
স্কোয়ালেন (Squalane) হলো একটি অত্যন্ত অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন যা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রেখে তারুণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি মূলত স্কোয়ালিন (Squalene) থেকে তৈরি একটি স্থিতিশীল রূপ, যা ত্বক দ্রুত শোষণ করে নেয় এবং কোনো রকম তৈলাক্ত ভাব ছাড়াই গভীর পুষ্টি জোগায়। এটি বলিরেখা কমায়, ত্বকের বাধা (barrier) মজবুত করে এবং যেকোনো ধরনের ত্বকে (এমনকি ব্রণপ্রবণ) ব্যবহার করা যায়।
স্কোয়ালেন কী এবং এর উপকারিতা:
* প্রাকৃতিক উৎস: যদিও স্কোয়ালিন আমাদের ত্বকে থাকে, বয়সের সাথে সাথে তা কমে যায়। স্কোয়ালেন সাধারণত অলিভ, রাইস ব্র্যান বা সুগারকেন থেকে তৈরি হয়, যা উদ্ভিজ্জ ও পরিবেশবান্ধব ।
* আর্দ্রতা ধরে রাখা (Moisturizing): এটি ত্বকের ভেতরে জলীয় অংশ ধরে রাখে, ফলে ত্বক কোমল ও মসৃণ থাকে।
* বলিরেখা ও বয়সের ছাপ প্রতিরোধ: এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা অকাল বার্ধক্য ধীর করে এবং ত্বককে টানটান রাখে।
* ত্বকের সুরক্ষা: এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তৈলাক্ত ভাব বা সিবাম (sebum) নকল করে, তাই এটি কোনো ছিদ্র (pores) বন্ধ করে না।
কী ভাবে ব্যবহার করতে হয়?
স্কোয়ালেন ব্যবহারের নিয়ম বেশ সহজ এবং এটি যেকোনো স্কিনকেয়ার রুটিনে অনায়াসে যোগ করা যায়:
১. সরাসরি ব্যবহার: ক্লিনজিং এবং টোনিংয়ের পর, ২-৩ ফোঁটা স্কোয়ালেন তেল পুরো মুখ ও গলায় আলতোভাবে ম্যাসাজ করে নিন ।
২.ময়েশ্চারাইজারের সাথে: আপনার নিত্যদিনের ময়শ্চারাইজার বা সিরামের সাথে ১-২ ফোঁটা মিশিয়ে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত হাইড্রেশন পাওয়া যায়।
৩. ফাউন্ডেশনের সাথে: মেকআপের আগে প্রাইমার হিসেবে বা ফাউন্ডেশনের সাথে মিশিয়ে নিলে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।
৪. কখন ব্যবহার করবেন: এটি সকাল বা রাত—উভয় সময়েই ব্যবহার করা যায়। দিনের বেলায় ব্যবহার করলে এর উপরে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
কাদের জন্য ভালো?
স্কোয়ালেন সবার জন্য নিরাপদ। এটি সংবেদনশীল, শুকনো, এমনকি তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকেও ব্যবহার করা যায় কারণ এটি অ-কমেডোজেনিক (ছিদ্র বন্ধ করে না)।
সতর্কতা: নতুন কোনো স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট (patch test) করে নেওয়া ভালো!