
FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ শুরুর মুখে আবহওয়া পরিস্থিতি নিয়ে বড় উদ্বেগ। উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত আসন্ন বিশ্বকাপে বহু ম্যাচই ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত, তীব্র গরম এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ব্যাহত হতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ এবং জলবায়ু গবেষকদের একাধিক রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো মিলিয়ে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জুন-জুলাই মাসে টুর্নামেন্ট আয়োজন হওয়ায় বেশিরভাগ ভেন্যুই আবহাওয়ার ঝুঁকির মুখে থাকবে। এই সময় উত্তর আমেরিকার বহু অঞ্চলে বজ্রপাত- বড় ধরনের ঝড়ের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেডিয়ামগুলিতে বজ্রপাত সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা বিধি কার্যকর থাকবে। কোনও স্টেডিয়ামের প্রায় ১৩ কিলোমিটার বা ৮ মাইলের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলেই ম্যাচ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এরপর অন্তত ৩০ মিনিট নতুন কোনও বজ্রপাত না হলে তবেই খেলা শুরু করা যাবে। মাঝখানে আবার বজ্রপাত হলে নতুন করে ৩০ মিনিটের কাউন্টডাউন শুরু হবে। ফলে একাধিক ম্যাচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে আমেরিকার মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি শহর। কানসাস সিটি, আটলান্টা এবং ডালাসে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এমনকি টর্নেডোরও আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে মিয়ামি ও হিউস্টনের মতো উপকূলবর্তী শহরগুলোতে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। মেক্সিকোর মনতেরেতেও তাপমাত্রা বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ তীব্র গরম এবং আর্দ্রতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এমনও একটি সমীক্ষা রয়েছে যেখানে দাবি করা হয়েছে, ১০৪টির মধ্যে ৯৭টি ম্যাচই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে এমন তাপমাত্রার মুখে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ফিফা। প্রতিটি ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব শহরে গরমের ঝুঁকি বেশি, সেখানে বিকেলের বদলে সন্ধ্যা বা রাতের দিকে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তবে আবহাওয়ার ঝুঁকি একেবারে নতুন নয়। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপেও একাধিক ম্যাচ বজ্রপাত-ঝড়ের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আয়োজক দেশগুলি এবং ফিফা কর্তারা আশাবাদী। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট নিরাপদভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।