Piyali Basak: তৃণমূল সরকারের আমলে বারবার সমস্যায় পড়েছেন (piyali basak news)। এবার সেই কথাই জানিয়ে এবং একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সুরাহার আশায় রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে চিঠি দিলেন এভারেস্ট জয়ী বাঙালি পর্বতারোহী পিয়ালী বসাক (piyali basak mountaineer)। সেইসঙ্গে, সরকার পরিবর্তন এবং নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার জন্য পর্বতারোহীদের পক্ষ থেকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।
"তৃণমূল আমলে বারবার সমস্যার সম্মুখীন!"
চিঠিতে পিয়ালী বসাক লিখেছেন, “আশা করি, আগের সরকারের আমলে যে সমস্যার সম্মুখীন আমরা হচ্ছিলাম সেগুলোর সমাধানের জন্য আপনি সচেষ্ট হবেন এবং আমাদের রাজ্য এবং দেশের সুনাম অর্জনের জন্য ব্রতী হয়ে আশা করব যে, আমাদের পাশে থাকবেন। এভারেস্ট সহ পৃথিবীর ছটি উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ আরোহণ করা পর্বতারোহী পিয়ালী বসাক বলছেন, “কয়েকজনকে বাদ দিয়ে আমাদের রাজ্যের বেশ কিছু পর্বতারোহী, যারা তাদের নির্দিষ্ট প্রাপ্য এবং সম্মান থেকে বঞ্চিত। বিগত রাজ্য সরকারের আমলে একটি পর্বত আরোহণের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেখানে নিয়ম অনুযায়ী, এভারেস্ট এবং আরও যেগুলো পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ ২৬ হাজার ফুটের ওপরে আছে, সেই শৃঙ্গগুলোর মধ্যে কোন একটা শৃঙ্গ আরোহণ করলে বা এভারেস্ট আরোহণ করলে সেই রাজ্য সরকারের কমিটিতে নেওয়া হয়। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণবশত আমাকে সেই কমিটিতে রাখা হয়নি,আমি পৃথিবীর ৬টি উচ্চতম শৃঙ্গ এভারেস্ট সহ আরোহণ করা সত্ত্বেও।"
এরপরেই বাঙালি পর্বতারোহীর কথায়, “এই বঞ্চনার ঘটনারগুলোর মধ্যে যে সামান্য কিছু আমি জানি, তার মধ্যে একটা ঘটনা হচ্ছে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে। এই রাজ্য সরকারেরই পর্বতারোহণ কমিটি ১০ জন ছেলেকে সিলেক্ট করেছিল শ্রী কৈলাশ পর্বত আরোহণের জন্য। সেই সময়, তার অফিস ছিল বিবাদী বাগের যুবকল্যাণ দফতরে। ঐ ১০ জন ছেলেকে ইকুইপমেন্ট পাহাড়ের সাজ সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল এই যুবকল্যাণ দফতরের পর্বতারোহণ শাখা থেকেই। এই দশ জন ছেলেকে সিলেক্ট করেছিল এই পর্বতারোহণ কমিটি। ইনস্যুরেন্স করে দিয়েছিল এই পর্বতারোহণ কমিটি । শ্রী কৈলাস পর্বতে অভিযান চলাকালীন ছেলেরা বুঝতে পারে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি থেকে দেওয়া পর্বতারোহণের সমস্ত সাজসরঞ্জাম তথা তাঁবু এবং স্লিপিং ব্যাগ থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু খুবই নিম্নমানের ছিল। যে কারণে ছেলেদের বিপদে পড়তে হয়। দশজন ছেলের মধ্যে পাঁচজন চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য শেষ ধাপের আরোহণ শুরু করে বাকি পাঁচজন ছেলে তারা কিছুটা নিচে ছিল। তারা উপরে আসতে পারেনি।"
তিনি বলছেন, "সামিটে যাওয়ার সময়, প্রায় ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় সেই পাঁচজন ছেলের হাতে এবং পায়ে ফ্রস্ট বাইট (তুষারক্ষত) হয়ে যায়। সেই অভিযান থেকে ফেরত আসার পর, তাদের যে ইনস্যুরেন্স করে দেওয়া হয়েছিল কমিটি থেকে, সেই ইনস্যুরেন্সের কোনও টাকা তারা পায়নি। এমনকি, চিকিৎসার খরচও তারা পায়নি। তাদের হাত এবং পায়ের অনেকগুলো করে আঙ্গুল এমপুট করতে হয়, অপারেশন করে বাদ দিতে হয়। কিছুজনের হাতের সমস্ত আঙ্গুল পায়ের সমস্ত আঙ্গুলও বাদ যায় এই কম বয়সে। যেখানে তাদের সারা জীবনটা পড়ে রয়েছে। তার কয়েকদিনের মধ্যেই বিবাদি-বাগের সেই ইউথ সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের যে ঘরে এই পর্বত আরোহণের নথিপত্রগুলো রাখা থাকত, সেখানে হটাৎ আগুন লেগে যায়। সেই সমস্ত নথিপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়"
পিয়ালি জানাচ্ছেন, "এরপরে আসি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়। গত ২০১৮ সালে, আমি মানাসলু অভিযান পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ অভিযান সফলভাবে আরোহন করি। অভিযানে যাওয়ার আগে ওই রাজ্য সরকারের কমিটিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত কাগজপত্র জমা করি, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস স্যারের সঙ্গে দেখা করি। উনি আমাকে আশ্বাস দেন, অভিযান থেকে ফিরে এসে আমার রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য সমস্ত কিছু দিয়ে দেবেন। যদিও আমি লিখিত চাওয়া সত্ত্বেও উনি তা দেননি। তারপর সেই মানাসলু পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ সফলভাবে আরোহণ করে ফিরে এসেও আমার প্রাপ্য সম্মান, প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা কোন কিছুই দেওয়া হয়নি। তারপরের বছর অর্থাৎ, ২০১৯ সালে আমি এভারেস্ট পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ আরোহণে যাই এবং আবারও সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনে পর্বতারোহণ কমিটিতে সমস্ত কাগজপত্র জমা করি। কিন্তু আবারও আমার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়।"
এছাড়াও আরও বেশ কিছু বিষয় তিনি তাঁর চিঠিতে তুলে ধরেছেন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।