
দেশের বেশিরভাগ জায়গায় বর্ষা এসে গেছে। গরমের হাত থেকে স্বস্তি মিললেও, এই স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় ফাঙ্গাস আর ব্যাকটেরিয়াদের বংশবৃদ্ধির জন্য একেবারে আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়।
বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প, বেশি ঘাম হওয়া, বেশিক্ষণ ভেজা জামাকাপড় পরে থাকা—এই সবকিছুর কারণে ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সহজেই ইনফেকশন হতে পারে।
বর্ষাকালে শরীরের যে সব জায়গায় ঘাম বা জল জমে, সেখানে ফাঙ্গাল ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক বর্ষার কিছু সাধারণ চর্মরোগ এবং তা থেকে বাঁচার উপায়।
১. দাদ (Ringworm বা Tinea corporis)
দাদ একটি ফাঙ্গাল ইনফেকশন, যা খুব ছোঁয়াচে। এটি শরীরের যেকোনো অংশে হতে পারে। এর প্রধান লক্ষণ হলো ত্বকে গোল হয়ে লাল দাগ হওয়া এবং شدید চুলকানি। আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে এলে বা তার ব্যবহার করা জামাকাপড়, তোয়ালে, চিরুনি ব্যবহার করলে এই রোগ ছড়াতে পারে। এমনকি পোষ্য বা মাটি থেকেও এটি ছড়ায়।
প্রতিরোধের উপায়
শরীর ও জামাকাপড় সবসময় পরিষ্কার রাখুন।
হাওয়া চলাচল করতে পারে এমন হালকা সুতির পোশাক পরুন।
অন্যের ব্যবহার করা তোয়ালে বা জামাকাপড় ব্যবহার করবেন না।
২. অ্যাথলিটস ফুট (Athlete’s Foot বা Tinea pedis)
এটি পায়ের আঙুলের ফাঁকে হওয়া একটি সাধারণ ফাঙ্গাল ইনফেকশন, যা আমরা অনেকেই হাজা নামে চিনি। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে এই ফাঙ্গাস দ্রুত বাড়ে। এর লক্ষণগুলো হলো চুলকানি, চামড়া ওঠা, লাল হয়ে যাওয়া এবং পা ফাটা।
কী করবেন?
পা সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
ভেজা জুতো বা মোজা বেশিক্ষণ পরে থাকবেন না, বদলে ফেলুন।
সুইমিং পুল বা পাবলিক বাথরুমের মতো জায়গায় খালি পায়ে হাঁটবেন না, চটি পরুন।
সুতির মোজা ব্যবহার করুন।
৩. ইন্টারট্রিগো (Intertrigo)
শরীরের ভাঁজে, যেমন স্তনের নিচে, বগলে বা পেটের ভাঁজে, ঘাম ও আর্দ্রতা জমে চামড়ায় ঘষা লেগে এক ধরনের র্যাশ হয়। একে ইন্টারট্রিগো বলে।
লক্ষণ
শরীরের ভাঁজের চামড়া লাল হয়ে যাওয়া ও জ্বালা করা।
চুলকানি হওয়া।
আক্রান্ত জায়গা ভিজে ও চটচটে থাকা।
৪. ফলিকুলাইটিস (Folliculitis)
চুলের গোড়ায় বা রোমকূপে স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস (Staphylococcus aureus)-এর মতো ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করলে এই সমস্যা হয়। বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া, ঘাম, টাইট পোশাকের ঘষা এবং শেভ করার কারণে এর ঝুঁকি আরও বাড়ে।
লক্ষণ
ছোট ছোট লাল বা সাদা পুঁজে ভরা ফুসকুড়ি।
চুলকানি বা হালকা ব্যথা।
৫. ইমপেটিগো (Impetigo)
এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। বাচ্চাদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও, বড়দেরও হতে পারে। সাধারণত ছোট ছোট লাল ঘা দিয়ে এর শুরু হয়। আর্দ্র আবহাওয়ায় পোকামাকড়ের কামড় বা ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া থেকে এই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
লক্ষণ
নাক, মুখ বা হাত-পায়ের চারপাশে লাল ঘা হওয়া।
ঘা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া।
৬. ছুলি (Tinea versicolor বা Pityriasis versicolor)
আমাদের ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের ইস্ট থাকে। তার পরিমাণ বেড়ে গেলে এই ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়, যা ছুলি নামে পরিচিত। এটি বিপজ্জনক না হলেও, এর ফলে ত্বকের আসল রঙের চেয়ে হালকা বা গাঢ় ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়।
লক্ষণ
সাদা, গোলাপি, বাদামি বা তামাটে রঙের ছোপ।
হালকা চুলকানি।
বর্ষায় কয়েকটি জরুরি টিপস
ভেজা জামাকাপড় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাল্টে ফেলুন।
পা ধোয়ার পর, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকগুলো ভালো করে মুছে শুকনো করে নিন।
টাইট সিন্থেটিক পোশাকের বদলে হাওয়া চলাচল করতে পারে এমন সুতির পোশাক পরুন।
তোয়ালে, জুতো বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র অন্যদের সাথে শেয়ার করবেন না।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News