
Health News: সারাদিনের ক্লান্তির পর রাতে একটা ভালো ঘুম খুব জরুরি। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি ঘাড়ে ব্যথা, মাথা ধরা বা কাঁধে টান অনুভব করেন, তাহলে সমস্যাটা আপনার ঘুমের ধরনে নয়, আপনার বালিশে। আমরা অনেকেই ২-৩ বছর ধরে একই বালিশ ব্যবহার করতে থাকি, কিন্তু জানেন কি, একটি বালিশের আয়ু সাধারণত ১.৫ থেকে ২ বছর? তার পরেই তার সাপোর্ট নষ্ট হতে শুরু করে।
১. সকালে ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথা:
এটি সবচেয়ে বড় লক্ষণ। যদি রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাড় শক্ত হয়ে থাকে, কাঁধে ব্যথা করে বা মাথা ধরে থাকে, তাহলে বুঝবেন বালিশটি আর আপনার ঘাড়কে ঠিকভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে না। সঠিক বালিশ আপনার মাথা, ঘাড় এবং মেরুদণ্ডকে এক সরলরেখায় রাখে।
২. বালিশ ভাঁজ করার টেস্ট:
বালিশটিকে মাঝখান থেকে ভাঁজ করে ছেড়ে দিন। যদি বালিশটি সঙ্গে সঙ্গে আগের মতো ফুলে না ওঠে এবং ভাঁজ হয়েই পড়ে থাকে, তাহলে তার ভেতরের তুলো বা ফাইবার নষ্ট হয়ে গেছে। এর সাপোর্ট ক্ষমতা শেষ।
৩. বালিশ উঁচু-নিচু হয়ে যাওয়া:
পুরনো বালিশে শুতে শুতে মাঝখানে গর্ত হয়ে যায়। মাথা রাখলে মাথা ডেবে যায়। এর ফলে ঘাড় বেঁকে থাকে সারা রাত, যা স্পন্ডিলাইটিসের কারণ হতে পারে।
৪. ঘুমের মধ্যে বারবার বালিশ ঠিক করা:
সারারাত যদি আপনাকে বারবার বালিশ চাপড়ে, ভাঁজ করে, উঁচু করে শুতে হয় আরামের জন্য, তাহলে বুঝবেন বালিশটি আর আরামদায়ক নেই।
৫. অ্যালার্জি বা হাঁচি-কাশি:
পুরনো বালিশের ভেতরে ধুলো, ডেড স্কিন এবং ডাস্ট মাইট জমে থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। এর ফলে সকালে হাঁচি, নাক বন্ধ, চোখ চুলকানোর মতো অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যদি বালিশ থেকে একটা পুরনো গন্ধ বেরোয়।
৬. ঘুম থেকে বারবার জেগে ওঠা:
ভুল বালিশের কারণে সারা রাত শরীর সঠিক পজিশনে থাকে না, ফলে গভীর ঘুম হয় না। বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং সকালে উঠেও ক্লান্ত লাগে।
কোন বালিশ কিনবেন?
চিৎ হয়ে শুলে মাঝারি উচ্চতার বালিশ এবং পাশ ফিরে শুলে একটু উঁচু ও শক্ত বালিশ ভালো। আজকাল মেমোরি ফোম বা ল্যাটেক্স বালিশ ঘাড়ের ব্যথার জন্য সবচেয়ে ভালো বলে মনে করা হয়, কারণ এটি ঘাড়ের শেপ অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেয়।
মনে রাখবেন, একটি ভালো বালিশে বিনিয়োগ মানে আপনার স্বাস্থ্যের ওপর বিনিয়োগ।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News