Argentina vs England: বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে, আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেই দুরন্ত জয় আর্জেন্টিনার।

Argentina vs England: রুপকথার অপর নাম হল আর্জেন্টিনা। দুরন্ত কামব্যাক এবং অবশ্যই আবারও নিন্দুকদের মুখে যোগ্য জবাব। আর্জেন্টিনা হরে তছনছ ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে, আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেই দুরন্ত জয় আর্জেন্টিনার। বিধ্বংসী কামব্যাক এবং অবশ্যই আবারও নিন্দুকদের মুখে যোগ্য জবাব। আসলে মাঠের বাইরে বুলি কপচে কথায় জেতা গেলেও ম্যাচ জেতা যায় না। সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিল আর্জেন্টিনা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দাপটে গুঁড়িয়ে গেল ইংল্যান্ড! ব্রিটিশদের হাতে 'হ্যারি কেন' ধরিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা। 

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দাপটে গুঁড়িয়ে গেল ইংল্যান্ড!

এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলকিপার); নাহুয়েল মোলিনা, সার্জিও রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, লিয়েন্দ্রো পেরেদেস, ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ; জিউলিয়ানো সিমিওনে, লিওনেল মেসি এবং জুলিয়ান আলভারেজ। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের হয়ে নামেন জর্ডান পিকফোর্ড (গোলকিপার), রিস জেমস, মার্ক গুয়েহি, জন স্টোনস, জেড স্পেন্স, ডেক্লান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জুড বেলিংহাম, মরগান রজার্স, হ্যারি কেন এবং অ্যান্থনি গর্ডন।

ম্যাচের শুরু থেকেই সেয়ানে সেয়ানে টক্কর। বেশ টাফ ফুটবল লক্ষ্য করা গেল। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে, এনজো ফার্নান্দেজের ডান পায়ের শট বাইরে চলে যায়। এরপর লিওনেল মেসির শট ব্লক হয়। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভালো আক্রমণ তুলে আনে আর্জেন্টিনা। জুলিয়ান আলভারেজের শট সেভ করেন ইংল্যান্ড গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

কিন্তু খেলার ৫৫ মিনিটে, ইংল্যান্ডের হয়ে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে দলটার নাম তো আর্জেন্টিনা। যাদের রক্তে আছে লড়াই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা রাজার মতোই ফিরে আসে। এবারও সেটাই হল। যদিও তার আগে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর মিস করেন এনজো ফার্নান্দেজ। মোটামুটি ৬০ মিনিটের পর থেকে যেভাবে ইংল্যান্ডকে চেপে ধরেছিল আর্জেন্টিনা, তাতে হ্যারি কেন এবং বেলিংহ্যামদের জারিজুরি শেষ হয়ে গেছিল। কিছুই করার ছিল না তাদের। কার্যত, আর্জেন্টিনার লাগাতার এবং বিধ্বংসী আক্রমণে জেরবার হয়ে যায় ইংল্যান্ড ডিফেন্স। 

ব্রিটিশদের হাতে 'হ্যারি কেন' ধরিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

খেলার ৬৪ মিনিটে, আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন আসে। লিয়েন্দ্রো পেরেদেসের জায়গায় মাঠে আসেন নিকো গঞ্জালেজ। গোটা ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুটি শট পোস্টে লাগে। এরপর নিকো গঞ্জালেসের শট আবার সেভ করেন পিকফোর্ড। তারপর ফের বদল আসে আর্জেন্টিনা দলে। জিউলিয়ানো সিমিওনের জায়গায় খেলতে নামেন রদ্রিগো ডি পল এবং নাহুয়েল মোলিনার জায়গায় আসেন গঞ্জালো মন্টিয়েল। পাশাপাশি লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পরিবর্তে নিকোলাস ওটামেন্ডি। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে, ম্যাক অ্যালিস্টারের শট আবার সেভ করেন জর্ডান পিকফোর্ড। নিঃসন্দেহে বলা চলে, আর্জেন্টিনা ডিফেন্সকে আগলে রেখেছিলেন নাহুয়েল মোলিনা, সার্জিও রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোরা।

আর মাঝমাঠ থেকে অ্যাটাক তুলে আনছিলেন লিয়েন্দ্রো পেরেদেস, ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজরা। অন্যদিকে, জিউলিয়ানো সিমিওনে, লিওনেল মেসি এবং জুলিয়ান আলভারেজ যেন মাঠে ফুল ফোটাচ্ছিলেন। একের পর এক আক্রমণ, কাউন্টার অ্যাটাক এবং অনবরত প্রেসিং ফুটবল খেলা শুরু করে আর্জেন্টিনা। দিশেহারা ইংল্যান্ডকে আরও চেপে ধরে তারা। মাঝমাঠ তখন পুরোপুরি আর্জেন্টিনার দখলে চলে যায় এবং ঝড়ের গতিতে আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে, আবারও একটি পরিবর্তন করেন আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোর জায়গায় খেলতে নামেন লাউতারো মার্টিনেজ।

মুখ লুকিয়ে নিন্দুকরা?

তারপরেই যেন আর্জেন্টিনার গতি আরও বেড়ে গেল। খেলার ৮৪ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের শট ব্লক হয় এবং ৮৫ মিনিটের মাথায়, এনজো ফার্নান্দেজের শট বাইরে দিয়ে উড়ে যায়। কিন্তু ম্যাচের ৮৫ মিনিটে, ডেডলক ভেঙে দিল আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট এবং বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের ডান পায়ের শটে অনবদ্য গোল। উত্তেজনার পারদ চরমে তখন। গোল পেয়ে আরও চাপ বাড়াল আর্জেন্টিনা। পুরো বিপক্ষ বক্সে খেলা চলছে। এরপর ঠিক ৯২ মিনিট। লিওনেল মেসির মাপা ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডারে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। গোটা গ্যালারি তখন উচ্ছ্বসিত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দাপটে কার্যত, উৎসব চলছে। দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। 

আর লিওনেল মেসির কথা তো বলতেই হয়। ম্যাজিশিয়ান এবং ফুটবল কিং তিনি। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর সেই বিধ্বংসী ফর্ম এবং হাসি। সব ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন মেসি। প্রত্যেকটি ম্যাচে গোল করছেন। বয়স শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র। বিপক্ষ ডিফেন্সকে একেবারে নাস্তানুবাদ করে ছাড়ছেন। দুরন্ত গতির মুভ, কাট করে ভিতরে ঢুকেই আক্রমণ। লিওনেল মেসি আসলেই ম্যাজিশিয়ান। তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের এক তৃপ্ত অধিনায়ক। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা, যার ধারেকাছে কেউ নেই। যিনি নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙেন। সেই লিওনেল মেসি।আকর্ষণীয় স্কিল, অসাধারণ দক্ষতা, অনবদ্য ফুটবল এবং দুরন্ত পারফরম্যান্স। টিমগেমে বাজিমাৎ। প্রমাণ আবারও আজকের ম্যাচে। নিজে গোল করলেন না। তবে দুটি ফলের ক্ষেত্রেই তাঁর অ্যাসিস্ট এবং সতীর্থরা গোল করলেন। 

শেষপর্যন্ত, ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। 

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।