Brazil in Kolkata: ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ‘সিটি অফ জয়'। নিঃসন্দেহে এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে কলকাতার ইতিহাসে। ঐতিহাসিক বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সবুজ গালিচায় ফুল ফোটালেন মারকুইনহোসরা। দুরন্ত ফুটবল এবং অবশ্যই ফুটবলপ্রেমী বাঙালির চরম উন্মাদনা। ৯০ মিনিটের লড়াই যেন আক্ষরিক অর্থেই এক মুগ্ধতার নিদর্শনের প্রমাণ দিল। শুধু হল ফুটবলের জয়গান। সবাই মিলে একসঙ্গে বসে লাতিন ফুটবল এনজয় করলেন। ইয়েস! দুর্গাপুজোর আগেই সেরা উপহার বাঙালিদের জন্য। আগামী ১০ অক্টোবর, মহালয়া। বাঙালির অন্যতম সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। তার আগেই শুরু হয়ে গেল সেলিব্রেশন। ‘সিটি অফ জয়'-তে খেলল ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দল।
শনিবার দুপুর থেকেই যুবভারতীর আশেপাশে ভিড় জমতে শুরু করে। উৎসাহী ফুটবলপ্রেমী জনতার মনে যেন তখন শুধুই ব্রাজিল। কেউ কেউ ব্লু-টাইগার্সদের জার্সি গায়ে আবার কেউ কেউ সেলেকাওদের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে এলেন। ফুটপাথের দুদিকে দোকানিরা জার্সি, স্কার্ফ এবং রং-তুলি নিয়ে ব্যস্ত। এতো গেল মাঠের বাইরের ছবি। বিকেল ৫.১৫ মিনিটে যুবভারতীতে প্রবেশ করল ভারতীয় দলের কনভয়। তার কিছুক্ষণ বাদেই পুলিশের পাইলট কার ব্রাজিল ফুটবল দলকে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করল। অন্যদিকে, গ্যালারিতে ততক্ষণে সমর্থকরা ঢুকতে শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি ছিল পর্যাপ্ত পানীয় জলের বন্দোবস্ত।
আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই ছিলেন মারকুইনহোস, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল এবং দানিলোরা। আবার এটাও ঠিক যে, শুরুটা খারাপ করেনি ভারত। সাহাল আবদুল সামাদ, রায়ান উইলিয়ামস এবং আশিক কুরনিয়ানরা আক্রমণ তুলে আনছিলেন। রক্ষণভাগে আনোয়ার আলি এবং অভিষেক সিং টেকচাম সতর্ক ছিলেন। খেলার ৬ মিনিটে, আপুইয়ার শট একটুর জন্য বাইরে চলে যায়। তারপরের মুহূর্তেই ব্রাজিলের অ্যাটাক। তবে এক্ষেত্রেও বাইরে চলে যায় ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট। একটি ভালো সেভও করেন ব্লু-টাইগার্সদের গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে, মনবীর বিপজ্জনকভাবে ঢুকে পড়েন ব্রাজিল বক্সে। তবে সেলেকাওদের ডিফেন্ডাররা সতর্ক ছিলেন। ডগলাস এবং অলিভেইরা ভালো খেলেন। ২৮ মিনিটে, এল ম্যাচের প্রথম গোল। এস্তেভাওর গোলে খেলায় লিড নেয় ব্রাজিল। এরপর খেলার ৩৬ মিনিটে, পেদ্রোর হেডার পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। কিন্তু ৪২ মিনিটে, পেদ্রোর গোল এবং ব্রাজিল এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ফলাফল নিয়েই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুই দলেই পরিবর্তন আসে। সাহাল আবদুল সামাদের জায়গায় নামেন মহম্মদ সানান এবং ভিনির পরিবর্তে স্যামুয়েল দিয়াজ লিনো। অপরদিকে, ৫৩ মিনিটে, রায়ান উইলিয়ামসের শট আটকান ব্রাজিল গোলকিপার। এরপর ৫৫ মিনিটে, মনবীর প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন। কিন্তু এক্ষেত্রেও রুখে দেন ব্রাজিল গোলকিপার সিলভা। কিন্তু ৫৮ মিনিটে, ফের গোল। কার্যত, মাঠে নেমেই সুপার সাব হয়ে গেলেন লিনো। গোল করলেন তিনি এবং ব্রাজিল খেলায় লিড নিল ৩-০ ব্যবধানে।
যদিও এরপর রায়ান উইলিয়ামস দুটি সুযোগ নষ্ট করেন। আবার এটাও ঠিক যে, ব্রাজিল সবসময় প্রেসিং ফুটবল খেলেনি। কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবলে বাজিমাৎ করে গেছে তারা। তবে একটা কথা বলতেই হবে যে, ভারত লড়াই করেছে। ম্যাচের শেষ গোলটি এল অতিরিক্ত সময়ে। জোরালো গতির শটে গোল করে যান সেই স্যামুয়েল দিয়াজ লিনো। এই ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এই তারকা ফুটবলারটি। শেষপর্যন্ত, ৪-০ গোলে জয় পেল ব্রাজিল। নিঃসন্দেহে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইল কলকাতা। ব্রাজিল খেলে গেল কলকাতায়। বিশ্ব ফুটবলের তারকারা সেরা ফুটবল উপহার দিলেন এই শহরের মাটিতে। আর সেই মুহূর্তগুলো যুবভারতীতে বসে মোট ৫১,৪০২ জন দর্শক উপভোগ করলেন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।