Lionel Messi Record: গোল না করে মেসির বিশ্ব রেকর্ড! বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন

Published : Jul 16, 2026, 10:02 AM IST
Lionel Messi World Cup 2026

সংক্ষিপ্ত

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে বড় ভূমিকা রাখেন লিওনেল মেসি। এই ম্যাচে তিনি একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েন। বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যায়। টুর্নামেন্টে গোল তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি নতুন উচ্চতায় পৌঁছন।

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে বড় ভূমিকা রাখেন লিওনেল মেসি। এই ম্যাচে তিনি একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েন। বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যায়। টুর্নামেন্টে গোল তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি নতুন উচ্চতায় পৌঁছন। পটা (Opta)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সাল থেকে বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপে এত বেশি গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে আর কোনও ফুটবলার অবদান রাখতে পারেননি। মেসি বিশ্বকাপে ডিয়েগো মারাদোনার একাধিক আর্জেন্টাইন রেকর্ডও ভেঙে ফেলেছেন। ম্যাচ সংখ্যা, গোলে অবদান এবং নকআউট পর্বে পারফরম্যান্স—সব ক্ষেত্রেই তিনি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন। কই সঙ্গে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের কিছু বিশ্বকাপ রেকর্ডেও মেসি এগিয়ে গিয়েছেন, বিশেষ করে গোলে প্রত্যক্ষ অবদান (গোল + অ্যাসিস্ট)-এর হিসাবে।

আর্জেন্টিনা তাদের সপ্তম ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে এবং ১৯৮৬-৯০ সালের পর এই প্রথম তারা টানা দুটি বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। সর্বাধিকবার ফাইনাল খেলার তালিকায় তারা এখন ব্রাজিলের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে (জার্মানি ৮ বার ফাইনাল খেলে সবার উপরে)।

টানা ১৩টি ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচে আর্জেন্টিনা দুটি বা তার বেশি গোল করেছে, যা সর্বকালের দীর্ঘতম রেকর্ড (১৯৩০-৫৪ সময়কালে টানা ১১টি ম্যাচে গোল করে উরুগুয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে)। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসি ১২টি ডুয়েল (দ্বৈরথ) জিতেছেন; ২০১৪ সালের (তখন তাঁর বয়স ছিল ২৭) পর কোনও বিশ্বকাপ ম্যাচে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ ডুয়েল জয়। এছাড়া অতিরিক্ত সময় ছাড়া কোনও বিশ্বকাপ ম্যাচে ২০১০ সালের (তখন বয়স ছিল ২৩) পর এটিই তাঁর সর্বোচ্চ ডুয়েল জয়ের রেকর্ড। ২০২২ সাল থেকে শুরু করে টানা ১১টি ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচে মেসি গোল করেছেন অথবা গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করেছেন; এটি গত ৬০ বছরের ইতিহাসে এ ধরনের দীর্ঘতম ধারাবাহিকতার রেকর্ড।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১০টি; যা গত ৬০ বছরের ইতিহাসে অন্য যে কোনও খেলোয়াড়ের চেয়ে ছয়টি বেশি। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে যৌথভাবে আছেন পেলে ও অঁতোয়ান গ্রিজমান, যাদের অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটি করে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মেসি নয়টি ড্রিবল সম্পন্ন করেছেন; যা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোনও একটি ম্যাচে যে কোনও খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করার তালিকায় মেসি যৌথভাবে শীর্ষে আছেন (কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে আটটি করে গোল) এবং অ্যাসিস্টের তালিকায় চারটি নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন (পাঁচটি অ্যাসিস্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা মাইকেল ওলিসের চেয়ে একটি কম)। গত বিশ্বকাপেও মেসি গোল ও অ্যাসিস্টের যৌথ শীর্ষস্থান থেকে মাত্র এক গোল দূরে ছিলেন। ২০১০ সালে থমাস মুলার (৫টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট) ছিলেন সর্বশেষ খেলোয়াড় যিনি কোনও একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল ও অ্যাসিস্টের তালিকায় শীর্ষে বা যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা তেরোটি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে আটটিতেই মেসি ফাইনালে পৌঁছেছেন (৬১.৫%)। গত ৬০ বছরের মধ্যে ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একাধিক অ্যাসিস্ট করা চতুর্থ খেলোয়াড় হলেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের ক্যারিয়ারের ৩৩টি ম্যাচে মেসির গোল-অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) ৩৩টি (২১টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এরপরই সর্বোচ্চ গোল-অবদান কিলিয়ান এমবাপ্পের (২৫টি)।

গত ৬০ বছরের ফিফা বিশ্বকাপে 'চান্স ক্রিয়েশন' বা গোল তৈরির সুযোগ সৃষ্টির তালিকায় মেসি ইতিমধ্যেই শীর্ষে রয়েছেন; তবে পরবর্তী সুযোগটি তৈরি করলেই তিনি ১০০টি সুযোগ সৃষ্টির মাইলফলক স্পর্শ করবেন। ৭১টি সুযোগ তৈরি করে এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন দিয়েগো মারাদোনা।

