Mohun Bagan vs East Bengal: কলকাতা ডার্বি মানেই বাঙালির আবেগ এবং ভালোবাসা (mohun bagan vs east bengal derby)। ফুটবল মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াই।আসলে ফুটবলপ্রেমী জনতার কাছে এই ম্যাচটা শুধুমাত্র একটা ম্যাচ নয়! বলা যেতে পারে, ফুটবলের উৎসব। আর সেই উৎসবেই শামিল একাধিক সুন্দর সুন্দর বার্তাবহ টিফো (indian super league 2026)।
যে ম্যাচে বাঙালি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। কলকাতা ডার্বি। যে ম্যাচকে কেন্দ্র করে বাঙালির চায়ের আড্ডা সরগরম হয়ে ওঠে। ময়দানে চলতে থাকে তর্ক-বিতর্ক। সবুজ মেরুন বনাম লাল হলুদ! এই চিরন্তন লড়াই যেন মিলিয়ে দেয় ৮ থেকে ৮০ সকলকে। নিজের প্রিয় দলের জয় দেখতে মাঠে হাজির হন হাজার হাজার সমর্থক। কার্যত, স্মরণীয় একটি ফুটবলের লড়াই, ৯০ মিনিটের টানটান যুদ্ধ।
ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যের মেগা কলকাতা ডার্বি। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল, মাঠে ধুন্ধুমার ফুটবল এবং গ্যালারি জুড়ে গর্জন। গায়ে কাঁটা দেওয়া সেই মুহূর্ত, উত্তেজনার গ্রাফ যেখানে কোনও লিমিট মানে না। এশিয়া তথা পৃথিবীর অন্যতম সেরা ফুটবল ম্যাচ, ভারতবর্ষের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে অনুষ্ঠিত কলকাতা ডার্বি। একদিকে দুরন্ত ফুটবল এবং অন্যদিকে, সবুজ মেরুন-লাল হলুদ জনতার বাকযুদ্ধ, আকর্ষণ এবং উত্তেজনা। এককথায়, ফুটবলের সেরা প্যাকেজ।
সেই ডার্বিই ড্র হল ১-১ গোলে। কিন্তু মন জিতল রবিবাসরীয় ডার্বির বেশ কিছু টিফো এবং ব্যানার। হ্যাঁ, মাঠের লড়াই ৯০ মিনিটের। তারপর যেটা থাকে, সেটাকে বলা হয় স্পোর্টসম্যান স্পিরিট। যুবভারতীর গ্যালারিও যেন সেই কথাই জানান দিল। যেন বুঝিয়ে দিল, হ্যাঁ মাঠের লড়াই তো চলবেই। কিন্তু ফুটবলের স্বার্থে সম্মান সবার আগে। কয়েকদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগানের সর্বময় কর্তা তথা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি এবং মোহনবাগান রত্ন স্বপনসাধন বসু। যিনি ময়দানে সবার প্রিয় টুটু বসু নামেই পরিচিত ছিলেন।
সেই টুটু বসু যেমন সবুজ মেরুনের প্রাণভোমরা ছিলেন, সেইরকমই ইস্টবেঙ্গলের ছিলেন পল্টূ দাস। তিনি ছিলেন লাল হলুদ অন্তঃপ্রাণ। রবিবারের ডার্বিতে একটি অসাধারণ টিফো দেখা গেল যুবভারতীতে। সমর্থকরা বানিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওপরে বড় বড় করে লেখা রয়েছে, “A CENTURY OF RIVALRY BOUND BY RESPECT" তার নিচে একদিকে টুটু বসুর ছবি এবং আরেকদিকে পল্টূ দাসের ছবি। টুটু বসুর ছবির পাশে লেখা রয়েছে, “খালি পেটে ঝগড়া হয় না" এবং টুটুবাবুর হাতে ডাব চিংড়ি।
অন্যদিকে, পল্টূ দাসের হাতে ইলিশ মাছ এবং পাশে লেখা আছে, “চলো এবার আবার জমিয়ে ঝগড়া করি।" নিঃসন্দেহে দুই প্রধানের দুই প্রবাদপ্রতিম ক্লাব কর্তাকে সম্মান জানিয়ে এই টিফো যারা বানিয়েছেন, তাদের কুর্নিশ জানাচ্ছেন অনেকেই। ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে আরেকটি টিফো ছিল, সেটিতে লেখা, “THE FLAME BURNS BRIGHT FOR THE KING OF GOOD TIMES"
অন্যদিকে, মোহনবাগান গ্যালারিতে আরও বেশ কয়েকটি টিফো দেখা গেল। একটিতে লেখা ছিল, “TUTU BOSE FOREVER GUARDIAN OF MOHUN BAGAN", আরেকটিতে লেখা, “মুশকিল আসান টুটু বোস।" অন্য আরেকটিতে লেখা, “টুটুবাবুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি - সমগ্র হাওড়াবাসী এবং হাওড়া মশাল বাহিনীর পক্ষ থেকে ওনার অবদান বিনম্র চিত্তে স্মরণ করি।"
ম্যাচ শুরুর আগে গোটা স্টেডিয়াম এক মিনিটের জন্য নীরবতা পালন করে প্রয়াত টুটু বসুর জন্য। দুই দলের ফুটবলাররা সেন্টার সার্কেলের দুদিকে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে মোহনবাগানের সর্বময় কর্তার হাসিমুখ। শ্রদ্ধা জানানো হয় সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফ থেকেও।
ওদিকে আবার এক খুদে মোহনবাগান সমর্থক নিজে হাতে মোহনবাগানের পতাকা এঁকে মাঠে হাজির হয়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।