Brazil vs Japan Round of 32: বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে হিউস্টন স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে, রাউন্ড অফ ৩২-র হাইভোল্টেজ লড়াইতে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল বনাম জাপান (Brazil vs Japan Round of 32)। সেই ম্যাচেই ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নিল ব্রাজিল। কার্যত, জাপানের মরণপণ লড়াইয়ের সামনে পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত জয় সেলেকাওদের।
শুরুতেই জাপান আক্রমণ তৈরি চেষ্টায় শামিল। তবে পাল্টা ২ মিনিটের মাথায়, ব্রাজিল মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেসের শট প্রতিহত। খেলার ১২ মিনিটে, নাকামুরার ক্রস টপ বক্সে পৌঁছে গেলেও তা ব্রাজিল ডিফেন্সে আটকে যায় (Hajime Moriyasu tactics vs Carlo Ancelotti)। খেলার ১৪ মিনিটে, গুইমারেসের বাঁ পায়ের শট সেভ করেন জাপান গোলকিপার সুজুকি। অন্যদিকে, ম্যাচের ১৬ মিনিটে, ফাউল করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের ক্যাসিমিরো।
এরপর ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া দাইচি কামাদার শট ব্রাজিলের মানবপ্রাচীরে প্রতিহত হয়। এরপর ২৮ মিনিটের মাথায়, জুনিয়া ইতোর ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে হেড করেন জাপান স্ট্রাইকার আয়াশে উয়েদা। কিন্তু বল মাঠের বাইরে চলে যায়। তবে ২৯ মিনিটে, ডেডলক ভাঙে জাপান। দ্রুতগতির আক্রমণ তুলে আনেন কাইশু সানো এবং ডান পায়ের জোরালো শটে বলকে সোজা জালে জড়িয়ে দেন।
জাপান ম্যাচে লিড নেয় ১-০ ব্যবধানে। এরপরেই পাল্যা অ্যাটাক তুলে আনার চেষ্টা করে ব্রাজিল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং লুকাস পাকুয়েতারা লাগাতার আক্রমণ শানাতে থাকেন। কিন্তু সর্বদা সজাগ ছিল জাপানের ডিফেন্স লাইন। তাকেহিরো তোমিয়াসু এবং শোগো তানিগুচিরা সেলেকাওদের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকেন।
যদিও তারই মাঝে ম্যাথেউজ কুনহা একটি গোলমুখী শট নেন। কিন্তু সেটি তালুবন্দি করেন জাপানের গোলকিপার জিয়ন সুজুকি। তবে ফাউল করার অপরাধে ম্যাচের ৪৫ মিনিটে, হলুদ কার্ড দেখেন দাইচি কামাদা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্রাজিলের প্রথম একাদশে একটি পরিবর্তন আসে। লুকাস পাকুয়েতার আয়গায় মাঠে নামেন এন্ড্রিক।
খেলার ৫২ মিনিটে, দুরন্ত সেভ করেন জাপানের অতন্দ্র প্রহরী সুজুকি। দানিলোর ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে হেড করেন ব্রুনো গুইমারেস। এরপরেও প্রায় গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ব্রাজিল। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে, ক্যাসিমিরোর হেড প্রতিহত হয় জাপান ডিফেন্সে। পাল্টা দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক তুলে আনে জাপানও। কিন্তু ৫৬ মিনিটে, খেলায় সমতা ফেরাতে সক্ষম হয় ব্রাজিল। কাসেমিরোর হেডার থেকে গোল পায় সেলেকাওরা।
তবে এই ম্যাচে জাপান গোলকিপার জিয়ন সুজুকির প্রশংসা করতেই হবে। অনবদ্য সব সেভ করেন তিনি। খেলার ৬৪ মিনিটে, আয়াশে উয়েদার শট সেভ করেন ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন বেকার। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে, জাপান দলে দুটি পরিবর্তন আসে। রিৎসু দোয়ানের জায়গায় ইউকিনারি সুগাওয়ারা এবং কেইটো নাকামুরার জায়গায় মাঠে নামেন জুননোসুকে সুজুকি।
কিন্তু প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে অনেক সপ্রতিভ লাগে ব্রাজিলকে। একাধিক আক্রমণ তুলে আনতে থাকে তারা। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে, আরও দুটি বদল করে জাপান। দাইচি কামাদার পরিবর্তে মাঠে মামেন আও তানাকা এবং জুনিয়া ইতোর জায়গায় আসেন শুটো মাচিনো। অন্যদিকে, এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন ৬৮,৭৭৭ জন দর্শক। হিউস্টন স্টেডিয়াম ছিল পুরো কানায় কানায় পূর্ণ।
খেলার শেষদিকে কার্যত, আক্রমণের ঝড় তোলে ব্রাজিল। অপরদিকে, চোটের কারণে ব্রাজিল কোচ ক্যাসেমিরোকে তুলে নিতে বাধ্য হন। তাঁর পরিবর্তে আসেন ফ্যাবিনহো। যখন সবাই ধরে নিয়েছে যে, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। ঠিক তখনই নাটকীয় মোড়। ব্রুনো গুইমারেসের অ্যাসিস্ট থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির ডান পায়ের শট সোজা জালে জড়িয়ে যায় এবং গোল। গোটা গ্যালারি জুড়ে তখন ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।
তবে নিঃসন্দেহে জাপানের লড়াইকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছে হাজিমে মরিয়াসুর ছাত্ররা। কিন্তু ব্রাজিলের গতি এবং হেডস্যার কার্লো আনসেলোত্তির ফুটবল মস্তিস্কের কাছে হার মানতে বাধ্য হল জাপান। মরণপণ লড়াই জাপানের! কিন্তু শেষপর্যন্ত, পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে দুরন্ত জয় ব্রাজিলের। এই ম্যাচের দুটো কী-পয়েন্ট বলতে গেলে, ব্রাজিলের ব্রুনো গুইমারেসের অসাধারণ ফুটবল এবং উল্টোদিকে জাপানের নাকামুরার উঠে যাওয়া। সবমিলিয়ে, সেলেকাওরা পৌঁছে গেল বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনে।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।