প্রকৃতির গাছপালা আর ফুল আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের আশেপাশেই এমন কিছু গাছ রয়েছে, যেগুলো দেখতে সুন্দর হলেও মারাত্মক বিষাক্ত। এই গাছগুলোর বিষ কয়েক মুহূর্তের মধ্যে মানুষ বা প্রাণীর মৃত্যু ঘটাতে পারে।
প্রকৃতি মানেই শুধু সুন্দর ফুল আর সবুজ গাছপালা নয়। এখানে এমন কিছু গাছও রয়েছে, যেগুলো মারাত্মক বিষাক্ত। শত্রু এবং প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচতে এই গাছগুলো নিজেদের শরীর থেকে তীব্র বিষ তৈরি করে। মানুষের ইতিহাসে চিকিৎসাবিদ্যা, পুরাণ, অপরাধ এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এই গাছগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে। চলুন জেনে নিই বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত ১০টি গাছের কথা।
26
মাঙ্কসহুড গাছ
প্রাচীনকালে শিকারিরা মাঙ্কসহুড গাছের বিষ তীরের ফলায় মাখিয়ে ব্যবহার করত। অন্যদিকে, সারবেরা ওডোল্লাম গাছটি 'সুইসাইড ট্রি' বা আত্মহত্যার গাছ নামে পরিচিত। দক্ষিণ এশিয়ায় বিষক্রিয়ার অনেক ঘটনার সঙ্গে এই গাছের সরাসরি যোগ রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মারাত্মক বিপদ থাকা সত্ত্বেও প্রাচীনকালে অনেক বিষাক্ত গাছই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতো।
36
করবী গাছ
ওলিয়ান্ডার বা করবী গাছের প্রতিটি অংশেই মানুষের প্রাণ কাড়ার মতো বিষ লুকিয়ে থাকে। তবে এর তেতো স্বাদের কারণে অনেকেই এই বিষের হাত থেকে বেঁচে যান। অন্যদিকে, ডাটুরা বা ধুতুরা গাছ আরও বেশি বিপজ্জনক। এই গাছের বিষ মানুষের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এর ফলে মানুষ হ্যালুসিনেট করে, পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
মাঞ্চিনিল গাছ এতটাই বিষাক্ত যে, এর রস বা এই গাছের পাতা ছুঁয়ে আসা বৃষ্টির জল গায়ে লাগলেও মানুষের চামড়া মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। এছাড়া রোজারি পি বা কুঁচ বীজের মধ্যে অ্যাব্রিন নামের একটি রাসায়নিক থাকে। বিজ্ঞানীরা জানান, প্রকৃতিতে পাওয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাকৃতিক বিষগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
56
হেমলক ওয়াটার-ড্রপওয়ার্ট
হেমলক ওয়াটার-ড্রপওয়ার্ট নামের গাছটি খেলে শরীরে মারাত্মক স্নায়বিক খিঁচুনি শুরু হয়। মৃত্যুর আগে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখে এক বিকৃত হাসি ফুটে ওঠে, যাকে 'সারডোনিক গ্রিন' বলা হয়। অন্যদিকে, লিলি-অফ-দ্য-ভ্যালি গাছটি দেখতে সুন্দর এবং এর গন্ধও খুব মিষ্টি। কিন্তু এর ভেতরে এমন মারাত্মক বিষ লুকিয়ে থাকে, যা সরাসরি হার্টের কাজ বন্ধ করে দেয়।
66
ডেডলি নাইটশেড গাছ
ডেডলি নাইটশেড গাছ দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। কিন্তু এর কয়েকটা ফল খেলেই মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে। আর আমাদের অতি পরিচিত তামাক গাছে নিকোটিন নামের বিষাক্ত উপাদান থাকে। বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো এই তামাকের বিষ। গবেষকরা বলছেন, প্রকৃতির এই সুন্দর অথচ রাক্ষুসে গাছগুলো থেকে সবারই সাবধানে থাকা উচিত।