Ecuador vs Curacao: চলতি ফিফা বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের নক-আউটে যাওয়ার স্বপ্ন বড়সড় ধাক্কা খেল। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল তারা। ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুম। যার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সুবাদেই কুরাসাও বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল।
Ecuador vs Curacao: চলতি ফিফা বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের নক-আউটে যাওয়ার স্বপ্ন বড়সড় ধাক্কা খেল (ecuador vs curaçao)। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল তারা। ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুম। যার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সুবাদেই কুরাসাও বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল (fifa world cup 2026)।

ভারতীয় সময় রবিবার ভোরে, কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় গ্রুপ ই-এর দুই দল। আর এই ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুম। তাঁর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সৌজন্যে বিশ্বকাপের মঞ্চে তথা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল কুরাসাও। গোটা ম্যাচের বেশিরভাগ সময়, নিজেদের পায়ে রেখে অসংখ্য সুযোগ তৈরি করলেও, ইকুয়েডর বারবার পরাস্ত হয়েছে এলয় রুমের কাছে। বলা ভালো, অসাধারণ এবং অনবদ্য সব সেভ করেছেন তিনি। নিজের দু-হাত দিয়ে রক্ষা করলেন দেশকে।২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে, কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনহার পরেই অন্যতম সেরা গোলকিপিং পারফরম্যান্স বলা হচ্ছে এটিকে।
ইকুয়েডরের সামনে চিনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন কুরাসাওয়ের গোলকিপার
ম্যাচের শুরুতেই, মাত্র তিন মিনিটের মাথায়, একটি লম্বা বল ধরে এগিয়ে যান ইকুয়েডরের ক্যাপ্টেন এনার ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু তাঁর শট দুর্দান্তভাবে বাঁচিয়ে দেন রুম। পাল্টা জবাবে কুরাসাও একটি আক্রমণ তুলে আনে। শেরেল ফ্লোরানাসের শট বাইরে চলে যায়। তবে প্রথমার্ধের বাকি সময়টা ছিল শুধুই ইকুয়েডরের। জন ইয়েবোয়া দুরন্ত গতিতে ঢুকে রুমকে পরীক্ষা করেন। এরপর পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে পেড্রো ভিটের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
পাশাপাশি ভ্যালেন্সিয়ার আরও একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন রুম। এরপর গঞ্জালো প্লাটা এবং ইয়েবোয়া দুজনকেই হতাশ করেন কুরাসাওয়ের এই গোলকিপার। কার্যত, অপ্রতিরোধ্য এবং চিনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন কুরাসাওয়ের গোলকিপার লয় রুম।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরের গোলকিপার হার্নান গালিন্দেজকে তেমন কোনও পরীক্ষার মুখেই পড়তে হয়নি। বিরতির আগে লিভানো কোমেনেন্সিয়ার একটি সাধারণ শট বাঁচানো ছাড়া তার তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য সেভ করতে হয়নি তাঁকে। দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার ছবিটা বদলায়নি খুব একটা। একটি গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপায় ইকুয়েডর।
প্লাটার একটি শট এবং খুব কাছ থেকে নেওয়া একটি হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন রুম। বেশিরভাগ সময় চাপে থাকলেও, কুরাসাও কাউন্টার অ্যাটাকে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল। একবার তো প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিল তারা। লিয়ান্ড্রো বাকুনা এবং কোমেনেন্সিয়ার শট পরপর দুবার বাঁচিয়ে দলকে রক্ষা করেন গালিন্দেজ।
ম্যাচ গোলশূন্য ড্র
তবে রুমের বীরত্ব চলতেই থাকে। ভ্যালেন্সিয়ার একটি ফার-পোস্ট হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান তিনি। সেই কর্নার থেকে কেভিন রড্রিগেজের শটও আটকে দেন। পরিবর্ত হিসেবে নামা নিলসন আঙ্গুলোকেও গোল করতে দেননি কুরাসাওয়ের এই শট-স্টপার। আরেকটি কর্নার থেকে পিয়েরো হিনক্যাপি হেড লক্ষ্যে ধরে রাখতে পারেননি।
শেষ মুহূর্তে ইকুয়েডর তাদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেও রুম ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। আঙ্গুলোর আরও একটি শট তিনি বাঁচিয়ে দেন। ম্যাচের একেবারে শেষে, অ্যাঞ্জেলো প্রেসিয়াডোর ক্রস ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ইকুয়েডরের জয়ের শেষ আশাও শেষ হয়ে যায়।
এই ড্রয়ের ফলে ইকুয়েডর বিশ্বকাপে টানা চারটি ম্যাচে জিততে পারল না। গ্রুপের শেষ ম্যাচে, জার্মানির বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে তাদের। অন্যদিকে, কুরাসাওয়ের জন্য এই ড্র একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই প্রথম বিশ্বকাপের মূলপর্বে কোনও পয়েন্ট পেল তারা এবং কোনও গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করল এই ক্যারিবিয়ান দেশটি।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
