
ধনসম্পদ, সমৃদ্ধি ও দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য মহালক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়ে থাকে। কোজাগরী পূর্ণিমা থেকে দীপাবলি, সারা বছরই ঘরে ঘরে তুঙ্গে চলে প্রস্তুতি। প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতেই ধনদেবীর আরাধনা করা হয়, যাতে সংসারে অভাব না থাকে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, দেবী লক্ষ্মী চঞ্চলা। তিনি এক জায়গায় বেশিক্ষণ থাকেন না। যেখানে পবিত্রতা, শান্তি, শৃঙ্খলা ও ভক্তি থাকে, সেখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বাস করেন। আর যেখানে অপরিচ্ছন্নতা, কলহ ও অলসতা, সেখান থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন।
তবে মায়ের আরাধনা করার সময় বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নইলে হতে পারে সমস্যা। কারণ, দেবীর কৃপাদৃষ্টি লাভ না করলে সাংসারিক জীবন নষ্ট হয়ে যায়। অর্থকষ্ট, পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকে। সন্তুষ্ট হওয়ার পরিবর্তে দেবী অসন্তুষ্ট হন। তাই পুজোর আগে জেনে নেওয়া জরুরি কোন ভুলগুলো একেবারেই করা উচিত নয়।
১. নোংরা বা অপরিষ্কার ঘরে পুজো করবেন না: এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। দেবী লক্ষ্মী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ভীষণ পছন্দ করেন। শাস্ত্রে বলা হয়, যেখানে ধুলো-ময়লা, এঁটো বাসন পড়ে থাকে, সেখানে দেবী কখনও পা রাখেন না। পুজোর আগের দিন ঘর, বিশেষ করে ঠাকুরঘর, রান্নাঘর ও মূল দরজার সামনেটা ভালো করে পরিষ্কার করুন। গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করুন।
২. লোহার বাসন ব্যবহার নিষিদ্ধ: লক্ষ্মী পুজোয় ভুলেও লোহার বাসন বা স্টিলের বাসন ব্যবহার করবেন না। লোহা শনি দেবের প্রতীক, যা দারিদ্র্য ও বাধার কারক। পুজোর ভোগ, প্রদীপ, ঘট সবকিছুর জন্য পিতল, কাঁসা, তামা বা মাটির বাসন ব্যবহার করুন। এতে দেবী অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।
৩. ভুল রঙের পোশাক পরবেন না: পুজোর সময় কালো, সাদা বা নীল রঙের পোশাক পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। কালো রঙ অশুভ শক্তি ও নেতিবাচকতার প্রতীক। পুজোয় চেষ্টা করুন লাল, হলুদ, গোলাপি বা কমলা রঙের পোশাক পরতে। লাল রঙ মা লক্ষ্মীর সবচেয়ে প্রিয়।
৪. তুলসী পাতা নিবেদন করবেন না: অনেকেই ভুল করে লক্ষ্মীকে তুলসী পাতা দেন, যা মারাত্মক ভুল। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, তুলসীকে বর দেওয়া হয়েছিল যে লক্ষ্মী তাঁকে গ্রহণ করবেন না। তাই লক্ষ্মী পুজোয় তুলসী নিষিদ্ধ। দেবীকে পদ্মফুল, গোলাপ, জুঁই বা গাঁদা ফুল নিবেদন করুন। পদ্মফুলে দেবী সবচেয়ে বেশি তুষ্ট হন।
৫. পুজোর দিন ঝগড়া-অশান্তি করবেন না: যে বাড়িতে কলহ, চিৎকার, গালিগালাজ হয়, সেখানে লক্ষ্মী থাকেন না। পুজোর দিন বাড়ির পরিবেশ শান্ত ও পবিত্র রাখুন। কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, কটু কথা বলা বা কাউকে অপমান করা থেকে বিরত থাকুন। বাড়িতে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণে ইতিবাচক শক্তি বাড়ে।
৬. প্রদীপ নিজে থেকে নিভতে দেবেন না: পুজো চলাকালীন প্রদীপ বা ধূপকাঠি নিজে থেকে নিভে যাওয়া অত্যন্ত অশুভ সংকেত বলে মনে করা হয়। তাই পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রদীপ যেন জ্বলে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘি-এর প্রদীপ ব্যবহার করুন। পুজো শেষে কখনও ফুঁ দিয়ে প্রদীপ নেভাবেন না। হাত দিয়ে বাতাস করে বা ফুল দিয়ে নেভান।
পুজোর সময় দেবীর সামনে একটানা ঘি-এর প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখুন। পদ্মবীজের মালায় ‘ওঁ শ্রীং মহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ’ মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন। পুজো শেষে বাড়ির প্রতিটি কোণে প্রদীপের আলো দেখান। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠা ও এই নিয়মগুলো মেনে আরাধনা করলে দেবী সন্তুষ্ট হন এবং সংসারে ধন-সমৃদ্ধি অটুট থাকে।