শাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিন সঠিক নিয়ম মেনে ব্রত পালন করলে জীবনে শান্তি ও মঙ্গল লাভ হয় বলে বিশ্বাস। তবে পুজোর সময় কিছু নিয়ম মানা জরুরি….
আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র (শিবরাত্রি) Maha Shivaratri। ভগবান শিবের আরাধনায় ভোর থেকেই বিভিন্ন শিবমন্দিরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। কাশী থেকে কলকাতা, মন্দির চত্বরগুলোতে শিবনাম সংকীর্তন, ধূপ-ধুনো আর বেলপাতার সুগন্ধে ভক্তিময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুরাণ মতে, এই তিথিতেই মহাদেব ও পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, এদিনই শিব তাণ্ডব নৃত্য করেন। তাই মহাশিবরাত্রিকে ঘিরে আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শাস্ত্র অনুসারে উপবাস, রাত্রিজাগরণ ও ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ জপের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। কীভাবে পালন করা হয় ব্রত? ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরে শিবলিঙ্গে জল, দুধ, দই, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করা হয়। বেলপাতা, ধুতুরা ও আখ নিবেদন করা শুভ বলে মানা হয়। অনেকে নির্জলা উপবাস পালন করেন, আবার কেউ ফলাহার গ্রহণ করেন। রাতভর ভজন-কীর্তন ও ধ্যানের আয়োজনও থাকে বিভিন্ন মন্দিরে। কী এড়িয়ে চলবেন? ধর্মীয় আচার মেনে চলার পাশাপাশি এদিন তামসিক খাবার—মাংস, মদ, পেঁয়াজ-রসুন—পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। শিবপূজায় তুলসী পাতা অর্পণ না করারও নির্দেশ রয়েছে। বেলপাতা সঠিকভাবে অর্পণ করা এবং পুজোর সময় শুচিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে পুরোহিতদের মত। প্রশাসনের প্রস্তুতি বড় শহরগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভিড় সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অনেক জায়গায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে ভক্তদের অসুবিধা না হয়। সব মিলিয়ে, মহাশিবরাত্রি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আত্মসংযম ও আধ্যাত্মিক চর্চার দিন। ভক্তদের বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে ব্রত পালন করলে জীবনে শান্তি ও মঙ্গল লাভ হয়।


