
FIFA World Cup 2026: বিশ্বজুড়ে ফুটবল জ্বরে কাবু হওয়ার সময় প্রায় আসন্ন। আর মাত্র কয়েক মাস পরেই শুরু হতে চলেছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা কি এবারের বিশ্বকাপ টিভিতে বা ফোনে দেখতে পাবেন? এই বড় প্রশ্নের উত্তর এখনও ফিফা বা ভারতের কোনও সম্প্রচারকারী সংস্থা দিতে পারেনি (FIFA media rights)।
আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার ১৬টি শহরে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে। খেলা শুরু হচ্ছে ১২ জুন থেকে। প্রথম ম্যাচেই আয়োজক দেশ মেক্সিকোর বিরুদ্ধে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। গত মাসেই ফিফা এশিয়ার বাজারের জন্য সম্প্রচার স্বত্বের তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং-এর মতো দেশ থাকলেও, বিপুল জনসংখ্যা ও ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ভারত সেই তালিকায় ছিল না।
ফিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম বড় বাজার ছিল ভারত। ঠিক চিনের পরেই। ভারতে মোট মিডিয়া এনগেজমেন্ট ছিল ৭৪৫ মিলিয়ন। টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে খেলা দেখেছেন ১৬৭ মিলিয়ন দর্শক। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখতে পছন্দ করেছিলেন।
এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই ফিফা এবার সম্প্রচার স্বত্বের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চেয়েছিল। শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপ নয়, এর সঙ্গে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের স্বত্বও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও সংস্থাই এত টাকা দিতে রাজি হয়নি। এরপর ফিফা দাম কমিয়ে প্রথমে ৬৫ মিলিয়ন ও পরে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা) নামিয়ে আনে।
প্রসঙ্গত, কাতার বিশ্বকাপের স্বত্ব ভায়াকম১৮ কিনেছিল ৬২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৭৪ কোটি টাকা। এ বারের বিশ্বকাপের মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ৯.৩০ বা ১০.৩০ মিনিটে শুরু হবে। নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সহ বাকি সব ম্যাচই হবে মাঝরাতে বা ভোরবেলায় রয়েছে।
সেই কারণে, লাইভ দর্শক কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো যথেষ্ট চিন্তিত। কেরালা, গোয়া বা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো ভারতের ফুটবলের আঁতুড়ঘর। কিন্তু এই সময়ে দেশের বাকি অংশের দর্শকদের টিভির পর্দায় টেনে আনা বেশ কঠিন হবে। কাতার বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে সময়টা ভারতীয় দর্শকদের জন্য সুবিধাজনক ছিল।
সেইসঙ্গে, বিজ্ঞাপনের সুযোগও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেটের মতো ফুটবলে প্রতি ওভারের পর বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ নেই। বিরতির সময় ছাড়া বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ প্রায় থাকেই না। ভারতে প্রিমিয়ার লিগের সম্প্রচার স্বত্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেই দাম অনেকটাই কমে গেছে। ২০১৩-১৬ সালে যেখানে ব্রডকাস্টিং রাইটসের মূল্য ছিল ১৪৫ মিলিয়ন ডলার, এখন তা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও কম।
স্প্যানিশ লা লিগার ক্ষেত্রেও ছবিটা প্রায় একই। ভারতে ক্রিকেটের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার কারণে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি আইসিসি এবং বিসিসিআই-এর টুর্নামেন্টগুলোতেই প্রায় ৯০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
সেখানে অন্যান্য খেলার জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫০০ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে এবং ফিফা যদি অন্য কোনও উপায় খুঁজে না পায়, তাহলে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মধ্যেই থেকে যাবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।