
Asian Games 2026 Wushu: চলতি এশিয়ান গেমসের দল নির্বাচনী ট্রায়ালে দিব্যাংশী চৌধুরীর (Divyanshi Choudhary) কাছে হেরে গিয়েছিলেন। তারপর শেষমুহূর্তে চোটের জন্য দিব্যাংশী বাদ পড়ায় তাঁর পরিবর্তে দলে জায়গা পান নাওরেম রোশিবীনা দেবী (Naorem Roshibina Devi)। তিনি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মহিলাদের ৬০ কেজি উশু সান্দা বিভাগে রুপো জিতলেন। বৃহস্পতিবার ফাইনালে চিনের ঝাং শিয়াওইউয়ের কাছে ০-২ ব্যবধানে হেরে গেলেন রোশিবীনা দেবী। দুই রাউন্ডেই ৫-০ ব্যবধানে জয় পান চিনা উশু খেলোয়াড়। তবে ফাইনালে হেরে গেলেও, টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমসে রুপো পেলেন রোশিবীনা দেবী। তিনি প্রথম ভারতীয় উশু অ্যাথলিট হিসেবে এশিয়ান গেমসের টানা তৃতীয় আসরে পদক জিতলেন। যা যথেষ্ট কৃতিত্বের।
২০১৮ সালে জাকার্তায় প্রথমবার এশিয়ান গেমসে যোগ দেন রোশিবীনা দেবী। তিনি সেবার ব্রোঞ্জ জেতেন। ২০২৩ সালে হাংঝাউ এশিয়ান গেমসে পান রুপো। এবার আইচি-নাগোয়াতেও রুপো জিতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন রোশিবীনা দেবী। ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার কোয়াসিফাই মায়াই লেইকাইয়ে জন্ম এই খেলোয়াড়ের। ভারতের অন্যতম সফল উশু অ্যাথলিট তিনি। উশুর লড়াইভিত্তিক বিভাগ সান্দায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রোশিবীনা দেবী। যেখানে ঘুষি, লাথি ও প্রতিপক্ষকে ছুড়ে ফেলার মতো কৌশল ব্যবহৃত হয়। ছোটবেলায় মণিপুরে একটি জেলা পর্যায়ের উশু প্রতিযোগিতা দেখে এই খেলাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় রোশিবীনা দেবীর। বক্সিংয়েও হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। তবে শেষপর্যন্ত উশুকেই বেছে নেন। স্থানীয় কোচদের অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ইম্ফলের স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার কেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানে কোচ মাইবাম প্রেমকুমার সিংয়ের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ২০১৬ সালে বুলগেরিয়ার বুর্গাসে জুনিয়র বিশ্ব উশু চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৮ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের আগমনের জানান দেন রোশিবীনা দেবী। পরের বছর ৬০ কেজি বিভাগে উঠে দক্ষিণ কোরিয়ার গুমিতে এশিয়ান জুনিয়র উশু চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে অভিষেক হয় তাঁর। কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের মুবাশরা আখতারকে হারালেও সেমিফাইনালে চিনের কাই ইংইংয়ের কাছে হেরে ব্রোঞ্জ জেতেন। এরপর ২০১৯ সালে কাঠমান্ডু দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতেন রোশিবীনা দেবী। ২০২৩ সালে হাংঝাউ এশিয়ান গেমসে আরও এক ধাপ এগিয়ে ৬০ কেজি সান্দার ফাইনালে পৌঁছে যান তিনি। তবে চিনের উ শিয়াওওয়ের কাছে হেরে রুপো জেতেন। ২০২৩ সালটি রোশিবীনা দেবীর কেরিয়ারে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এশিয়ান গেমসের রুপোর পাশাপাশি টেক্সাসে বিশ্ব উশু চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো এবং মস্কো উশু স্টারস চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতেন তিনি। পরে ২০২৩ সালের অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত হন। আন্তর্জাতিক উশু ফেডারেশনও তাঁকে বর্ষসেরা মহিলা সান্দা অ্যাথলিট নির্বাচিত করে। আইচি-নাগোয়ায় অবশ্য দল নির্বাচন নিয়ে শেষমুহূর্তের নাটক পিছনে ফেলে প্রতিযোগিতায় মন দেন রোশিবীনা দেবী। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের শিকা খাতুনকে হারিয়ে অভিযান শুরু করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাকাওয়ের চু মান সিনকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিশ্চিত করেন পদক। সেই সঙ্গে টানা তিনটি এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় উশু অ্যাথলিট হওয়ার নজির গড়েন। সেমি-ফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার থানিয়া কুসুমানিংত্যাসকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পান রোশিবীনা দেবী। তবে সোনার লড়াইয়ে ঝাং শিয়াওইউয়ের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি এই ভারতীয় অ্যাথলিট। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত ছন্দে থাকা চিনা প্রতিযোগী এর আগে ২০২৩ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভিয়েতনামের গুয়েন থি থু থুইকে হারিয়েছিলেন। ফাইনালেও সেই দাপট বজায় রেখে দুই রাউন্ডেই ৫-০ ব্যবধানে জিতে সোনা নিশ্চিত করেন ঝাং।
রোশিবীনা দেবীর এশিয়ান গেমস পদকের তালিকায় এখন ২০১৮ সালে ব্রোঞ্জ, ২০২৩ সালে রুপো এবং ২০২৬ সালে রুপো। এশিয়ান গেমসে সোনার পদকটি এখনও অধরা থাকলেও, টানা তিন আসরে ফাইনালে উঠে নিজের ধারাবাহিকতার অনন্য নজির তৈরি করেছেন ২৫ বছরের এই ভারতীয় উশু তারকা। পরের এশিয়ান গেমসে খেলার সুযোগ পেলে সোনা জেতাই তাঁর লক্ষ্য থাকবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।