এই বিশ্বকাপে মেসি ২৫টি সুযোগ তৈরি করেছেন। গত ৬০ বছরের মধ্যে কোনও একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সুযোগ তৈরির রেকর্ডটি ৩১টির, যা ১৯৭৪ সালে নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুইফ এবং ১৯৬৬ সালে পর্তুগালের আন্তোনিও সিমোয়েস গড়েছিলেন। গত ৬০ বছরে কোনও আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সুযোগ তৈরির রেকর্ডটি ৩০টির (১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা)। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মেসি ৮.৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। এই বিশ্বকাপে ১২০ মিনিট স্থায়ী হয়নি এমন কোনও ম্যাচে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের রেকর্ড।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হলেন মেসি (আজ তাঁর বয়স ৩৯ বছর ২১ দিন)। সর্বকালের তালিকায় তিনি পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ৪০ বছর ২৮৯ দিন) ও দিনো জফের (১৯৮২ সালে ৪০ বছর ১৩০ দিন)-এর পর তৃতীয় বয়স্ক খেলোয়াড়। রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেললে মেসি কাফুর পাশে নাম লেখাবেন এবং তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা একমাত্র খেলোয়াড়দের তালিকায় যুক্ত হবেন।

মেসি ০.৮৬ 'এক্সপেক্টেড অ্যাসিস্ট' (expected assists) তৈরি করেছেন—যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। এনজো ফার্নান্দেজ হলেন আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড়, যাকে মেসি বিশ্বকাপে দুবার অ্যাসিস্ট করেছেন। এর আগে মেসির সব অ্যাসিস্ট ছিল ভিন্ন ভিন্ন দশজন খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্যে।

বিশ্বকাপে ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজকে দেওয়া মেসির এই অ্যাসিস্টটি ছিল প্রথম ঘটনা; তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লাউতারোকে দেওয়া এটি ছিল তার ১০ম অ্যাসিস্ট—যা মেসির কোনওআর্জেন্টাইন সতীর্থের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। উতারো মার্টিনেজই প্রথম আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় যিনি একই বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে একাধিক গোল করেছেন।লাউতারোর গোলের সুবাদে, এবারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বদলি খেলোয়াড়দের করা জয়সূচক 'স্টপেজ-টাইম' গোলের সংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে (শুধুমাত্র নির্ধারিত সময়ের ম্যাচের ক্ষেত্রে)। আগের সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে এমন গোলের সংখ্যা ছিল ৩টি—অর্থাৎ এবারের আসরেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। (উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে বদলি খেলোয়াড় প্রথা চালু হয়)।

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা পাঁচটি জয়হীন ম্যাচের ধারার অবসান ঘটাল আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই ছিল তাদের প্রথম জয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে খেলা চারটি সেমিফাইনালের মধ্যে তিনটিতেই ইংল্যান্ড বিদায় নিয়েছে। তারা একমাত্র ফাইনালে উঠতে পেরেছিল ১৯৬৬ সালে, যখন নিজেদের মাটিতে শিরোপা জিতেছিল। গত ৬০ বছরের মধ্যে কোনও বিশ্বকাপ ম্যাচে ইংল্যান্ডের নেওয়া শটের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচটি—যা তাদের জন্য সর্বনিম্ন।

৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোল থেকে শুরু করে ৯০+২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের গোল পর্যন্ত—এই সময়ে বলের দখলে ইংল্যান্ডের হার ছিল ১২% এবং আর্জেন্টিনার ৮৮%। ২০২৬ বিশ্বকাপে কোনও ম্যাচের নির্দিষ্ট এই সময়সীমার মধ্যে এর চেয়ে কম বলের দখল ছিল কেবল কাতারের। ৬-০ ব্যবধানে হারা সেই ম্যাচে ৯ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলার সময় তাদের বলের দখল ছিল ১১%।

ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা আউটফিল্ড খেলোয়াড় (গোলরক্ষক ছাড়া অন্য পজিশনের খেলোয়াড়) হওয়ার রেকর্ড গড়লেন হ্যারি কেইন। ১২১তম ম্যাচটি খেলার মাধ্যমে তিনি ওয়েইন রুনিকে (১২০ ম্যাচ) ছাড়িয়ে গেলেন। 'থ্রি লায়ন্স'-এর হয়ে তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন কেবল গোলরক্ষক পিটার শিলটন (১২৫ ম্যাচ)।

PREV
Sports News in Bengla (খেলার খবর): In depth coverage of Sports news in Bangla. Live update of sports news headlines today (আজকে খেলার খবরের হেডলাইনস এবং শিরোনাম) about Cricket, IPL, Badminton, Hockey - Asianet News Bangla.
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

FIFA World Cup: বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও শাস্তির মুখে পড়তে পারে মেসি-সহ পুরো আর্জেন্টিনা দল, কী কারণে?
Argentina vs England: বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দাপটে গুঁড়িয়ে গেল ইংল্যান্ড! আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে, নিন্দুকদের যোগ্য জবাব