিলা আছে।

সারান্ডায় কী দেখবে? এটা চিড়িয়াখানা না, জঙ্গল:

১. থলকোবাদ ইকো টুরিজম - জঙ্গলের মাঝে রাত কাটাও

ঝাড়খণ্ড টুরিজমের কটেজ আছে থলকোবাদে। চারপাশে ১০ কিমি শুধু জঙ্গল। রাতে জানলা খুললেই হাতির ডাক, চিতার ডাক। সকালে উঠে দেখো হাতির পাল নদীতে জল খাচ্ছে। নেট নেই, টিভি নেই। শুধু তুমি আর জঙ্গল।

২. কিরিবুরু + মেঘাহাতুবুরু - মেঘ ছোঁয়ার জায়গা

দুটো পাহাড় চূড়া। ৯০ মিটার উঁচু। উপরে SAIL-এর গেস্ট হাউস। সকালবেলা মেঘ এসে পায়ের কাছে লুটোয়। নিচে কারো নদী সাপের মতো বেঁকে গেছে। এখান থেকে গোটা সারান্ডা জঙ্গল এক নজরে। সানসেট মারাত্মক।

৩. কারো নদী + ঝর্ণা

জঙ্গলের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে কারো নদী। জল কাঁচের মতো স্বচ্ছ। বর্ষায় লিম্বুদা, পিরা ঝর্ণা জেগে ওঠে। শীতে নদীর ধারে বসে আদিবাসী মেয়েদের পাতা সেলাই দেখো।

৪. হাতি-চিতা-ভাল্লুকের রাজ্য

সারান্ডায় ২০০+ হাতি থাকে। ভাগ্য ভালো থাকলে থলকোবাদ থেকে কিরিবুরু যাওয়ার রাস্তায় পাল দেখবে। লেপার্ড, স্লথ বিয়ার, বাইসন, হরিণ তো আছেই। পাখি ২৫০+ প্রজাতির। বার্ড ওয়াচারদের স্বর্গ।

৫. হো-মুন্ডা গ্রাম

জঙ্গলের ভিতর আদিবাসী গ্রাম। মাটির বাড়ি, দেওয়ালে আলপনা। ওদের সাথে বসে হাঁড়িয়া খাও, ধুমসা নাচ দেখো। ওরাই জঙ্গলের আসল মালিক। গাইড ওরাই হয়।

যাওয়ার নিয়ম + টিপস:

কখন যাবে: নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি। ঠান্ডা, শুকনো। বর্ষায় রাস্তা বন্ধ। গরমে হাতি জলের খোঁজে বেরোয়, রিস্কি।

পারমিশন: মানোহরপুর/জাগসাই ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস থেকে এন্ট্রি পারমিশন নিতেই হবে। গাইড ছাড়া ঢুকতে দেবে না।

কীভাবে যাবে: কলকাতা-হাওড়া থেকে ইস্পাত/টাটানগর এক্সপ্রেস ধরে চাইবাসা বা মানোহরপুর। ওখান থেকে গাড়ি ভাড়া ৩০০-৩৫০/দিন।

থাকা: থলকোবাদ ইকো রিসোর্ট ১২০০/রুম। কিরিবুরু গেস্ট হাউস বুক করতে হয় আগে।

সাবধান: মাওবাদী জোন। সন্ধ্যা ৬টার পর বেরোবে না। জোরে মিউজিক বাজাবে না। হাতি দেখলে গাড়ি বন্ধ করে দূরে দাঁড়াও।

শেষ কথা:

সারান্ডা টুরিস্ট স্পট না। এটা অ্যাডভেঞ্চার। এখানে ৫-স্টার সুবিধা পাবে না। পাবে কাঁচা জঙ্গল, কাঁচা মানুষ আর কাঁচা নিস্তব্ধতা। মোবাইল টাওয়ার নেই ৩ দিন - বিশ্বাস করো, মনটা হালকা হয়ে যাবে। দিঘার ভিড়ে দম বন্ধ লাগলে, সারান্ডার জঙ্গলে শ্বাস নাও। হাতির পায়ের ছাপ দেখে বুঝবে প্রকৃতি কত বড় আর তুমি কত ছোট।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Money Plant: ঘরে মানি প্ল্যান্ট, তবুও টাকার অভাব? এই ৪টি ভুল করছেন না তো?
খালি পেটে এলাচ জল খাওয়ার উপকারিতা জানেন? জানলে অবাক হবেন