
FIFA World Cup 2026: ভোজিনহোর পর এবার রুম। চলতি বিশ্বকাপে আরও এক গোলকিপার চমকে দিলেন। একটা নয়, দুটো নয়। ৯০ মিনিটের ম্যাচে একেবারে ১৫টি সেভ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুম। কয়েকদিন আগেই বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে জার্মানির কাছে ১-৭ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল কুরাসাও। তবে সেই হতাশার রেশ কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেলল ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রটি। আর সেই কৃতিত্বের কেন্দ্রে রয়েছেন দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলয় রুম।
শনিবার কানসাস সিটির মাঠে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে কুরাসাও। স্কোরলাইন দেখে ম্যাচের ছবি বোঝা কঠিন। কারণ পুরো ম্যাচ জুড়ে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছিল ইকুয়েডর। কিন্তু তাদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান ৩৭ বছরের রুম। ম্যাচে ইকুয়েডর মোট ২৭টি শট নেয়। তার মধ্যে গোলমুখে আসা ১৫টি শটই রুখে দেন কুরাসাওয়ের অধিনায়কসুলভ গোলকিপার। বিশ্বকাপের নিয়মিত ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনও গোলকিপারের সর্বাধিক সেভের নতুন রেকর্ড এটি বলে জানা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সেরার পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতেই।
অনবদ্য ১৫টি সেভ
🚨🚨| Curaçao goalkeeper Eloy Room was one save short of tying Tim Howard's FIFA World Cup save record!! 🇨🇼🧤pic.twitter.com/7w6HOLcKxU
— CentreGoals. (@centregoals) June 21, 2026
রুমের এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সৌজন্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট পায় কুরাসাও। মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেই এমন কীর্তি নজর কেড়েছে ফুটবল বিশ্বে। আগামী সপ্তাহে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে কুরাসাও। সেই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নও জিইয়ে থাকবে তাদের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলরক্ষকদের সেরা পারফরম্যান্সের তালিকাতেও উঠে এসেছে রুমের নাম। এর আগে ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পেরুর গোলরক্ষক রামোন কুইরোগা ১৩টি সেভ করেছিলেন। রুম সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। যদিও বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বাধিক সেভের রেকর্ড এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন।
নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া এলয় রুমের ফুটবল জীবন শুরু হয়েছিল ডাচ ক্লাব ভিতেসের যুব অ্যাকাডেমিতে। যুব পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করলেও পরে কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে কুরাসাওয়ের জার্সিতে অভিষেক হয় তাঁর। পরিবারের শিকড় কুরাসাওয়ে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই দ্বীপটির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল রুমের। বহুবার তিনি জানিয়েছেন, কুরাসাওকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করে তোলাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণের পথে বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক ম্যাচ নিঃসন্দেহে অন্যতম বড় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
জার্মানির বিরুদ্ধে সাত গোল খাওয়ার ক্ষত এখনও টাটকা। কিন্তু ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে এলয় রুমের দুরন্ত গোলকিপিংয়ের সৌজন্যে কুরাসাও এখন বিশ্বকাপের অন্যতম চর্চিত দল। আর ফুটবলপ্রেমীরা মনে রাখবেন সেই গোলরক্ষককে, যিনি এক ম্যাচেই ১৫ বার গোল বাঁচিয়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখে দিলেন।