Japan vs Tunisia: নেদারল্যান্ডসকে আটকে দেওয়ার পর, এবার তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে বড় জয় পেল তারা (japan vs tunisia)। রবিবার সকালে, এস্তাদিও মন্টেরে স্টেডিয়ামে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় জাপান বনাম তিউনিশিয়া। সেই ম্যাচেই ৪-০ গোলে ঐতিহাসিক জয় জাপানের (Japan vs Tunisia World Cup 2026)।
Japan vs Tunisia: দুরন্ত জয় জাপানের। নেদারল্যান্ডসকে আটকে দেওয়ার পর, এবার তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে বড় জয় পেল তারা (japan vs tunisia)। রবিবার সকালে, এস্তাদিও মন্টেরে স্টেডিয়ামে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় জাপান বনাম তিউনিশিয়া। সেই ম্যাচেই ৪-০ গোলে ঐতিহাসিক জয় জাপানের (Japan vs Tunisia World Cup 2026)। জোড়া গোল করলেন আয়াসে উয়েদা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট শুরু জাপানের। খেলার ৪ মিনিটেই প্রথম গোল পেয়ে যায় হাজিমে মরিয়াসুর ছেলেরা। কেইটো নাকামুরার অ্যাসিস্ট থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করে যান দাইচি কামাদা। সঙ্গে সঙ্গে জাপান এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।
তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত ফুটবল জাপানের
তার কয়েক মুহূর্ত বাদেই আবার সুযোগ চলে আসে তাদের সামনে। কিন্তু তিউনিশিয়া ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করেন। পাশাপাশি একটি ভালো সেভও করেন তিউনিশিয়া গোলকিপার দাহমেন। অন্যদিকে, জাপান ফরোয়ার্ড আয়াসে উয়েদারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
সবথেকে বড় বিষয়, গোটা মাঠ জুড়ে ফুটবল খেলে জাপান। মাঝমাঠ বেশিরভাগ সময় তাদের দখলেই ছিল। বিশেষ করে নাকামুরা, কামাদা, তানাকা এবং ডোয়ান লাগাতার আক্রমণ তুলে আনতে থাকেন। ফরোয়ার্ড সানো এবং উয়েদারের প্রশংসা করতেই হয়।

অন্যদিকে, সর্বদা সজাগ ছিল জাপান ডিফেন্স। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ইতাকুরা, টোমিইয়াসু এবং ইটো বেশ ভালো খেলেন। তবে তিউনিশিয়া পাল্টা কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে হানিবাল মেজব্রি এবং মুনতাসির তালবির প্রশংসা করতে হয়।
তবে জাপান নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে যে অসাধারণ ফুটবলটা উপহার দিয়েছিল, এদিনও তাই। ৩-৪-৩ ফর্মেশনে খেলতে নামে তারা।
৪-০ গোলে ঐতিহাসিক জয়

খেলার ৩১ মিনিটে, ব্যবধান আরও বাড়ায় জাপান। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে দৌড় শুরু করেন এবং তারপর ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ডি-বক্সের একটু বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করেন আয়েসা উয়েদা। ইতাকুরা অ্যাসিস্ট করেন এই গোলটির ক্ষেত্রে। সেকেন্ড পোস্টে রাখা এই মাপা শট তিউনিশিয়া গোলকিপারকে পরাস্ত করে সোজা জালে জড়িয়ে যায়।
ম্যাচের ৪৪ মিনিটে, টপ বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক নেয় জাপান। তবে এক্ষেত্রে গোল আসেনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ফলাফল নিয়ে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলে দুটি পরিবর্তন করে তিউনিশিয়া। ইলিয়াস সাদের জায়গায় মাঠে আসেন ইসমাইল গারবি এবং ডিলান ব্রনের বদলে মাঠে নামেন মহম্মদ আমিন বেন হামিদা।
জোড়া গোল করলেন আয়াসে উয়েদা

তবে জাপান কিন্তু আক্রমণের জায়গা থেকে একটুও সরে আসেনি। আও তানাকার শট একটুর জন্য বাইরে চলে যায়। তার পরের মুহূর্তেই পাল্টা আক্রমণ তুলে আনে তিউনিশিয়া। তবে সুযোগ নষ্ট করেন সেবাস্টিয়ান টুনেকটি। এক্ষেত্রে ঠিকানা লেখা পাসটি বাড়ান ইয়ান ভালেরি।
কিন্তু জাপানের শক্তির কাছে রুখে দাঁড়াতে পারল না তারা। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে, মাঝমাঠ থেকে থ্রু বল পান আয়াসে উয়েদা এরপর পাস বাড়ান জুনিয়া ইটোর দিকে। আর সেই বল পেয়েই কার্যত, তিউনিশিয়া ডিফেন্ডারকে কাঁধে নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। এরপর বুদ্ধিদীপ্ত ফিনিশ এবং গোল। জাপান খেলায় লিড নেয় ৩-০ ব্যবধানে।

এরপরেই পরিবর্তন আসে জাপানের প্রথম একাদশে। দাইচি কামাদার বদলে মাঠে আসেন জুননোসুকে সুজুকি, ইউকিনারি সুগাওয়ারা নামেন রিতসু দোয়ানের জায়গায়, ইউইটো সুজুকিকে তুলে নামানো হয় কেইটো নাকামুরাকে এবং তাকেহিরো তোমিয়াসুর পরিবর্তে খেলতে নামেন আয়ুমু সেকো।

নক-আউটের দিকে আরও এক পা বাড়িয়ে রাখল তারা
অন্যদিকে, খেলার ৭৪ মিনিটে, ইসমায়েল গারবির শট ব্লক হয় জাপান ডিফেন্সে। শেষদিকে আরও চাপ বাড়াতে শুরু করে জাপান। তবে দলের গোলকিপার সুজুকি সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন পাল্টা আক্রমণ রুখতে।
কিন্তু দিনটা যেন জাপানেরই ছিল। খেলার ৮৩ মিনিটে, ফের গোল। এবার কাইশু সানোর ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে গোল করেন সেই আয়াসে উয়েদা। কার্যত, জোড়া গোলের নায়ক তিনি এই ম্যাচে। শেষপর্যন্ত, তিউনিশিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিল জাপান এবং নক-আউটের দিকে আরও এক পা বাড়িয়ে রাখল তারা।

পরিসংখ্যান বলছে, ৫৭% বল পজিশন রেখে এই জয়।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।