Mohun Bagan vs Inter Kashi: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মঙ্গলবার, আইএসএল-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় মোহনবাগান বনাম ইন্টার কাশী (mohun bagan vs inter kashi live)। সেই ম্যাচ ড্র হল গোলশূন্য অবস্থায় (indian super league news)। ঘরের মাঠে আটকে গেল মোহনবাগান। তবে লড়াকু ফুটবল উপহার দিল ইন্টার কাশী।
ম্যাচের শুরু থেকেই পজিশনাল ফুটবলে জোর দেয় মোহনবাগান। কিন্তু সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইন্টার কাশী বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে। যদিও থেমে ছিল না বাগান শিবিরও। কিন্তু গোটা ম্যাচে নিজেদের মধ্যে পাসিং ফুটবল খেললেও মাঝে মধ্যেই ছন্নছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছিল লোবেরার ছেলেদের খেলায়। কখনও কখনও লম্বা পাস কিংবা থ্রু বল দেওয়াও ঠিকঠাক হচ্ছিল না।
অন্যদিকে, খেলার ১৮ মিনিটে, সাহাল আবদুল সামাদের বাঁ-পায়ে নেওয়া জোরালো শট একটুর জন্য বারপোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। তার কয়েক মুহূর্ত বাদেই প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিল ইন্টার কাশী। একটুর জন্য মিস করেন মহম্মদ আসিফ।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে, টেকচাম অভিষেক সিং-এর শট অনেকটা বাইরে দিয়ে উড়ে যায়। এরপর পাল্টা আক্রমণ তুলে আনে ইন্টারও। ৪৩ মিনিটের মাথায়, আলফ্রেডের ডান পায়ের শটও বারপোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। তবে সেখানেই শেষ নয়। তারপরেও দুই দলের কাছে একাধিক সুযোগ আসে। কিন্তু কোনও দলই গোল করতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থাতেই।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় ফেরার চেষ্টা করে বাগান শিবির। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে, লিস্টন কোলাসোর শট বাইরে চলে যায়। এরপর ৬৪ মিনিটে, জেমি ম্যাকলারেন পাস বাড়ান দিমিত্রি পেত্রাতোসের দিকে। কিন্তু তাঁর শট ফের বাইরে চলে যায়। তারপর আবার সুযোগ পান দিমি। কিন্তু এবারও মিস।
তবে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে, জেমি ম্যাকলারেনের শট অনবদ্য সেভ করেন ইন্টার কাশী গোলকিপার শুভম দাস। তার কয়েক মুহূর্ত বাদেই কর্নার থেকে আসা বলে হেড করেও গোল করতে ব্যর্থ হন টম অ্যালড্রেড।
খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, একটি গোল যে দল পাবে, তারাই ম্যাচ জিতে নিতে পারে। তবে শেষ অবধি কোনও গোল আসেনি। ৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেন চতুর্থ রেফারি। সেখানেও দুই দলের তরফে সুযোগ তৈরি হয়। তবে কেউই গোল করতে পারেনি। এমনকি, শেষ মুহূর্তে প্রায় গোল করার কাছে পৌছে যায় ইন্টার। তবে বিপদ কিছু ঘটেনি।
শেষপর্যন্ত, গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় এই ম্যাচ। নিঃসন্দেহে ডার্বির আগে কিছুটা চাপে বাগান শিবির। আপাতত ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট সবুজ মেরুনের। প্রসঙ্গত, এই ম্যাচে নামার আগে ১০ ম্যাচ খেলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান লিগ টেবিলের দুই নম্বরে ছিল। আর এই ম্যাচের পরেও তারা থাকল দুই নম্বরেই। কারণ, ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ড্র করার ফলে, সবুজ মেরুনের সংগ্রহে ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট। ইস্টবেঙ্গলেরও তাই। কিন্তু তারা গোলপার্থক্যে এগিয়ে রয়েছে। তাই লাল হলুদ আছে এক নম্বরে।
তবে এই ম্যাচে ইন্টার কাশী ফুটবলারদের লড়াইয়ের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। ডেভিড মুনোজ, তোম্বা সিং, নাউরিস, আলফ্রেড, সের্জিও পার্ডো এবং নিশু কুমাররা দুরন্ত লড়াই দেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যেন রবসন, মনবীর, দীপক টাংরি, জেসন কামিংস এবং মেহতাব সিংদের ফুটবল অনেকটাই ম্লান। কারণ, ম্যানেজমেন্টের একাধিক সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে ইন্টার কাশী যে লড়াকু ফুটবলটা উপহার দিল, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
পাশাপাশি অবশ্যই ইন্টার কোচ অভিজিৎ মন্ডলের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতেই হয়। এই বঙ্গ তনয় অনবদ্য কোচিং করিয়েছেন মোহনবাগানের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে। সর্বোপরি, ফুটবল মস্তিস্ক এবং স্ট্র্যাটেজিতে রুখে দিয়েছেন সের্জিও লোবেরাকে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।