
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি হল মহাশিবরাত্রি। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ভগবান শিবের আরাধনা করলে জীবনের নানা বাধা দূর হয়, আর্থিক সঙ্কট কাটে এবং দাম্পত্য ও কর্মজীবনে স্থিতি আসে। শাস্ত্র মতে, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় এই বিশেষ রাত্রি, যাকে ‘মহাদেবের জাগরণের রাত’ বলা হয়। ধর্মীয় মতে, এই তিথিতে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে পুজো করলে বহু জন্মের পাপ ক্ষয় হয় এবং সৌভাগ্যের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
তাহলে শিবরাত্রির দিনে কী করলে মহাদেবের আশীর্বাদ পাওয়া যায়? ভোরে স্নান ও শুদ্ধ আচরণ শিবরাত্রির দিন ভোরে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরা অত্যন্ত শুভ। এরপর শিবলিঙ্গে জল, দুধ, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করলে জীবনের অশুভ শক্তি দূর হয় বলে বিশ্বাস। ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করলে মন শান্ত হয় এবং ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটে। বেলপাতা ও ধুতুরা নিবেদন শিব-এর প্রিয় বেলপাতা। তিনটি পাতা একত্রে রেখে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নিবেদন করলে মনোবাসনা পূরণ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। ধুতুরা, আকন্দ ফুল ও ভাঙ অর্পণ করাও প্রচলিত রীতি। উপবাস ও রাত্রিজাগরণ শিবরাত্রিতে অনেক ভক্ত উপবাস পালন করেন। কেউ নির্জলা, কেউ ফলাহার করেন। ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, উপবাস মানসিক সংযম শেখায় এবং আত্মশুদ্ধি ঘটায়। রাত্রে জেগে শিবের নামস্মরণ বা কীর্তন করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয়।
মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ শাস্ত্র মতে, শিবরাত্রির রাতে ১০৮ বার মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করলে রোগ-শোক দূর হয় এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি কর্মজীবনে উন্নতির সম্ভাবনাও তৈরি হয়। দান-পুণ্যের গুরুত্ব এই দিনে অভাবী মানুষদের অন্ন, বস্ত্র বা অর্থ দান করলে শুভ ফল মেলে। বিশেষ করে কালো তিল, সাদা চাল বা বস্ত্র দান অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে, দান-পুণ্য জীবনের নেতিবাচক শক্তি কমাতে সাহায্য করে। অবিবাহিতদের জন্য বিশেষ উপায় যাঁদের বিবাহে বাধা আসছে, তাঁরা শিব-পার্বতীর যুগল মূর্তির পূজা করলে শুভ ফল পান বলে বিশ্বাস। শিব ও পার্বতীর দাম্পত্য জীবন আদর্শ হিসেবে ধরা হয়, তাই এই দিনে তাঁদের আরাধনা বিশেষ ফলদায়ক।
কী করা থেকে বিরত থাকবেন? অশান্তি, রাগ বা বিবাদ এড়িয়ে চলুন আমিষ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করবেন না মিথ্যা বলা বা কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিবরাত্রি পালন করলে জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।