
East Bengal FC vs Al-Arabi: পশ্চিম এশিয়ার কোনও দলের বিরুদ্ধে ভারতের কোনও দল পিছিয়ে পড়েও বড় ব্যবধানে জয় পাচ্ছে, এই ঘটনা বিরল। অবশ্য অন্য দলগুলির ক্ষেত্রে বিরল হলেও, ইস্টবেঙ্গল অতীতেও এশিয়া স্তরের প্রতিযোগিতায় পশ্চিম এশিয়ার দলের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। তবে বুধবার রাতে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুয়ের (AFC Champions League Two) যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে কুয়েতের (Kuwait) অন্যতম সেরা দল আল-আরবির বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময়ে আরও তিন গোল করে ৪-১ জয় তুলে নিয়ে এই টুর্নামেন্টের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল ইস্টবেঙ্গল, তাতে এই ম্যাচ সদস্য-সমর্থকদের কাছে বহুদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শতবর্ষপ্রাচীন এই ক্লাবের সাফল্যের মুকুটে আরও এক পালক যুক্ত হল।
বিদেশি ডিফেন্ডার নেই। প্রথম একাদশে মাত্র দুই বিদেশি। এই পরিস্থিতিতে কুয়েতের দলের বিরুদ্ধে যে এভাবে জয় আসবে, তা হয়তো বেশিরভাগ কট্টর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকই ভাবতে পারেননি। তবে প্রথমার্ধে দলের লড়াই আশা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ৭৮ মিনিটে সন্দীপ মান্ডির ভুলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে যখন আনায়ো লুয়ালা (Anayo Iwuala) গোল করে আল-আরবিকে এগিয়ে দেন, তারপর লাল-হলুদ শিবিরে হতাশা নেমে আসে। সারা মাঠ ধরে নিয়েছিল, এই ম্যাচ হারছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ময়দানের প্রাচীন প্রবাদ, 'পিছিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল খোঁচা খাওয়া বাঘ।' এদিন ফের এই প্রবাদের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেল। ৯০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে হেডে সমতা ফেরান জয় গুপ্তা। ফলে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি। ১০৮ মিনিটে অসাধারণ ভলিতে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন মহম্মদ বাসিম রশিদ (Mohammed Bassim Rashid)। এরপরেই আল-আরবির লড়াই শেষ হয়ে যায়। ১১৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা (David Lalhlansanga)। এই গোলে ইস্টবেঙ্গলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর শেষমুহূর্তে ডেভিডের পাস থেকে রোহিত দানুর (Rohit Danu) গোল কেকের উপর চেরির মতো হয়ে থাকল।
এই নিয়ে ১৭ বার এশিয়া স্তরের প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইস্টবেঙ্গল। ভারতের অন্য কোনও ক্লাবের এই রেকর্ড নেই। প্রথমবার এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুয়ের মূলপর্বে খেলবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। এই টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স দেখানোই ডেভিডদের লক্ষ্য।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।