
FIFA World Cup 2026: চলতি ফিফা বিশ্বকাপে একেবারে গোলের ছড়াছড়ি চলছে বলা যায়। বিশ্বকাপে এর মধ্যেই ৬৬টি ম্যাচে ১৯৬টি গোল হয়ে গিয়েছে। ম্যাচ প্রতি গড়ে প্রায় ৩টি করে গোল হচ্ছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, জার্মানি থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলও অন্তত একবার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে। তবে ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে এখনও এমন একটি দেশ রয়েছে, যারা গোলের খাতাই খুলতে পারেনি। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে বাকি ৪৭টি দল অন্তত একটি করে গোল করেছে। কিন্তু এখনও গোল করতে পারেনি একটি মাত্র দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে। অনেকেই যার সঠিক উত্তর দিতে পারছেন না।
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সবচেয়ে অজানা দেশগুলিও গোল করেছে। এই যেমন কেপ ভার্দে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে নক আউটে উঠেছে। কুরাসাও এবার বিশ্বকাপে দারুণ খেলেছে, গোল করেছে। তবে গোলের বন্য়ার বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত খরা পানামা-র। মধ্য আমেরিকার দেশটি নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত দু'টি ম্যাচ খেলেছে। গ্রুপ এল-এ প্রথম ম্যাচে ঘানার কাছে ১-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে একই ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের। ফলে এখনও পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পাশাপাশি তাদের পয়েন্টও শূন্য। কাল, রাতে পানামা গ্রুপ লিগে তাদের শেষ ম্যাচে নামছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। হ্যারি কেন-দের বিরুদ্ধে পানামা গোল করতে না পারলে কোনও স্কোর না করে বিশ্বকাপ শেষের নজির গড়বে পানামা।
গত বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ কাতার একটিও গোল করতে পারেনি, গত চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে কাতারই ছিল একমাত্র গোল না করা দল
শুধু কোনও গোল না করাই নয়, সবচেয়ে কমবার গোল তৈরির সুযোগের বিষয়েও পানামা সবার পিছনে রয়েছে। গত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশগুলির মধ্যে একমাত্র কাতার কোনও গোল করতে পারেনি। পানামার রক্ষণভাগ লড়াই করলেও আক্রমণভাগ একেবারেই ছাপ ফেলতে পারেনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হওয়ায় এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে প্রথম গোলের অপেক্ষায় রয়েছে দলটি। এই পরিসংখ্যান ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। চলতি বিশ্বকাপে গোলের দিক থেকে প্রায় সব দলই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। গতাবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলির পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত ছোট ফুটবল শক্তিগুলিও গোল করেছে। সেই জায়গায় পানামার গোলখরা আরও বেশি করে নজর কেড়েছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে গোল করতে না পারলে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত কমে যায়। যদিও পানামার সামনে এখনও একটি সুযোগ রয়েছে। শেষ গ্রুপ ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততে হবে, পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলও তাদের পক্ষে যেতে হবে। এখন দেখার, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পানামা অবশেষে বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় কি না। নাকি গোলশূন্য দল হিসেবেই শেষ হবে তাদের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান।
৮ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠার যোগ্যতাঅর্জন করেছে পানামা। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে পানামা। ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে অংশ নেওয়া ৮০তম দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়েছিল মধ্য আমেরিকার এই দেশ। সেই বিশ্বকাপেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ডিফেন্ডার ফেলিপে বালয়ের গোলে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম গোলের দেখা পায় পানামা। যদিও ম্যাচটি তারা ৬-১ ব্যবধানে হেরেছিল এবং রাশিয়া বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল, তবুও সেই গোলটি পানামার ফুটবল ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে রয়েছে। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে উঠতে পারেনি তারা। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো কানাডা আয়োজক দেশ হিসেবে মূলপর্বে ওঠায়, উত্তর আমেরিকা থেকে কোয়ালিফাই করাটা অপেক্ষাকৃত সহজ হয়ে যায়। তিন আয়োজক দেশ ছাড়াও চলতি বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকা থেকে মূলপর্বে খেলছে হাইতি, কুরাসাও ও পানামা।