
প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মানি প্ল্যান্ট আছে, কিন্তু জানেন কি এর নাম মানি প্ল্যান্ট কেন? এর পিছনে রয়েছে ফেং শুই বিশ্বাস, জাপানি লোককথা ও বাস্তুশাস্ত্রের এক মজার ইতিহাস। সত্যিই কি এই গাছ টাকা আনে? জানুন বিস্তারিত।
বাড়ির ব্যালকনিতে, বোতলে বা ঝুলন্ত টবে - মানি প্ল্যান্ট প্রায় সব বাড়িতেই দেখা যায়। খুব কম যত্নে বেঁচে থাকে বলে এটি সবার প্রিয়। কিন্তু কখনো ভেবেছেন, এর নাম মানি প্ল্যান্ট কেন? এই গাছ কি সত্যিই টাকা আনে? এর পিছনে কোনো বৈজ্ঞানিক জাদু নেই, আছে তিনটি জনপ্রিয় কাহিনি ও বিশ্বাস।
১. ফেং শুই বিশ্বাস: মানি প্ল্যান্টের পাতাগুলি গোল, চকচকে এবং অনেকটা কয়েনের মতো দেখতে। প্রাচীন চীনা ফেং শুই শাস্ত্রে মনে করা হতো, যে গাছের পাতা কয়েনের মতো, সেই গাছ বাড়িতে সম্পদ ও সৌভাগ্য নিয়ে আসে। এই বিশ্বাস থেকেই এর নাম হয় মানি প্ল্যান্ট। এর বৈজ্ঞানিক নাম Epipremnum aureum।
২. জাপানি লোককথা: সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটি জাপানের। কথিত আছে, এক দরিদ্র চাষি জঙ্গলে একটি অদ্ভুত সুন্দর গাছ দেখতে পান। তিনি সেটি বাড়িতে এনে চাষ করেন এবং তার চারা বিক্রি করতে শুরু করেন। সেই চারা বিক্রি করেই তিনি ধীরে ধীরে ধনী হয়ে ওঠেন। তখন থেকেই মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে এই গাছ আর্থিক সমৃদ্ধি আনে।
৩. সহজে বংশবৃদ্ধি: মানি প্ল্যান্টের একটি ডাল কেটে জলে রাখলেই নতুন গাছ জন্মায়। অর্থাৎ, এটি খুব দ্রুত বাড়ে। আগেকার দিনে বন্ধু বা আত্মীয়কে সমৃদ্ধি কামনা করে এই গাছ উপহার দেওয়া হতো। ধারণা ছিল - টাকা যেমন বাড়ে, এই গাছও তেমন বাড়ে।
বাস্তুশাস্ত্র কী বলে? বাস্তু মতে, মানি প্ল্যান্ট বাড়ির উত্তর বা দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রাখা শুভ। গাছ কখনো শুকিয়ে যেতে দিতে নেই, শুকিয়ে গেলে আর্থিক ক্ষতির প্রতীক বলে মনে করা হয়।
বিজ্ঞান কী বলছে? NASA-র একটি গবেষণা অনুযায়ী, মানি প্ল্যান্ট ঘরের বাতাস থেকে টক্সিন শোষণ করে বাতাসকে বিশুদ্ধ করে। এটি সরাসরি টাকা আনে না, তবে ঘরে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে, মানসিক চাপ কমায়। মন ভালো থাকলে কাজ ভালো হয়, আর কাজ ভালো হলে আর্থিক উন্নতি স্বাভাবিকভাবেই আসে।
তাই মানি প্ল্যান্ট টাকার গাছ নয়, এটি সৌভাগ্য ও ইতিবাচকতার প্রতীক।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News