
করোনার ফলে বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন। আর এই লকডাউনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবেশে। দেশের সমস্ত শহরতলিতে লকডাউনের ফলে কমেছে দূষণের মাত্রাও। তবে পৃথিবীতে দূষণ কম হলেও আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে সূর্যে। সম্প্রতি জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, দিনে দিনে সূর্যের তেজ ও উজ্জ্বলতা কমতে শুরু করেছে। এর ফলে সূর্যের ক্রিয়াকলাপও দিনে দিনে কমতে শুরু করেছে। ফলে বিজ্ঞানীদের মত, পৃথিবীর পাশাপাশি সূর্যেও নাকি 'লকডাউন' চলছে।
আরও পড়ুন- করোনার মেয়াদ ফুরোলেই আসবে নয়া মহামারী, জেনে নিন ভাইরাস ছড়াবে কোথা থেকে
তবে সূর্যের এই পরিস্থিতির ফলে পৃথিবীতে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ ফিলিপস জানিয়েছেন, এই বিষয়টিকে বলা হয় 'সোলার মিনিমাম'। আর এই ঘটনার প্রভাবে পৃথিবীতে বৃদ্ধি পেতে পারে খরা, শীত, তীব্র ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুত্পাত। ফলে সূর্যের এই রোগের ফলে ভয়ঙ্কর সমস্যা সম্মুখীণ হতে পারে পৃথিবী। এই বিষয়ে নাসা-র বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৭৯০ থেকে ১৮৩০ সালে এই ‘সোলার মিনিমাম’-এর প্রভাবে পৃথিবীতে বার বার প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে দেখা গিয়েছিল। যদি সূর্যের এই সমস্যা দ্রুত না মেটে তবে আবারও সেই ভয়ঙ্কর দিনগুলো পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে।
আরও পড়ুন- কয়েক মিনিটে এসি ছাড়াই ঠাণ্ডা করে নিন ঘর, রইল সহজ কিছু উপায়
এই ‘সোলার মিনিমাম’-এর বিষয়ে সৌর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট টাম্বোরাতে ভয়ঙ্কর অগ্ন্যুৎপাত হয়। যার ফলে প্রায় ৭১ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। সেই বছরেই গরমের মরশুমে পৃথিবীর বহু দেশে বরফ পড়েছিল। ঋতুর থেকে গ্রীষ্মকাল বাদ পড়েছিল। এই ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা‘ডালটন মিনিমাম’বলে আখ্যা করেছেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ টনি ফিলিপস জানিয়েছেন, আবারও সূর্যের ‘সোলার মিনিমাম’পর্ব শুরু হয়েছে। আর এর কারণেই সৌর কলঙ্কের চিহ্ন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। যার জেরে সূর্যের চুম্বকীয় ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এই কারণে মহাজাগতিক রশ্মি সৌরজগতে অতিরিক্ত মাত্রায় প্রবেশ করছে। ফলে পৃথিবীর ভয়ঙ্কর দিকে এগোচ্ছে। এই ঘটনায় কপালে চিন্তার ভাঁজ বিজ্ঞানীদের।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News