
Messi Records: বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্য়াচ গোল করার পর, কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে থামল মেসির গোলযাত্রা। সুইজারল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জিতলেও নিজে গোল করতে পারলেন না মেসি। তবে তাতেও নজির গড়া থেমে থাকল না কিংবদন্তির। বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ড গড়া যেন লিওনেল মেসির রুটিনের মত ব্য়াপারে। চলতি বিশ্বকাপেও সেই ধারা বজায় রেখে আরও একটি ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০টি অ্যাসিস্টের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। এর আগে কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপে দু'অঙ্কের অ্যাসিস্ট বা সরাসরি গোল সহয়তার এমন নজির গড়তে পারেননি। ফুটবলে অ্যাসিস্ট বলতে বোঝায় এমন পাস, যেখান থেকে সতীর্থ সরাসরি গোল করেন।
২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে আসছেন মেসি। ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে একটি করে অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দুটি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ছিল তাঁর সবচেয়ে সফল আসর, যেখানে তিনি তিনটি অ্যাসিস্ট করেন। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই আরও দুটি অ্যাসিস্ট যোগ করেছেন। সব মিলিয়ে ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তাঁর মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা এখন ১০। পাশাপাশি মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতা (২১টি*)।
শুধু অ্যাসিস্টই নয়, নকআউট পর্বেও অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তাঁর মোট গোল-অবদান এখন ১৫টি। গত ৬০ বছরে কোনও ফুটবলার নকআউট পর্বে এত বেশি গোল-অবদান রাখতে পারেননি। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতে মেসির প্রভাব অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান শুধু মেসির প্রতিভাই নয়, বড় ম্যাচে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্যেরও প্রমাণ। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষমতাও তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা প্লেমেকারে পরিণত করেছে।
২০০৬ থেকে ২০২৬,টানা ছয়টি বিশ্বকাপে নিজের সৃষ্টিশীলতা, দূরদৃষ্টি এবং ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০ অ্যাসিস্ট এবং নকআউটে ১৫ গোল-অবদানের এই নজির তাঁর কিংবদন্তি মর্যাদাকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল। ফুটবল মহলের একাংশের মতে, এই রেকর্ড ভাঙতে আগামী দিনে যে কোনও ফুটবলারের কাছেই কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
২০০৬: ১টি
২০১০: ১টি
২০১৪: ১টি
২০১৮: ২টি
২০২২:৩টি
২০২৬: ২টি (এখনও চলছে)