
Arsenal vs Man City: আর্সেনালের সেরা খেলাটা কবে দেখা যাবে? কমিউনিটি শিল্ডের জন্য মিলেনিয়াম স্টেডিয়াম তৈরি হওয়ার ঠিক দু-দিন আগে এই প্রশ্নটাই করা হয়েছিল মাইকেল আর্টেটাকে (arsenal vs city)। জবাবে তিনি বলেন, “সেরা খেলাটা রবিবারই দেখতে হবে। মরশুমের প্রথম ট্রফি জিতে শুরু করার জন্য এটাই আমাদের লক্ষ্য।" কার্ডিফের মাঠে এনজো মারেস্কার কোচিংয়ে নতুন যুগের শুরুটা ট্রফি দিয়ে করতে চেয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি (where to watch arsenal f.c. vs man city)। তবে সেটা হল না। আসলে খেলা শুরুর বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সব পরিকল্পনা কার্যত, ওলটপালট হয়ে গেল। কিক-অফের পরেই গ্যাব্রিয়েলের থেকে বল গেল ওডেগার্ডের কাছে। বাঁ-দিক থেকে বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন কালাফিওরি। ক্রিস্টোস সোলিসের পাস ধরে বক্সের মধ্যে থাকা নোনি মাদুয়েকের মাথায় বল বাড়ান। মাদুয়েকে বক্সের বাইরে থাকা বেন হোয়াইটের দিকে বল ঠেলে দেন। বেনের থেকে বল যায় লুইস স্কেলির পায়ে।
এই ম্যাচে রবিবার, সিটির ডিফেন্সকে একাই কাটিয়ে পেনাল্টি বক্সে পাস বাড়ান স্কেলি। সঙ্গে সঙ্গেই দৌড় শুরু করেন কালাফিওরি। দোনারুমার পাশ দিয়ে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে বলকে জালে জড়াতে তাঁর সময় লাগে মাত্র ২৩ সেকেন্ড। আর্সেনালের সেরা সংস্করণ যেন মাঠে নেমেছে! আলোচনা শুরু ইতিমধ্যেই। কিক-অফের পরেই ডিফেন্ডারদের লং বল বাড়িয়ে খেলা শুরু করার চেনা ছকটা আর্সেনাল বদলে ফেলল পুরো। কার্ডিফে এটাই ছিল সিটির জন্য প্রথম ধাক্কা। গিমারেস, ওডেগার্ড এবং স্কেলিকে মাঝমাঠে রেখে এবং কাই হ্যাভার্টজকে সেন্টার ফরোয়ার্ড করে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন আর্টেটা। অন্যদিকে, হালান্ডকে স্ট্রাইকারে রেখে এবং ডিফেন্সে বাড়তি জোর দিয়ে ৪-২-৩-১ ছকে মাঠে নেমেছিল সিটি।
তবে দুই দলের মধ্যে আসল পার্থক্যটা গড়ে দিল মাঝমাঠ। আর্সেনালের খেলার ধরনের সঙ্গে গিমারেস যে কত দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন, তার প্রমাণ মাঠেই পাওয়া যাচ্ছিল। ওডেগার্ড এবং স্কেলির সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া, বিল্ড-আপে দারুণ সব পাস - গত কয়েক মরশুমে আর্সেনালের মাঝমাঠকে মাঠের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় সীমাবদ্ধ মনে হতো। কিন্তু গিমারেসের আগমনে দলে অনেক বেশি ভারসাম্য এবং স্থিতিশীলতা এসেছে। মাঝমাঠের এই দ্রুত মুভমেন্ট থেকেই তো প্রথম গোলটা হয়েছিল। খেলার, ২৩ মিনিটে হ্যাভার্টজের গোলে সিটিকে দ্বিতীয় ঝটকাটা দেন ওডেগার্ড। ডানদিক দিয়ে বক্সের মধ্যে একটা ক্রস বাড়ান তিনি। পোস্টের ডান দিকে থাকা সোলিস সেই বলটা একদম হ্যাভার্টজের মাথায় তুলে দেন। যদিও এটা একেবারে সেরা হেডার ছিল না। কিন্তু বল যে গোললাইন পার করবে, তা নিশ্চিত করেন হ্যাভার্টজ।
গোল দিয়ে শুধু ডিফেন্স করার বদলে আর্সেনাল চেয়েছিল সিটির উপর গোটা ম্যাচে দাপট দেখাতে। ৪৮ মিনিটের মাথায়, ওডেগার্ড ঠিক সেটাই করে দেখালেন। এক ঘণ্টা হওয়ার আগেই এনজো মারেস্কার সব স্বপ্ন চুরমার করে দেয় আর্টেটার ছেলেরা। নতুন মরশুমে কী হতে চলেছে, ফুটবল বিশ্ব যেন তার একটা ইঙ্গিত পেয়ে গেল। আর্সেনাল এবার আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। ম্যাচের ৪৬ মিনিটে, গিমারেসের বদলে মাঠে নামেন ডেকলান রাইস। এরপর একে একে পিয়েরো হিনক্যাপি, বুকায়ো সাকা, ভিক্টর ইয়োকেরেশ, সুবিমেন্দি এবং শেষে এজে-কেও নামানো হয়। ওডেগার্ড যখন পুরোদস্তুর অ্যাটাকিং মেজাজে, তখন আর্সেনাল যে লিগ জেতার স্বপ্ন দেখতেই পারে। গুয়ার্দিওলার পরের যুগটা সিটির জন্য খুব একটা সুখের হবে না। বিশেষ করে মাঝমাঠে রড্রির অনুপস্থিতিতে। রড্রি বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ায় তাঁর জায়গায় নতুন খেলোয়াড় খুঁজতেই হবে সিটিকে।
সিটি এখন আয়ুব বুয়াদি এবং চেলসি থেকে এনজো ফার্নান্ডেজকে এতিহাদে আনার চেষ্টা করছে। রড্রির পারফেক্ট বদলি হিসেবে বুয়াদিকে দেখা যেতে পারে। কিন্তু রড্রির মতো প্রভাব ফেলতে এই তরুণ খেলোয়াড়ের কিছুটা সময় লাগতে পারে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।