
আজ শ্রাবণ মাসের শেষ ও নাগপঞ্চমী। "মনসা মাস" মানেই ভক্তি আর ভয় মিশ্রিত একটা আবহ। সাপের দেবী মা মনসাকে তুষ্ট করতে পারলে সাপের ভয় দূর হয়, আর সংসারে আসে সুখ-সমৃদ্ধি।
আজ সকাল থেকেই তাই প্রতিটি বাড়িতে উপোস, আলপনা, ধূপ-বাতি আর উলুধ্বনির আওয়াজ। মা মনসা অল্পেই তুষ্ট হন, কিন্তু নিষ্ঠা আর ভক্তি চান। তাই আজকের দিনে ভুল ভোগ নিবেদন করলে চলবে না।
১. *দুধ-কলা*: এটা ছাড়া আজকের পুজো ভাবাই যায় না। মাটির নতুন সরায় কাঁচা দুধ আর পাকা কলা দিতেই হবে। অনেকে সাপের গর্তের সামনেও দেন।
২. *আতপ চালের গরম ভাত ও পাঁচ ভাজা*: আলু, বেগুন, পটল, উচ্ছে আর কুমড়ো ভাজা। ৫ রকম ভাজা না হলে ভোগ সম্পূর্ণ হয় না।
৩. *পুঁইশাক ও লাল শাক ভাজা*: মা মনসার খুব প্রিয়। সামান্য নুন-হলুদ দিয়ে ভেজে নিবেদন করুন।
৪. *নারকেল নাড়ু, তিলের নাড়ু ও বাতাসা*: দেবী মিষ্টি খুব ভালোবাসেন। চিনির বাতাসা আর ঘরের তৈরি নাড়ু রাখুন।
৫. *দই-চিড়ে*: অনেকে ভোগের শেষে দই-চিড়ে দিয়ে থাকেন। এটা দিলে দেবী খুব খুশি হন।
*খুব জরুরি*: আজকের ভোগে ভুলেও পেঁয়াজ, রসুন, আমিষ ছোঁয়াবেন না। পুরো নিরামিষ ভাবে রান্না করে, স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্রে নিবেদন করুন।
১. *সারাদিন উপোস*: সকালে স্নান করে উপোস থেকে সন্ধ্যায় পুজো সেরে, তারপর প্রসাদ খান।
২. *মনসার ঘট স্থাপন*: মাটির ঘটে জল দিয়ে, আম পাতা আর সিঁদুর দিয়ে ঘট বসান। ঘটের গায়ে সাপ আঁকুন।
৩. *মনসামঙ্গল পাঠ*: আজ পুজোর সময় মনসামঙ্গল কাব্য পাঠ করুন। এতে দেবী দ্রুত তুষ্ট হন।
আজকের দিনটা শুধু পুজোর নয়, ভয় দূর করে ভক্তির দিন। দামি আয়োজন নয়, মন থেকে "জয় মা মনসা" বললেই মা সাড়া দেন। আজ তাই ঘর-দোর পরিষ্কার করে, মন শুদ্ধ রেখে মায়ের পায়ে অঞ্জলি দিন। দেবীর কৃপায় আপনার বাড়ি থেকে যেন সব অমঙ্গল দূর হয়।