
Lords 150th Test: অনন্য নজির ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের। বিশ্বের প্রথম ক্রিকেট মাঠ হিসেবে ১৫০টি টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের নজির গড়ল লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়াম। আজ, বৃহস্পতবার থেকে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে শুরু হওয়া টেস্ট ম্যাচটিই লর্ডসের ১৫০তম টেস্ট হিসেবে ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিল। ১৮৮৪ সালের জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করেছিল লর্ডস। সেই শুরু। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশি সময়। অসংখ্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কিংবদন্তি ক্রিকেটারের উত্থান, রুদ্ধশ্বাস লড়াই এবং বিতর্কের সাক্ষী থেকেছে এই মাঠ। অবশেষে সেই দীর্ঘ যাত্রাপথে পৌঁছে গেল এক অনন্য মাইলফলকে।
ক্রিকেটবিশ্বে 'হোম অব ক্রিকেট' নামে পরিচিত লর্ডস লন্ডনের সেন্ট জনস উড এলাকায় অবস্থিত। মাঠটির মালিকানা রয়েছে বিখ্যাত মেরলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (Marylebone Cricket Club)-এর হাতে। ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই মাঠে রয়েছে বিখ্যাত প্যাভিলিয়ন, অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত 'লর্ডস স্লোপ', যা এই মাঠকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের নিরিখে লর্ডসের ধারেকাছে নেই অন্য কোনও স্টেডিয়াম। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের এমসিসি (Melbourne Cricket Ground)-তে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ১১৮টি টেস্ট। প্রতি গ্রীষ্মেই ইংল্যান্ডের একাধিক টেস্ট ম্যাচ লর্ডসে আয়োজন করা হয় বলেই ধীরে ধীরে এই ব্যবধান আরও বেড়েছে। লর্ডসে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। মেঘলা আবহাওয়ায় সুইং বোলিংয়ের অনুকূল পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লর্ডস ছাড়াও শতাধিক টেস্ট ম্য়াচ আয়োজিত হয়েছে বিশ্বের মাত্র তিনচি স্টেডিয়ামে- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের এমসিসি (১১৮), সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড (১১৪) ও ইংল্যান্ডের লন্ডনের দ্য ওভাল (১০৮)-এ।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক অ্যাসেজ সিরিজের হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছে বেন স্টোকসের ইংল্যান্ড। এই ম্যাচেই ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেনিংয়ে অভিষেক হয়েছে এমিলিও গের। ১৫০তম টেস্ট উপলক্ষে লর্ডসে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেটপ্রেমী, প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং ক্রীড়া ইতিহাসবিদরা এই মুহূর্তকে ক্রিকেটের জন্য বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও লর্ডসকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে একাধিক বার্তা পোস্ট করেছেন ক্রিকেটভক্তরা।