মেদিনীপুরে ৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করার 'হঠকারী সিদ্ধান্ত', অপসারিত সংসদের চেয়ারম্যান নারায়ণ সাঁতরা

Published : Feb 13, 2020, 08:26 PM ISTUpdated : Feb 14, 2020, 11:20 AM IST
মেদিনীপুরে ৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করার 'হঠকারী  সিদ্ধান্ত', অপসারিত সংসদের চেয়ারম্যান নারায়ণ সাঁতরা

সংক্ষিপ্ত

সরানো হল জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে নারায়ণ সাঁতরাকে গুণতে হল হঠকারী সিদ্ধান্তের মাশুল  উপর মহলের অনুমতি না নিয়েই শহরের আটটি স্কুল তুলে দেন তিনি শিক্ষক শিক্ষিকাদের অন্যত্র বদলি করে দেওয়ার জেরেই এই অপসারণ

রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হল জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান নারায়ণ সাঁতরাকে। উপর মহলের অনুমতি না নিয়েই শহরের আটটি স্কুল তুলে দিয়ে সেইসব শিক্ষক শিক্ষিকাদের অন্যত্র বদলি করে দেওয়ার জেরেই এই অপসারণ বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা দফতরের যুগ্মসচিব এক নির্দেশনামা জারি করে নারায়ণবাবুকে সরিয়ে দিয়েছেন। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শককেই দায়িত্ব সামলানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

যাত্রা শুরু ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো-র, উদ্বোধন করলেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল

দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে জেলা পরিদর্শককে। শুধু তাই নয়, এদিনই জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সচিব তথা জেলা পরিদর্শক তরুণ সরকার এক নির্দেশনামা জারি করে পূর্বতন ওই বদলির নির্দেশও বাতিল করে দিয়েছেন। তরুণবাবু জানিয়েছেন, ওইসব শিক্ষক শিক্ষিকারা নিজেদের পুরোনো স্কুলেই ফিরে যাবেন। সেখানেই ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের দায়িত্ব নেবেন।

অপসারণ নিয়ে বিন্দু বিসর্গও জানতেন না নারায়ণবাবু। এদিন তিনি দফতরেরই কাজে কলকাতা গিয়েছেন। যাত্রাপথেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের খবর, সাম্প্রতিক বদলির নির্দেশনামা জারি করার পাশাপাশি দলেরই শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে লাগাতার সংঘাতের কারণেই সরে যেতে হল তাঁকে। শুধু নিজের দলের শিক্ষক সংগঠনই নয়, বদলি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনও। 

সমাবর্তনে আমন্ত্রণ নয় কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে শোকজ ধনখড়ের

উল্লেখ করা যেতে পারে, দীর্ঘদিন ধরেই দলের শিক্ষক সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কোনওরকম বনিবনা ছিল না তার। সম্প্রতি শহরের বুকে আটটি স্কুলকে তুলে দিয়ে সেখানকার শিক্ষক শিক্ষিকাদের দূরে বদলিকে কেন্দ্র করেই সেই সংঘাত চরমে উঠে। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি অর্ঘ্য চক্রবর্তীর অভিযোগ, ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোনও অনুমতি না নিয়েই নিজের খেয়াল খুশিমতো মেদিনীপুর সদর আর্বান এক চক্রের ৫ টি এবং আর আর চক্রের ৩ স্কুলকে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেইসব স্কুলের মোট ১৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে দেওয়া হয়েছে। 

এমনকী সরকারি নির্দেশনামা অগ্রাহ্য করেই শিক্ষিকাদেরও সার্কেলের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যানসার আক্রান্ত এক শিক্ষিকার অনুরোধও মানা হয়নি। শুধু তাই নয়, একপ্রকার হুইপ জারি করে তাদের জানিয়েও দেওয়া হয় যে ১২ তারিখের মধ্যে নতুন স্কুলে যোগদান না করলে বেতন বন্ধ করে দেওয়া হবে। অর্ঘ্যবাবু বলেছেন, চক্রান্ত করে ওই স্কুলগুলিকে তুলে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি স্কুলে তো আবার কুড়ির উপরেও ছাত্রছাত্রী ছিল। সেখানকার শিক্ষকদের চাপ দিয়ে সব ছাত্রছাত্রীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেটও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে অর্ঘ্যবাবুরা এনিয়ে নারায়নবাবুর সঙ্গে বৈঠকও করেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্দেশনামা ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধও করেন। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন সংসদ চেয়ারম্যান। 

উনি কবে কাকে সম্মান দিয়েছেন', আমন্ত্রণ বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা দিলীপের

সংগঠনের নেতাদের যুক্তি ছিল ভাড়াবাড়িতে থাকা স্কুল তুললেও শিক্ষকদের যেন তার নিজের সার্কেলেই রাখা হয়। কিন্তু শিক্ষক ছাত্রের আনুপাতিক হার দেখিয়ে তা দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।  এসব নিয়েই সংঘাত চরমে পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে খোদ শিক্ষামন্ত্রীর কানেও তোলেন সংগঠনের নেতারা। যদিও এনিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু বিশি বলেছেন, -এটি শিক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাকে রাখা হবে আর কাকে সরানো হবে তা ঠিক করে শিক্ষা দফতরই। এতে সংগঠনের কোনও ভূমিকা নেই। তবে যিনিই পদে বসুন না কেন, তিনি যেন শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে কাজ করেন।                  

অপরদিকে অপসারণ নিয়ে নারায়ণ সাঁতরা বলেছেন,পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সততার সঙ্গে ওই পদে থেকে সকলের জন্যই কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও ইমেলের মাধ্যমে জেনেছেন তিনি।এর বেশি কিছু জানা নেই৷  উল্লেখ্য, নারায়ণবাবু নিজে একজন স্কুল শিক্ষক। মেদিনীপুর সদর ব্লকের নয়াগ্রাম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তিনি। তাঁকে এবার নিজের স্কুলেই ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁকে।  

এদিন নারায়ন সাঁতরাকে সরিয়ে ডিআই তরুন কুমার সরকারকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের দায়ীত্ব নিতে নির্দেশ দেওয়া পরই  নারায়ন সাঁতরার করা পুরনো বিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশ বাতিল করেন তরুন বাবু ৷ তিনি জানান-স্কুল বন্ধ ও বদলী বাতিল করা হল ৷  আপাতত পুরনো স্কুল গুলিকে খুলে সেখানেই ফিরে গিয়ে পড়ানোর কাজ করবেন পুরনো শিক্ষকরা ৷

PREV
West Bengal news today (পশ্চিমবঙ্গের লাইভ খবর) - Read Latest west bengal News (বাংলায় পশ্চিমবঙ্গের খবর) headlines, LIVE Updates at Asianet News Bangla.
click me!

Recommended Stories

SIR Final List 2026: হুগলি জেলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কত নাম বাদ পড়ল?
মুর্শিদাবাদে পর্যটকদের লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প, উদ্বোধনে ফিরহাদ হাকিম