
গরমের শুরুতেই 40 ডিগ্রি ওয়েদার। বাইরে বেরোলেই মনে হয় গায়ে আগুন লাগছে। এই গরমে শরীর থেকে জল আর নুন বেরিয়ে গিয়ে লু, মাথা ঘোরা, অ্যাসিডিটি, বমি ভাব লেগেই থাকে। বাজারচলতি কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেট জুস খেলে গলা ভেজে ঠিকই, কিন্তু চিনি আর প্রিজারভেটিভ উল্টে শরীর আরও গরম করে দেয়।
অথচ আমাদের হাতের কাছেই আছে ঠাকুমা-দিদিমার আমলের সব ম্যাজিক পানীয়। একদম ন্যাচারাল, কেমিক্যাল ফ্রি। শরীর ঠান্ডা রাখার সাথে সাথে পেটের গোলমাল, ক্লান্তিও সারাবে। দেখে নিন ৭টা মাস্ট ট্রাই ড্রিংক।
১. আম পোড়া শরবত: লু-এর যম গরমে লু আটকাতে এর জুড়ি নেই। কাঁচা আম পুড়িয়ে তার সাথে ভাজা জিরে, বিট নুন, পুদিনা, গুড় মিশিয়ে বানানো হয়। ভিটামিন-C, আয়রন আর ইলেক্ট্রোলাইটে ভরপুর। শরীরের জলের ঘাটতি মেটায়, হিট স্ট্রোকের চান্স কমায়। দুপুরে বাইরে থেকে এসে এক গ্লাস খেলে মাথা ধরা, বমি ভাব নিমেষে গায়েব।
২. বেলের শরবত: অ্যাসিডিটির মহৌষধ গরম পড়লেই পেট গরম, বুক জ্বালা, অ্যাসিডিটি। বেলের শরবত হল তার ব্রহ্মাস্ত্র। পাকা বেলের শাঁস বের করে জল, অল্প গুড় বা তালমিছরি দিয়ে ঘেঁটে নিন। বেল পেট ঠান্ডা করে, হজম করায়, কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। এতে থাকা ট্যানিন আলসারও প্রতিরোধ করে। সকালে খালি পেটে খেলে সারাদিন পেট ঠান্ডা থাকবে।
৩. সত্তুর শরবত: গরিবের প্রোটিন শেক বিহার-ইউপির এই ড্রিংক এখন গোটা ভারতের সুপারফুড। ভাজা ছোলা গুঁড়ো করে সত্তু হয়। জলে গুলে বিট নুন, লেবু, কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা দিয়ে শরবত বানান। চাইলে মিষ্টিও খাওয়া যায়। সত্তু শরীর ঠান্ডা রাখে, পেট ভরায়, সাথে সাথে এনার্জি দেয়। প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম আছে বলে গরমে ক্লান্তি কাটাতে বেস্ট। ১ গ্লাস খেলে 3 ঘণ্টা খিদে পাবে না।
৪. জলজিরা: হজমের টনিক বাইরের ভাজাভুজি খেয়ে পেট গরম? বানিয়ে ফেলুন জলজিরা। ভাজা জিরে, ধনে, শুকনো আদা, গোলমরিচ, বিট নুন, আমচুর, পুদিনা একসাথে গুঁড়ো করে রাখুন। ঠান্ডা জলে গুলে লেবু চিপে খান। এটা পেটের গ্যাস, বদহজম, বমি ভাব কমায়। জিরে শরীর ঠান্ডা রাখে আর বিট নুন ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স করে।
৫. ডাবের জল: ন্যাচারাল স্যালাইন ডাবকে বলা হয় ‘ন্যাচারাল ORS’। গরমে ঘাম হয়ে শরীর থেকে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম বেরিয়ে যায়। ডাবের জলে সেগুলো সব আছে। সাথে আছে সাইটোকিনিন যা বয়সের ছাপ কমায়। লু লাগলে, ডায়রিয়া হলে, দুর্বল লাগলে 1টা ডাব খান। চিনি দেওয়া নেই, তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন।
৬. তোকমার শরবত: 10 মিনিটে বডি কুল তোকমা বা বেসিল সিড জলে ভেজালেই ফুলে জেলির মতো হয়। এই জেলি শরীরের তাপ শুষে নেয়। লেবুর শরবত বা রুহআফজার সাথে 1 চামচ ভেজানো তোকমা মিশিয়ে খান। অ্যাসিডিটি, কোষ্ঠকাঠিন্য, গরমে হওয়া ব্রণ – সব কমাবে। ওজন কমাতেও হেল্প করে কারণ পেট ভরা রাখে।
৭. পান্তা ভাতের জল: টক দই দিয়ে টনিক বাংলার সুপার কুল্যান্ট। আগের রাতের ভাতে জল ঢেলে রাখুন। সকালে সেই জলটা নুন, কাঁচা লঙ্কা, পেঁয়াজ দিয়ে খান। চাইলে টক দই মেশান। পান্তায় প্রচুর গুড ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় যা পেট ঠান্ডা রাখে, ইমিউনিটি বাড়ায়। ভিটামিন-B12 আর আয়রন আছে বলে গরমের ক্লান্তি কাটে। গরমে কাজের লোকের এটাই ছিল এনার্জি ড্রিংক।
গরমে পানীয় খাওয়ার ৩টে গোল্ডেন রুল: রুল ১: বরফ কোল্ড নয়। ফ্রিজের ঠান্ডা জল খেলে গলা ধরে, হজম খারাপ হয়। মাটির কুঁজোর জল বা ঘরের তাপমাত্রার জল বেস্ট। রুল ২: চিনি কম। চিনি শরীর গরম করে। গুড়, তালমিছরি, মধু বা খেজুর ব্যবহার করুন। ডায়াবেটিস থাকলে চিনি ছাড়া খান। রুল ৩: টাইম মেনে খান। রোদ থেকে এসেই ঠান্ডা কিছু খাবেন না। 10 মিনিট জিরিয়ে নিন। খালি পেটে বেল বা সত্তু, দুপুরে আম পোড়া, বিকেলে ডাব – এভাবে রুটিন করুন।
শেষ কথা: গরমকে হারাতে দামি এনার্জি ড্রিংক লাগে না। আমাদের রান্নাঘরেই আছে সব সমাধান। এই ৭ পানীয় রোজ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান। লু, অ্যাসিডিটি, ক্লান্তি পালাবে। শরীর থাকবে ঠান্ডা, মন থাকবে চাঙ্গা। আর হ্যাঁ, জল খেতে ভুলবেন না – দিনে 3-4 লিটার মাস্ট।
বিঃদ্রঃ ডায়াবেটিস, কিডনি বা অন্য কোনো ক্রনিক রোগ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এই পানীয়গুলো খাবেন। গুড় বা মিছরির পরিমাণ কন্ট্রোলে রাখুন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News