
Asian Games 2026 Medal Tally: লক্ষ্যভেদ লক্ষ্য সেনের (Lakshya Sen)। জাপানকে (Japan) ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে চলতি এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ব্যাডমিন্টনের দলগত ইভেন্টের সেমি-ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। এর ফলে নিশ্চিত হয়ে গেল ভারতের পদক। ২০২২ সালের এশিয়ান গেমসে পুরুষদের দলগত ইভেন্টে রুপো জেতার পর এবারও ভারতের পদক নিশ্চিত হয়ে গেল। এই বিভাগে টানা দ্বিতীয়বার পদক পাচ্ছে ভারত। মঙ্গলবার কোয়ার্টার-ফাইনালে জাপানের বিরুদ্ধে ভারতের পুরুষ শাটলার দলের অন্যতম নায়ক লক্ষ্য। তিনি অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে জয় পেলেন। প্রথম ম্যাচে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বরে থাকা কোদাই নারাওকার বিরুদ্ধে শুরুতেই বড় ধাক্কা খান লক্ষ্য। প্রথম গেমে ১১-২১ ব্যবধানে হেরে যান এই তারকা শাটলার। কিন্তু এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে পরের দুই গেম ২১-৫, ২১-১৯ ব্যবধানে জিতে নেন তিনি।
জাপানের অন্যতম সেরা তারকা নারাওকার বিরুদ্ধে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিটের লড়াইয়ে লক্ষ্যর এই জয় ভারতীয় শিবিরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এরপর ডাবলসে লড়াই করেন সাত্ত্বিকসাইরাজ রণকিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টি (Satwiksairaj Rankireddy and Chirag Shetty)। এরপর দ্বিতীয় সিঙ্গলসে লড়াইয়ে নামেন আয়ুষ শেট্টি (Ayush Shetty)। দুই ম্যাচেই জয় পেয়ে ব্যবধান ৩-০ করে দেয় ভারত।
ইচিনোমিয়া সিটি মিউনিসিপ্যাল জিমন্যাশিয়ামের (Ichinomiya City Municipal Gymnasium) পরিবেশ ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। কারণ, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ভেন্যুতে জাপানের মহিলা দল ভারতকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে দেয়। পিভি সিন্ধুর (PV Sindhu) নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলকে হারিয়ে জাপান মহিলাদের দলগত বিভাগের সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যায়। সেই ম্যাচে প্রথম সিঙ্গলসে আকানে ইয়ামাগুচির কাছে সিন্ধুর হার ভারতের বিপক্ষে জাপানের জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই নারাওকার বিরুদ্ধে খেলতে নামার সময় লক্ষ্য জানতেন, ভারত কোনওভাবেই ম্যাচটিকে শেষ অর্থাৎ তৃতীয় টাই পর্যন্ত গড়াতে দিতে পারে না। কিন্তু কোর্টের দূরের দিক থেকে শুরু করায় শুরুটা ভালো হয়নি ভারতীয় তারকার। দ্রুত ৬-১১ পিছিয়ে পড়েন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম গেম ১১-২১ ব্যবধানে হারেন। মঙ্গলবারের ম্যাচগুলিতে কোর্টের দূর প্রান্তের ‘ড্রিফট’ ছিল অন্যতম বড় সমস্যা। শাটলের গতিপথের পাশাপাশি পাশের দিকে শাটলের সরে যাওয়াও সমস্যায় ফেলছিল শাটলারদের। প্রথম গেম হারার পর ভারতীয় কোচিং স্টাফ লক্ষ্যর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে বোঝানো হয়, ছোট ও ফ্ল্যাট র্যালিতে না গিয়ে অন্য কৌশল অবলম্বন করতে হবে। দ্বিতীয় গেম থেকেই সম্পূর্ণ বদলে যান লক্ষ্য। নারাওকার বিরুদ্ধে দীর্ঘ র্যালিতে ভরসা রাখেন এবং নিজের রক্ষণকে কাজে লাগান। ধৈর্য ধরে খেলার কৌশলের পিছনে আরও একটি কারণ ছিল। দিনের প্রথম দিকে সিন্ধু দ্বিতীয় গেমেই ম্যাচ শেষ করার জন্য অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। লক্ষ্যকে ধৈর্য ধরে খেলার পাশাপাশি নারাওকাকে অপেক্ষাকৃত খারাপ দিকের কোর্টে ভুল করতে বাধ্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা দারুণভাবে কাজে দেয়। দ্বিতীয় গেমে নারাওকাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে ২১-৫ ব্যবধানে জিতে নেন লক্ষ্য। দুই গেম শেষে স্কোর ১-১ হওয়ায় ফের ম্যাচে ফিরে আসে ভারত। নির্ণায়ক গেমে অবশ্য লড়াই আরও জমে ওঠে। বিরতির সময় ৬-১১ পিছিয়ে ছিলেন লক্ষ্য। তবে ভালো দিকের কোর্টে যাওয়ার পর ব্যবধান মুছে ফেলতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। কোর্ট বদলের পর ম্যাচের গতিও বদলাতে শুরু করে। কিন্তু পরপর কয়েকটি ভুলে আবার ১৪-১৯ পিছিয়ে পড়েন লক্ষ্য। সেই সময় নারাওকা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছিলেন। মনে হচ্ছিল, জাপানি তারকাই ম্যাচ জিতে ভারতকে চাপে ফেলবেন। কিন্তু হার মানতে রাজি ছিলেন না লক্ষ্য। একের পর এক শাটল দুর্দান্তভাবে রক্ষা করেন তিনি। পাশাপাশি ফ্ল্যাট হাফ-স্ম্যাশে নারাওকার উপর চাপ বাড়াতে থাকেন। ১৪-১৯ থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক গেম ২১-১৯ জিতে নেন লক্ষ্য। ভারত পেয়ে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ লিড। এরপর প্রথম ডাবলসে নামেন সাত্ত্বিকসাইরাজ ও চিরাগ। চলতি মরসুমে ইতিমধ্যেই দু'টি খেতাব জেতা ভারতীয় জুটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হোকি তাকুরো ও কোবায়াশি ইউগোকে ২১-১৮, ২৪-২২ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের লিড বাড়িয়ে দেন ২-০। এরপর দ্বিতীয় সিঙ্গলসে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৬ নম্বরে থাকা কোকি ওয়াতানাবের বিরুদ্ধে নামেন চলতি বছর ব্যাডমিন্টন এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা আয়ুষ। শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে ২১-১০, ২১-১৯ ব্যবধানে ওয়াতানাবেকে হারিয়ে দেন তিনি। আয়ুষের এই জয়ের সঙ্গেই জাপানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যায় ভারত এবং নিশ্চিত হয় পদক।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।