Argentina vs Switzerland: কী অসাধারণ দক্ষতায় ম্যাচ জয়। আর এই জয় পুরোটা এল টিমগেম খেলে। আর্জেন্টিনা জিতল ৩-১ গোলে। ম্যাচ শেষে সেমিফাইনালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা, জুলিয়ান আলভারেজের বিশ্বমানের গোল! টিমগেমে সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলেন মেসিরা।  

Argentina vs Switzerland: ফুটবল বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইতে ভারতীয় সময় রবিবার ভোরে, কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড (Argentina vs Switzerland)। আর সেই ম্যাচেই আবারও নিজেদের প্রমাণ করলেন স্কালোনির ছাত্ররা। কী অসাধারণ দক্ষতায় ম্যাচ জয়। সুইজারল্যান্ডের মতো ইস্পাত কঠিন ডিফেন্স ভেঙে জয়। চেষ্টা্‌ শুধু চেষ্টা, লাগাতার চেষ্টা এবং গোল। এই জয় পুরোটা এল টিমগেম খেলে। আর্জেন্টিনা জিতল ৩-১ গোলে (Argentina vs Switzerland score)। ম্যাচ শেষে সেমিফাইনালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা, জুলিয়ান আলভারেজের বিশ্বমানের গোল! টিমগেমে সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলেন মেসিরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সেমিফাইনালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা

প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৯ মিনিটে, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট সুইজারল্যান্ড ডিফেন্সে প্রতিহত হয়,এবং কর্নার পায় আর্জেন্টিনা। তবে লিওনেল মেসির নেওয়া সেই কর্নার ফের বাইরে চলে যায়। কিন্তু এরপরের কর্নারেই বাজিমাৎ। খেলার ১০ মিনিটে, ফের কর্নার নেন ‘এলএম১০' এবং সেই বলে দুরন্ত হেড করে গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপর ২০ মিনিটের মাথায়, সুইস ফরোয়ার্ড জিব্রিল সো-র শট সহজেই তালুবন্দি করেন আর্জেন্টিনা গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। দুই দলের তরফেই আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণ আসতে থাকে। তবে আর কোনও গোল হয়নি। কিন্তু একাধিক ফাউল চোখে পড়ল। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে, লিওনেল মেসির থ্রু বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নাহুয়েল মোলিনার শট ব্লক হয়ে যায়। 

এরপর জুলিয়ান আলভারেজের শট সুইজারল্যান্ড ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। কর্নার পায় আর্জেন্টিনা। তবে ৫২ মিনিটের মাথায় মেসির নেওয়া সেই কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করার চেষ্টা করেন এনজো ফার্নান্দেজ। কিন্তু বাইরে উড়ে যায়। খেলার ৬০ মিনিটে, ব্রিল এমবোলোর হেড সেভ করেন আর্জেন্টিনা গোলকিপার। ম্যাচের ৬৫ মিনিটেও আরেকটি ভালো সেভ করেন তিনি। যদিও খেলার ৬৭ মিনিটে, একটি গোল পায় সুইজারল্যান্ড। গোল করেন ড্যান এনডোয়ে। 

জুলিয়ান আলভারেজের বিশ্বমানের গোল

কিন্তু ৭২ মিনিটের মাথায়, ডাইভ মেরে মিথ্যে ফাউল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলার ব্রিল এমবোলো। এরপর ৭৮ মিনিটে, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোর পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকো গঞ্জালেজ , নাহুয়েল মোলিনার জায়গায় গঞ্জালো মন্টিয়েল এবং রদ্রিগো ডি পলের জায়গায় আসেন লাউতারো মার্টিনেজ। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডার বাইরে চলে যায়। এরপর লিওনেল মেসির শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে পরিবর্ত হিসেবে নামা থিয়াগো আলমাডার একটি শট সেভ হয় এবং একটি বারপোস্টে লাগে। 

কার্যত, লাগাতার আক্রমণ তুলে আনতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ চলে যায় আর্জেন্টাইন আক্রমণ বনাম সুইজারল্যান্ড ডিফেন্স। খেলার ১০৭ মিনিটে, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড বাইরে উড়ে যায়। এরপর ১১২ মিনিটে, মেসির শট সেভ করেন সুইজারল্যান্ড গোলকিপার গ্রেগর কোবেল। কিন্তু তারপরেই সেই বিশ্বমানের গোল। হোসে ম্যানুয়েল লোপেজের অ্যাসিস্ট থেকে বল পান জুলিয়ান আলভারেজ। এরপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে টপ রাইট কর্নার দিয়ে বলকে জালে জড়িয়ে দেন তিনি। অনবদ্য গোল। বিশ্বমানের স্ট্রাইক এবং দুর্দান্ত একটি মুহূর্ত। ম্যাচে ফের লিড নেয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। ম্যাচের ১২১ মিনিটে, লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। 

টিমগেমে সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলেন মেসিরা

মনে রাখতে হবে, আজকে কিন্তু মেসি কোনও গোল করেননি। তিনি গোল করিয়েছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন এবং সতীর্থরা গোল করেছে। অর্থাৎ, টিমগেমে বাজিমাৎ করল আর্জেন্টিনা। উল্লেখ্য, সব ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন মেসি। আজকের ম্যাচেও তাই। বয়স শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র। বিপক্ষ ডিফেন্সকে একেবারে নাস্তানুবাদ করে ছাড়ছেন। দুরন্ত গতির মুভ, কাট করে ভিতরে ঢুকেই আক্রমণ। লিওনেল মেসি আসলেই ম্যাজিশিয়ান। তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। 

আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের এক তৃপ্ত অধিনায়ক। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা, যার ধারেকাছে কেউ নেই। যিনি নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙেন। সেই লিওনেল মেসি।আকর্ষণীয় স্কিল, অসাধারণ দক্ষতা, অনবদ্য ফুটবল এবং দুরন্ত পারফরম্যান্স। টিমগেমে বাজিমাৎ। এই ম্যাচেও তিনি একটি রেকর্ড গড়েছেন। লিওনেল মেসি হলেন প্রথম কোনও ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ১৫টি নক-আউট ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। দৃশ্যতই বিশ্ব ফুটবলের শাসক। 

ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।