
Parenting Tips: ‘ক্রিটিকোম’ আসলে ‘Critical Period’ বা ‘সংবেদনশীল সময়’। ০ থেকে ৮ বছর বয়স - এটাই বাচ্চার মস্তিষ্কের সোনালি সময়। এই সময় ব্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০ লক্ষ নিউরন কানেকশন তৈরি করে। ভাষা শেখা, হাঁটা, আবেগ বোঝা, মানুষের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলা - সব এই সময়েই শেখে। এই পিরিয়ড একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। একে বলে মস্তিষ্কের ‘ফাউন্ডেশন টাইম’।
মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে: ইউটিউব শর্টস, রিলস - ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও। বাচ্চার ব্রেন অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি সুইচ করতে। ফলে বই, পড়া, ক্লাসে মন বসছে না। ডাক্তাররা একে বলছে ‘Digital ADHD’।
ভাষা শেখা আটকে যাচ্ছে: মানুষের সাথে কথা বলে বাচ্চা ভাষা শেখে। ফোনের সামনে বসে থাকলে মা-বাবার সাথে কথা কমে যাচ্ছে। ফলে শব্দভাণ্ডার কম, বাক্য গোছাতে পারছে না।
আবেগ বোঝার ক্ষমতা কমছে: রাগ, দুঃখ, আনন্দ - এগুলো মানুষের মুখ দেখে শেখে বাচ্চা। স্ক্রিনের কার্টুন মুখের এক্সপ্রেশন বোঝায় না। ফলে বড় হয়ে ও Empathy শিখছে না। সামান্য কথায় রেগে যাচ্ছে।
ঘুম আর চোখের ক্ষতি: রাতে ফোনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোন নষ্ট করছে। ঘুম আসছে না। ছোট বয়সেই চশমা, ড্রাই আই, মাথা ব্যথা শুরু।
বিপদটা কোথায়? ‘বন্দি’ বলছি কেন?
ক্রিটিক্যাল পিরিয়ডে ব্রেন যা দেখে, তাই শেখে। এখন ব্রেন যদি ২৪ ঘণ্টা কার্টুন, গেম, অ্যালগরিদমের ফিড দেখে, তাহলে বাস্তব জগতের শব্দ, গন্ধ, মাটি, বন্ধু - এগুলো ব্রেন ‘শিখবেই না’। মানে বাচ্চার মস্তিষ্কের ডেভেলপমেন্ট স্মার্টফোনের ৬ ইঞ্চি স্ক্রিনেই আটকে যাচ্ছে। বাইরের দুনিয়াটা তার কাছে অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এটাই ‘বন্দি’ হওয়া।
ডাক্তাররা কী বলছেন? WHO-র গাইডলাইন কী?
WHO বলছে - ২ বছরের নিচে বাচ্চার কোনো স্ক্রিন টাইম নেই। ২-৫ বছর বয়সে দিনে ১ঘণ্টার বেশি না। আর সেটাও প্যারেন্টসের সাথে বসে, কোয়ালিটি কনটেন্ট।
পেডিয়াট্রিশিয়ান ড. অরবিন্দ গুপ্ত বলেন - "ফোন দিয়ে বাচ্চাকে চুপ করানো মানে ধার নেওয়া। সুদে-আসলে সেটা ১০ বছর বয়সে ফেরত দিতে হবে - মনোযোগহীনতা, রাগ, ডিপ্রেশন হিসেবে"।
তাহলে উপায় কী? ফোন কি একদম বন্ধ?
ফোন বন্ধ করতে বলছি না। ‘স্মার্ট’ ব্যবহার করতে বলছি।
রিপ্লেস করুন, ব্যান করবেন না, বাচ্চা বোর হচ্ছে মানেই ফোন না। রং, মাটি, বল, গল্পের বই দিন। হাতে-কলমে খেলা ব্রেনের জন্য সেরা জিম।
‘No Phone Zone’ বান: খাবার টেবিল, ঘুমানোর ঘর - এই দুই জায়গায় ফোন নিষিদ্ধ। বাচ্চা দেখে শিখবে। আপনি নিজে খেতে বসে রিলস দেখলে বাচ্চাও দেখবে।
কোয়ালিটি টাইম: দিনে ২০ মিনিট শুধু বাচ্চার চোখে চোখ রেখে খেলুন। ফোন দূরে রাখুন। এই ২০ মিনিট ব্রেনের ১০ ঘণ্টা স্ক্রিন টাইমের থেকেও দামি।
শেষ কথা
আপনার সন্তানের ‘ক্রিটিকোম’ মানে তার মস্তিষ্ক গড়ার সোনালি সময়টা এখন চলছে। এই সময় স্মার্টফোন দিয়ে ভরাট করলে পরে আফসোস ছাড়া উপায় নেই। ফোন একটা যন্ত্র। কিন্তু বাচ্চার ব্রেন একবারই তৈরি হয়।
আপনার বাচ্চা দিনে কতক্ষণ ফোন দেখে? আর এই লেখাটা সেই বাবা-মাকে শেয়ার করুন যার বাচ্চার হাত থেকে ফোন নামে না।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News