
বাংলায় এমন গ্রামও আছে যেখানে আজও আমিষ নিষিদ্ধ। মাছ-মাংস তো দূর, ডিম পর্যন্ত ঢোকে না। নদীয়ার কৃষ্ণনগরের কাছে কাঞ্চনগড়িয়া গ্রামে গেলেই এই অবাক করা দৃশ্য দেখবেন। আর এই রীতির কেন্দ্রে রয়েছে ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো এক বিশাল হরিতকি গাছ।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, এই গাছের নিচেই পা রেখেছিলেন স্বয়ং শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু।
কী ঘটেছিল ৫০০ বছর আগে?
লোককথা অনুযায়ী, মহাপ্রভু যখন শান্তিপুর থেকে নীলাচলের পথে যাচ্ছিলেন, তখন এই গ্রামে এসে এই হরিতকি গাছের ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন ও ভক্তদের সঙ্গে হরিনাম সংকীর্তন করেন। তাঁর স্পর্শে গ্রামের মানুষজন বৈষ্ণব ভাবধারায় আকৃষ্ট হন।
তখনই গ্রামের মাতব্বররা প্রতিজ্ঞা করেন, যতদিন এই গাছ বেঁচে থাকবে, ততদিন এই গ্রামে কোনও জীবহত্যা হবে না, কোনও বাড়িতে আমিষ রান্না হবে না। সেই থেকে আজও সেই প্রতিজ্ঞা চলছে।
আজও কঠোরভাবে মানা হয় নিয়ম:
১. গ্রামের ভিতরে কোনও মাছ-মাংসের দোকান নেই। ২. কোনও বাড়িতে আমিষ রান্না হয় না, বিয়ে-অনুষ্ঠানেও সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার হয়। ৩. বাইরে থেকে কেউ আমিষ খাবার কিনে এনে গ্রামে খেতে পারেন না। ৪. হরিতকি গাছের একটি পাতাও কেউ ছেঁড়েন না, ফল পড়লে তা প্রসাদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
অলৌকিক হরিতকি গাছ:
স্থানীয়দের দাবি, বহু ঝড়-বন্যা গেছে, পাশের অনেক গাছ উপড়ে গেছে, কিন্তু এই গাছটির কোনও ক্ষতি হয়নি। গাছের গোড়ায় তৈরি হয়েছে ছোট্ট একটি মন্দির, যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভুর পায়ের ছাপ ও তাঁর মূর্তি পুজো করা হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এখানে হরিনাম হয়।
দোল পূর্ণিমা, গৌর পূর্ণিমা ও রথযাত্রার সময় এখানে বিশাল মেলা বসে। তখন হাজার হাজার ভক্ত আসেন এই ‘জীবন্ত ইতিহাস’ দেখতে।
কাঞ্চনগড়িয়া শুধু একটি গ্রাম নয়, এটি বাংলার বৈষ্ণব সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News