
আমরা মুখ ধুই, হাত ধুই, কিন্তু দিনের শেষে পা ধোয়ার কথা ভুলেই যাই। অথচ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা আছে, "পাদপ্রক্ষালন" মানে পা ধোয়া হল স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম সহজ নিয়ম। সারাদিন জুতো-মোজায় বন্দি থাকা পায়ে ধুলো, ঘাম, ব্যাকটেরিয়া জমে। রাতে না ধুয়ে ঘুমালে সেই ময়লা সারা রাত আপনার স্কিনে লেগে থাকে। মাত্র ১ মিনিট সময় নিয়ে পা ধুলে আপনার শরীরে যে ৫ টি পরিবর্তন আসবে, তা শুনলে আজ থেকেই অভ্যাস বানাবেন।
প্রথম পরিবর্তন হল গভীর ঘুম। সারাদিন হাঁটার পর পায়ের নার্ভ, মাসল, রক্তনালী সব ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঠান্ডা বা ঈষদুষ্ণ জলে পা ধুলে পায়ের রক্তনালী রিল্যাক্স হয়। শরীরের তাপমাত্রা একটু কমে যায়। আর আমাদের মস্তিষ্ক এই তাপমাত্রা কমাকেই "ঘুমের সিগন্যাল" হিসেবে ধরে নেয়। তাই পা ধুয়ে শুলে বিছানায় এপাশ-ওপাশ কম করবেন, ঘুম আসবে তাড়াতাড়ি। অনিদ্রার সমস্যা থাকলে এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
দ্বিতীয় পরিবর্তন হল স্ট্রেস আর ক্লান্তি দূর হওয়া। পায়ের তলায় শরীরের সব অঙ্গের রিফ্লেক্স পয়েন্ট থাকে। একে বলে রিফ্লেক্সোলজি। পা ধোয়ার সময় যখন আপনি পায়ের পাতা, গোড়ালি আঙুলের ফাঁক হাত দিয়ে ঘষেন, তখন ওই প্রেশার পয়েন্টগুলো স্টিমুলেট হয়। মস্তিষ্কে "রিল্যাক্স" হরমোন রিলিজ হয়। সারাদিনের টেনশন, মাথা ধরা নিমেষে হালকা লাগবে। অফিসের ক্লান্তি কাটানোর সস্তার থেরাপি এটা।
তৃতীয় পরিবর্তন রক্ত সঞ্চালন বাড়া। বসে কাজ করা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে দিনের শেষে পায়ে রক্ত জমে যায়, পা ফুলে যায়। ঈষদুষ্ণ জলে ১ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখলে রক্ত চলাচল দ্রুত হয়। পা ফোলা কমে, পায়ে ঝিঁঝি ধরার সমস্যা কমে। যাদের ভেরিকোজ ভেইনসের সমস্যা, তাদের জন্য এটা দারুণ উপকারী।
চতুর্থ পরিবর্তন হল স্কিন আর নখের যত্ন। সারাদিনের ঘাম আর ময়লা পায়ের নখের কোণে জমে ফাঙ্গাস, দুর্গন্ধ, অ্যাথলিটস ফুট হয়। রাতে পা ধুয়ে ভালো করে, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক মুছে শুকিয়ে নিলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারবে না। গোড়ালি ফাটার সমস্যাও কমবে। সপ্তাহে ২ দিন জলে একটু নুন মিশিয়ে পা ধুলে ডেড সেলও উঠে যাবে, পা নরম থাকবে।
পঞ্চম এবং সবচেয়ে "অলৌকিক" পরিবর্তন হল মানসিক শান্তি। আয়ুর্বেদ বলে, পা ধোয়া শুধু শরীর নয়, মনও পরিষ্কার করে। সারাদিন আপনি যেসব জায়গায় হেঁটেছেন, যে নেগেটিভ এনার্জি গায়ে লেগেছে, গরম জলে পা ধুলে তার অনেকটাই ধুয়ে যায়। এটা একটা ছোট রিচুয়াল। পা ধুয়ে শোয়ার মাদুরে বসলে মন নিজেই বুঝে যায় দিন শেষ, এবার বিশ্রাম। ফলে ঘুমের কোয়ালিটি অনেক ভালো হয়।
একটা গামলায় ঈষদুষ্ণ জল নিন। সহ্য করতে পারলে এক চিমটি নুন বা কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার তেল মেশান। ১ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর হাত দিয়ে আলতো করে ঘষে ময়লা তুলুন। সবশেষে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভালো করে মুছে নিন। ভেজা পা নিয়ে কখনোই কম্বলের তলায় ঢুকবেন না।
মনে রাখবেন, এটা কোনো টোটকা নয়, এটা হাজার বছরের স্বাস্থ্য অভ্যাস। বড় বড় ওষুধ বা গ্যাজেটের দরকার নেই। শুধু ১ মিনিট আর এক গামলা জল। আজ রাত থেকেই শুরু করুন। ৭ দিন পর নিজেই বুঝবেন ঘুম কেমন গভীর হচ্ছে, সকালটা কেমন ফ্রেশ লাগছে।
শরীরকে ভালোবাসতে গেলে পা থেকেই শুরু করতে হয়। কারণ পা-ই আপনাকে সারাদিন বয়ে নিয়ে যায়।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News