Mohun Bagan vs East Bengal: কলকাতা ডার্বি। যে ম্যাচকে কেন্দ্র করে বাঙালির চায়ের আড্ডা সরগরম হয়ে ওঠে। ময়দানে চলতে থাকে তর্ক-বিতর্ক। সবুজ মেরুন বনাম লাল হলুদ! এই চিরন্তন লড়াই যেন মিলিয়ে দেয় ৮ থেকে ৮০ সকলকে। নিজের প্রিয় দলের জয় দেখতে মাঠে হাজির হন হাজার হাজার সমর্থক। কার্যত, স্মরণীয় একটি ফুটবলের লড়াই, ৯০ মিনিটের টানটান যুদ্ধ।
ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যের মেগা কলকাতা ডার্বি। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল, মাঠে ধুন্ধুমার ফুটবল এবং গ্যালারি জুড়ে গর্জন। গায়ে কাঁটা দেওয়া সেই মুহূর্ত, উত্তেজনার গ্রাফ যেখানে কোনও লিমিট মানে না। এশিয়া তথা পৃথিবীর অন্যতম সেলেবেল ফুটবল প্রোডাক্ট, ভারতবর্ষের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে অনুষ্ঠিত কলকাতা ডার্বি। একদিকে দুরন্ত ফুটবল এবং অন্যদিকে, সবুজ মেরুন-লাল হলুদ জনতার বাকযুদ্ধ, আকর্ষণ এবং উত্তেজনা। এককথায়, ফুটবলের সেরা প্যাকেজ।
রবিবার হল সেই দিনটি। আইএসএল-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রবিবার, কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হতে চলেছে মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল। আপাতত লিগ টেবিলে এক নম্বরে আছে ইস্টবেঙ্গল এবং দুই নম্বরে রয়েছে মোহনবাগান। ১১ ম্যাচ খেলে লাল হলুদের পয়েন্ট ২২ এবং সবুজ মেরুনেরও ১১টি ম্যাচ খেলে সংগ্রহে ২২ পয়েন্ট। শুধুমাত্র গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকার সুবাদে, এক নম্বরে আছে ইস্টবেঙ্গল। তাই এই ম্যাচে যে দল জিতবে, তারাই কার্যত চ্যাম্পিয়ন।
ম্যাচের আগেরদিন ইস্টবেঙ্গলের তরফে সাংবাদিক সম্মেলনে আসেন হেডকোচ অস্কার ব্রুজো এবং ফুটবলার মহম্মদ রশিদ। অন্যদিকে, মোহনবাগানের তরফে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হন হেডকোচ সের্জিও লোবেরা এবং ফুটবলার আলবার্তো রডরিগেজ।
ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার মহম্মদ রশিদ বলেন, “মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল, এটা একটা অন্যতম আকর্ষণীয় এবং উত্তেজক ম্যাচ। ফুটবলাররা মুখিয়ে থাকে এমন একটা ম্যাচ খেলার জন্য। এই ম্যাচটা সবাই আনন্দ করে খেলতে চায়। তবে খেলাটা কিন্তু ১১ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের লড়াই। তাই দলের প্রত্যেক ফুটবলার নিজের ১০০% দিয়ে শেষ মিনিট অবধি লড়াই করতে প্রস্তুত। কোচ আমাদের যেমন যেমন নির্দেশ দেবেন, আমরা সেগুলোই মাঠে গিয়ে প্রয়োগ করব। এইভাবেই এগোতে হবে।"
লাল হলুদ হেডস্যার অস্কার ব্রুজো জানান, “সল ক্রেসপো, নাওরেম মহেশ, সৌভিক চক্রবর্তী, সবাই তৈরি। আর আমাদের দলে আনোয়ার আলী একজন যোদ্ধা। ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে টিম। আমাদের কোনও খারাপ লাগাও নেই। পুরো দল তৈরি আছে আগামীকালের ম্যাচের জন্য। আশা করি, ভালো ফুটবল উপহার দিতে পারব। আমি নিজে একজন ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকের জায়গায় নিজেকে বসাতে চাই। সেই জায়গা থেকেই আমি বুঝি যন্ত্রণাটা। গত কয়েকটা মরশুম ধরে এই দলটা অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে। ছেলেরা লড়াই করেছে। তাই আগামীকাল সেই খরাটা কাটানোর দিন। নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে ফুটবলাররা। হয়ত কাল আমার শেষ ডার্বি। তাই এই ম্যাচটা আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব।"
মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরার কথায়, "এটা একটা অসধারণ মুহূর্ত। গোটা দলের জন্য একটা সেরা সুযোগ। আবারও একবার নিজেদের প্রমাণ করার মঞ্চ। তাই এই ম্যাচে আমরা জয় ছাড়া কিছুই ভাবছি না। এটা জিততেই হবে। কার্যত, ফাইনাল। ট্রফি জিততে গেলে এই ম্যাচে জয় চাই। ছেলেরা সেইভাবেই তৈরি হচ্ছে। এরপর আমাদের আরেকটা খেলা আছে। কিন্তু সেই অপেক্ষায় থাকতে চাইছি না। এই ম্যাচটায় জয় চাই। এই চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য দল তৈরি আছে। দারুণ উত্তেজিত।"
তিনি আরও যোগ করেন, “আগে কী হয়েছে, সেইসব নিয়ে ভাবতে চাইনা। আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। গোল করার সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং গোলটা করতে হবে। আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করছি। সেটাকেই কাজে লাগাতে হবে আগামীকালের ম্যাচে।"
সবুজ মেরুন ফুটবলার আলবার্তো রডরিগেজের মতে, "আমাদের দলে সবার দায়িত্ব সমান। কেউ গোল করবে, কেউ বিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেবে। তবে আমি নিজে আরও গোল করতে চাই। অনুশীলন চলছে জোরকদমে। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে আমরা পুরো ফোকাস করছি। আমরা জানি, এই ম্যাচটা অন্য ম্যাচগুলোর থেকে অনেক আলাদা। তাই সেইভাবেই তৈরি করেছি নিজেদের।"
অপরদিকে, সাংবাদিক সম্মেলন শুরুর আগে মোহনবাগানের সর্বময় কর্তা প্রয়াত স্বপনসাধন বসু তথা ময়দানের অতি পরিচিত টুটু বসু এবং ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার প্রয়াত মোহন সিং-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন ফুটবলার, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং সাংবাদিকরা।
রবিবার, ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।