Calcutta Football League: কলকাতা ময়দান মানেই যেন নষ্টালজিয়া। আসলে ময়দানের প্রতিটি ঘাসেই যেন মিশে আছে আবেগ, কষ্ট, আনন্দ! সবটাই। বাঙালির ফুটবলপ্রেম চিরকালীন। আসলে এটাই হচ্ছে ময়দানের প্রতি ভালোবাসা। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান, সে আপনি যেই দলেরই সমর্থক হোন না কেন, প্রিয় দলের খেলা দেখতে মাঠে যেতেই হবে। ভরা গ্যালারিতে স্লোগান চলবে, ড্রাম বাজবে, হাততালি পড়বে এবং হবে কিছু দুর্দান্ত গোল।
আর এই সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে আরেকটা জিনিস। সেটা হচ্ছে গরম ঘুগনি-প্যাটিস কিংবা ঝালমুড়ি। খুব চেনা ছবি এটা। এমনিতে ক্লাব ক্যান্টিনের ডিমের ডেভিল বা চিকেন স্টু তো আছেই। এছাড়া ফিশ ফ্রাই এবং কফিও চলতে পারে। তবে গ্যালারিতে বিক্রেতারা যে লাল চা, পেয়ারা মাখা, ঘুগনি, প্যাটিস, ঘটি গরম এবং ঝালমুড়ি বিক্রি করেন, সেই স্বাদ কিন্তু আলাদাই। এটা আপনি বিশ্বের অন্য কোথাও পাবেন কিনা সন্দেহ। অমলিন বিষয়।
কারণ, এটাই কলকাতা ময়দানের এসেন্স, ফ্লেভার এবং অবশ্যই প্রিমিয়াম ইমোশন। মোহনবাগান ম্যাচে এইরকম কিছু মুহূর্ত ধরা পড়ল এশিয়ানেট নিউজ বাংলার চোখে। যেমন ম্যাচের মাঝে একজন বিক্রেতা পেয়ারা মাখা বিক্রি করছিলেন। চার-পাঁচজন ঘিরে ধরে তাঁর থেকে কিনছিলেন। সেই বিক্রেতার কথায়, “ময়দানে খেলা হলে ভালো লাগে। আমাদেরও বিক্রি হয়। আমরাও অপেক্ষা করে থাকি সারাবছর।"
বিরতিতে এক সবুজ মেরুন সমর্থক আবার জানালেন, “আমি বহু বছর ধরে মাঠে আসি এবং এনার থেকেই ঘুগনি খাই।" ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে সেই ঘুগনি বিক্রেতা। তিনি জানালেন, “মোহনবাগানের ম্যাচে ভালো সেল হয়। মোটামুটি যা বানিয়ে আনি, সবটাই প্রায় শেষ হয়ে যায়।" ঠিক তাঁর উল্টোদিকেই দেদার বিকিকিনি চলছে গরম প্যাটিসের। হাসিমুখে বিক্রেতা শ্যামলবাবু। তাঁর কাছে ছিল ভেজ এবং চিকেন প্যাটিস দুটোই। সাংবাদিক হিসেবে সবরকম টেস্ট করা উচিত। তাই খেলাম। মুচমুচে প্যাটিস খেতে খেতে শ্যামলবাবুর কথা শুনলাম। তিনি গঙ্গা পেরিয়ে আসেন। ব্যবসা খারাপ হয় না খেলার দিনগুলোতে। বললেন, “আমাদেরও তো পেট চালাতে হবে। বড় দোকান নেই আমাদের। তাই রোজকার এই লড়াই।"
সত্যিই ময়দানের ফুটবল যেন শুধু ফুটবল নয়। কত লড়াই, কত ঘাম, কত মানুষের উপার্জন, কত আবেগ কত আনন্দ-যন্ত্রণা! কলকাতা ময়দানে যুগ যুগ জিও।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।