
যখন আপনি ফ্লাইটে বসেন, তখন হয়তো আপনি কখনও ভাবেননি যে প্লেনটি উড়ানোর দায়িত্বে থাকা পাইলট এবং কো-পাইলটকে একই থালায় খাবার পরিবেশন করা হয় না। এটি কি কোনও এয়ারলাইনের নীতি নাকি কেবলমাত্র কাকতালীয় ঘটনা? আসলে, এর পিছনে রয়েছে বিমান চালনার সাথে সম্পর্কিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুচিন্তিত সুরক্ষা নিয়ম। আজ এই নিয়মটি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক কেন পাইলট এবং কো-পাইলট একসাথে খাবার ভাগাভাগি করে না, দুজনের খাবার আলাদা কেন হয় তা বিস্তারিত জানবো। চলুন, জেনে নেই এর পুরো কারণ —
১. ফুড পয়জনিং থেকে রক্ষা – সুরক্ষাই প্রথম!
পাইলট এবং কো-পাইলটকে আলাদা আলাদা খাবার দেওয়া হয় যাতে একজন ব্যক্তি যদি খাবার থেকে ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হন, তবে অন্যজন বিমানটি সামলাতে পারেন।
কল্পনা করুন: যদি দুজনেই একই খাবার খেয়ে দুজনেরই পেট খারাপ হয়, তাহলে সেই প্লেনের কী হবে?
২. আলাদা মেনু বা আলাদা রান্নাঘর থেকে খাবার
অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়ম রয়েছে যে পাইলট এবং কো-পাইলট আলাদা কেটারিং ইউনিট থেকে তৈরি খাবার খাবেন।
এতে ঝুঁকি আরও কমে যায় যে দুজনই একই ব্যাকটেরিয়া বা দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
৩. নিয়ম পালন উড়ান চলাকালীন
এই নিয়ম টেক-অফ থেকে অবতরণ পর্যন্ত প্রযোজ্য।
এমনকি খাওয়ার সময়ও আলাদা হতে পারে যাতে কেউ যদি তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে অন্যজন সতর্ক থাকতে পারেন।
৪. প্রিমিয়াম বা বিশেষ খাবারও একই রকম নয়
যদি পাইলট ‘বিশেষ খাবার’ যেমন নিরামিষ/ আমিষ/ গ্লুটেন-মুক্ত খাবার চান, তবে কো-পাইলটকে সাধারণ খাবার বা অন্য কোনও বিকল্প থেকে খাবার দেওয়া হয়।
৫. বহু বছরের পুরনো ঐতিহ্য এই নিয়ম
এই অভ্যাস ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা শুরু হয়েছে, যখন কিছু ক্ষেত্রে ক্রু সদস্যদের খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
৬. শুধু পাইলটই নন, অনেক সময় কেবিন ক্রুও আলাদা আলাদা খায়
কিছু এয়ারলাইন্সে দায়িত্বশীল কেবিন ক্রুদের জন্যও এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়, বিশেষ করে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলিতে।
৭. মানসিক প্রভাব থেকেও রক্ষা
ধরুন, কোনও পাইলট কোনও বিশেষ খাবারের স্বাদ নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে ফেলেন — তাহলে এই ছোট্ট ভুলটিও বড় উড়ান দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News