
Asian Games 2026 Medal Tally: মঙ্গলবার চলতি এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যাডমিন্টনের দলগত ইভেন্টের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকেই বিদায় নিল ভারত। ইচিনোমিয়া সিটি মিউনিসিপ্যাল জিমন্যাশিয়ামে (Ichinomiya City Municipal Gymnasium) গতবারের চ্যাম্পিয়ন জাপানের (Japan) কাছে ১-৩ ব্যবধানে হেরে গেল ভারত। শক্তিশালী জাপানি দলের বিরুদ্ধে লড়াই করেও শেষরক্ষা করতে পারলেন না ভারতীয় শাটলাররা। এই হারের ফলে এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যাডমিন্টনের দলগত বিভাগে ভারতের ট্রফির অপেক্ষা দীর্ঘতর হল। শেষবার ২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়া এশিয়ান গেমসে এই বিভাগে পদক এসেছিল। সেবার জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিল ভারত। তারপর থেকে আর পদক আসছে না।
মঙ্গলবারের কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ জাপানের দলে একাধিক শাটলার ছিলেন বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে। ফলে ভারতীয় দলের প্রায় প্রত্যেক শাটলারকেই খেলতে হয়েছে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন অভিজ্ঞ পিভি সিন্ধু (PV Sindhu)। প্রথম ম্যাচে বিশ্ব ক্রমতালিকায় তিন নম্বরে থাকা আকানে ইয়ামাগুচিকে (Akane Yamaguchi) হারাতে পারলে ভারত লড়াইয়ে ভালোভাবে টিকে থাকতে পারত। প্রথম গেমে ইয়ামাগুচির দুর্দান্ত রক্ষণকে বারবার পরীক্ষার মুখে ফেলে দেন সিন্ধু। একসময় ১৭-১৩ পয়েন্টে এগিয়েও যান জাপানি শাটলার। কিন্তু দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ২৩-২১ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন সিন্ধু। প্রথম গেমটি চলে ২৬ মিনিট। তবে এই দীর্ঘ লড়াই সিন্ধুর উপর শারীরিকভাবে যথেষ্ট চাপ তৈরি করে। ইয়ামাগুচির অসাধারণ রক্ষণ ও কোর্ট কভারেজের কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় গেমেই ম্যাচ শেষ করার মরিয়া চেষ্টা করেন সিন্ধু। দ্বিতীয় গেমে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক কৌশল নেন তিনি। নেটের কাছে ইয়ামাগুচির উপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সুযোগ পেলেই স্ম্যাশ মারতে থাকেন। কিন্তু এই কৌশল শেষ পর্যন্ত তাঁর বিপক্ষেই যায়। একের পর এক অনিচ্ছাকৃত ভুলে পয়েন্ট হারাতে থাকেন সিন্ধু। ২৩ মিনিটের দ্বিতীয় গেমে ১৮-২১ হেরে যান তিনি। নির্ণায়ক গেমে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি সিন্ধু। ইয়ামাগুচি দ্রুত ১৪-৬ এগিয়ে যান। সিন্ধুর শরীরী চেহারায় ক্লান্তি তখন স্পষ্ট। একের পর এক ভুল করতে থাকেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ১১-২১ ব্যবধানে তৃতীয় গেম হেরে ম্যাচ খোয়ান।
সিন্ধুর হারের পর ভারতের কাজ কঠিন হয়ে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বরে থাকা তোমোকা মিয়াজাকির বিরুদ্ধে নামেন তরুণী উন্নতি হুডা (Unnati Hooda)। সরাসরি দুই গেমে হেরে যান তিনি। প্রথম গেমে ১৬-২১ হারের পর দ্বিতীয় গেমে ১১-৪ এগিয়েও সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেননি উন্নতি। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় গেম ১৮-২১ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। প্রথম গেমে উন্নতি নেটের উপরে উঠে আসা শাটল ধরে মিয়াজাকিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। কয়েকবার জাপানি শাটলারকে নেটে ড্রিবল করতেও বাধ্য করেন তিনি। কিন্তু মিয়াজাকি নিজের বৈচিত্র্যময় শট ও ডিকয় ব্যবহার শুরু করতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। উন্নতি কোর্টের বাইরে স্ম্যাশ করে পয়েন্ট নেওয়ার কৌশলও নেন, যা কিছুটা কাজে এলেও মিয়াজাকির ধারেকাছে পৌঁছনোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। দুই ম্যাচের পর ভারত ০-২ পিছিয়ে পড়ায় কোয়ার্টার-ফাইনালের ফল কার্যত নির্ধারিত হয়ে যায়। তবে সেখানেও লড়াই ছাড়েননি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ব্রোঞ্জজয়ী জুটি তৃষা জলি ও গায়ত্রী গোপীচাঁদ (Treesa Jolly and Gayatri Gopichand)। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে থাকা ইউকি ফুকুশিমা ও মায়ু মাতসুমোতো জুটিকে সরাসরি দুই গেমে হারিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ আশা দেখান তাঁরা। তৃষা-গায়ত্রী জুটি ২১-১৭, ২১-১৬ ব্যবধানে জিতে নেয় ম্যাচটি। এক ঘণ্টারও কম সময়ে পাওয়া এই জয় ফের প্রমাণ করল, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্রমশ নিজেদের জায়গা শক্ত করছেন ভারতের এই জুটি। তবে সেই আশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তৃতীয় ও শেষ সিঙ্গলসে তরুণী তানভি শর্মা (Tanvi Sharma) মুখোমুখি হন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নোজোমি ওকুহারার। কিন্তু জাপানি তারকার বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি তানভি। ১২-২১, ১০-২১ ব্যবধানে সরাসরি দুই গেমে হেরে যান তিনি। ফলে ১-৩ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যায় জাপান। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। সেমি-ফাইনালে আন সে-ইয়ংয়ের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে জাপান। কোয়ার্টার-ফাইনালে মালয়েশিয়াকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।