IND vs ZIM T20 2026: বিধ্বংসী জয় ভারতের। চলতি টি-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপে, সুপার এইটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বৃহস্পতিবার, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৭২ রানে জয় ছিনিয়ে নিল টিম ইন্ডিয়া (ind vs zim t20 2026)। সেমিফাইনালে যেতে গেলে এই ম্যাচ জিততেই হত ভারতকে। সঙ্গে রাখতে হত শক্তিশালী নেট রান রেট। আর এই ম্যাচ শেষে, সবদিক দিয়েই বাজিমাৎ করলেন সূর্যরা (ind vs zim t20)।
চলতি মেগা টুর্নামেন্টের হাই-প্রোফাইল ম্যাচও বলা যেতে পারে এটিকে। সুপার এইটের লড়াইতে বৃহস্পতিবার, চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ভারত বনাম জিম্বাবোয়ে। তবে এই ম্যাচ শুরুর আগেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেয়ে যায় ভারত। কারণ, ভারত-জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আবার ৯ উইকেট হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। যার ফলে, সেমিফাইনালে চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
কিন্তু সেইসঙ্গে, সুবিধা হয় ভারতেরও। অর্থাৎ, জিম্বাবোয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ জিতেল ভারতও সেমিফাইনালে চলে যেতে পারবে, সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই খেলতে নামেন গৌতম গম্ভীরের ছেলেরা।
আর এখন তো জিম্বাবোয়ে ম্যাচ জিতেই গেছেন সূর্যরা। ফলে, সামনে শুধু দরকার ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয়। এমনিতেও ভারত যে রানের পাহাড় গড়ে, সেই টার্গেটের পিছনে ছোটা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। ঐ চাপেই খেই হারিয়ে যাবে যে কোনও দলের। যেটা জিম্বাবোয়ের ক্ষেত্রেও হল। বিরাট রানের চাপ সামলাতে পারলেন না জিম্বাবোয়ের ব্যাটাররা।
এই ম্যাচেই টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবোয়ে। আর শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চালাতে শুরু করেন ভারতীয় ওপেনাররা। যেহেতু এই ম্যাচের প্রথম একাদশে সঞ্জু স্যামসন সুযোগ পেয়েছেন, তাই অভিষেকের সঙ্গে তিনিই ওপেন করতে নামেন। আর ঈশান কিষাণ চলে যান তিন নম্বরে।
ওপেনার তথা উইকেটকিপার-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন খেলেন ১৫ বলে ২৪ রানের ইনিংস। অন্যদিকে, ঈশান কিষাণ করেন ২৪ বলে ৩৮ রান। কিন্তু এই ম্যাচে সবাইকে ছাপিয়ে গেলেন অভিষেক শর্মা। কার্যত, বিধ্বংসী ব্যাটিং। জিম্বাবোয়ের বোলাররা এই তরুণ ব্যাটারের সামনে রীতিমতো খেই হারিয়ে ফেলেন। কোথায় বল করবেন, বুঝতেই পারছিলেন না। রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন তিনি।
অভিষেক সব বলেই চালাতে শুরু করেন। কখনও অফ দিয়ে, কখনও আবার মিড অন, আবার কখনও কভার ড্রাইভ! অভিষেক যেদিন ফর্মে থাকবেন, সেইদিন বিপক্ষ বোলারদের যে বিপদ আছে, তা আবারও প্রমাণিত। ৩০ বলে ৫৫ রানের অসাধারণ ইনিংস উপহার দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ১৮৩.৩৩। অভিষেকের ইনিংসে ছিল ৪টি চার এবং ৪টি ছয়।
অন্যদিকে, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও বেশ দাপুটে ব্যাটিং করেন। তিনি খেলেন ১৩ বলে ৩৩ রানের অনবদ্য ইনিংস। স্ট্রাইক রেট ২৫৩.৮৫। সূর্যর ইনিংসে ছিল ৩টি চার এবং ২টি ছয়। তবে সেখানেই শেষ নয়। শেষদিকে নেমে, স্লগ ওভারে ২২ গজে রীতিমতো ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া এবং তিলক ভার্মা। পান্ডিয়া খেলেন ২৩ বলে ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস। স্ট্রাইক রেট ২১৭.৩৯। হার্দিকের ইনিংসে ছিল ২টি চার এবং ৪টি ছয়। এটিকেও বলা যেতে পারে, হার্দিক-তিলক ঝড়।
অপরদিকে, তিলক উপহার দেন ১৬ বলে ৪৪ রানের দাপুটে ইনিংস। স্ট্রাইক রেট ২৭৫.০০। ভার্মার ইনিংসে ছিল ৩টি চার এবং ৪টি ছয়। অভিষেক-সূর্য-হার্দিক-তিলকের বিধ্বংসী ব্যাটিং-এ ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে, ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৬ রান তোলে ভারত।
জিম্বাবোয়ের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন রিচার্ড নাগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি, টিনোতেন্ডা মাপোসা এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে, শুরুটা খারাপ করেনি তারা। তবে ভারতের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দাপটে জিম্বাবোয়ের রানের গতি অনেকটাই কমে যায়। আরেকটাও বিষয় আছে। সেটা হল, জিম্বাবোয়ের ব্যাটিং লাইন-আপ তো ভারতের মতো অতটা শক্তিশালীও নয় এবং বিগ হিটারের সংখ্যাও কম।
দলের ওপেনার তথা উইকেটকিপার-ব্যাটার তাদিওয়ানাশে মারুমানি করেন মাত্র ২০ রান। ডিয়ন মায়ার্সের ঝুলিতে মাত্র ৬ রান এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সংগ্রহে ৩১ রান। রায়ান বার্ল খালি হাতে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। টনি মুনিওঙ্গা করেন মাত্র ১১ রান, তাশিঙ্গা মুসেকিওয়ার ঝুলিতে ৭ রান এবং ব্র্যাড ইভান্সের সংগ্রহে ১ রান।
তবে দলের ওপেনার ব্রায়ান বেনেটের প্রশংসা করতেই হয়। তিনি একাই লড়াই চালিয়ে গেলেন শেষপর্যন্ত। খেললেন ৫৯ বলে ৯৭ রানের ইনিংস। স্ট্রাইক রেট ১৬৪.৪১। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ৬টি ছয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে, ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান তুলতে সক্ষম হয় জিম্বাবোয়ে।
ভারতের হয়ে ৩ উইকেট নেন আর্শদীপ সিং। সেইসঙ্গে, ১টি করে উইকেট পান বরুণ চক্রবর্তী, সহ-অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল এবং শিবম দুবে। ভারত জয় ছিনিয়ে নিল ৭২ রানে। যা নেট রান রেটের দিক দিয়ে ভারতকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দিল। ম্যাচের সেরা হার্দিক পান্ডিয়া।
ভারতঃ সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার-ব্যাটার), অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণ, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল (সহ-অধিনায়ক), আর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী, যশপ্রীত বুমরা
জিম্বাবোয়েঃ তাদিওয়ানাশে মারুমানি (উইকেটকিপার-ব্যাটার), ব্রায়ান বেনেট, ডিয়ন মায়ার্স, রায়ান বার্ল, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), টনি মুনিওঙ্গা, তাশিঙ্গা মুসেকিওয়া, ব্র্যাড ইভান্স, টিনোতেন্ডা মাপোসা, ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড নাগারাভা
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।