
পাকিস্তান হকি দল অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফিরে আসার পর এক বিরাট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দলের অধিনায়ক শাকিল আম্মাদ বাট পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের (PHF) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে ম্যাচ খেলার আগে খেলোয়াড়দের থালা-বাসন ধুতে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে বাধ্য করা হয়েছিল। লাহোর বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাট স্পষ্টভাবে বলেন, "যথেষ্ট হয়েছে... ম্যাচ খেলার আগে রান্নাঘর পরিষ্কার করা এবং থালা-বাসন ধোওয়া খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আপনি কী ধরনের ফলাফল আশা করতে পারেন?"
অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছনোর পরে পাকিস্তান হকি দলকে প্রথমে সিডনি বিমানবন্দরে ১৩-১৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তারপর, যখন দলটি তাদের FIH প্রো লিগ ম্যাচের জন্য ক্যানবেরার হোটেলে পৌঁছয়, তখন তাঁরা দেখতে পান যে রুম বুক করা হয়নি। খেলোয়াড়দের বলা হয়েছিল যে আগাম টাকা দিয়ে রুম বুক করা হয়নি। ফলস্বরূপ, দলকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং অস্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল। পরের দিন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাদের প্রথম ম্যাচে ২-৩ গোলে হেরেছে পাকিস্তান। পরের ম্যাচে জার্মানিও কাছেও হারতে হয়েছিল।
১৩ দিনের বদলে ১০ দিনের সফর
ক্যাপ্টেন বাট দাবি করেছেন যে দলের এয়ারবিএনবি থাকার জায়গা মাত্র ১০ দিনের জন্য বুক করা হয়েছিল, যেখানে সফরটি ১৩ দিনের হওয়ার কথা ছিল। পরে খেলোয়াড়দের সস্তা আবাসনে স্থানান্তরিত করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন যে ফেডারেশন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সত্য গোপন করছে এবং তারা যদি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বাট বলেন, "আমি বলছি কারণ অস্ট্রেলিয়ায় আমরা যা সম্মুখীন হয়েছি তা অগ্রহণযোগ্য।"
এই বিতর্কের মধ্যে, পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড নিশ্চিত করেছে যে তারা দলের হোটেলের জন্য পিএইচএফকে ১ কোটিরও বেশি পাকিস্তানি টাকা দিয়েছে। পিএসবি-র ডিরেক্টর জেনারেল নূর উস সাবাহ বলেছেন যে বিষয়টির একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্যাপ্টেন বাট আরও বলেছেন যে পাকিস্তান হকির উন্নতি করতে হলে একজন বিদেশি কোচ এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন।
পাকিস্তান হকির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ
একসময়ের বিশ্বমানের পাওয়ার হাউস পাকিস্তান হকি এখন প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার সংকটে ভুগছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে এই প্রকাশ্য অসন্তোষ ইঙ্গিত দেয় যে বিষয়টি কেবল জয় বা পরাজয়ের নয়, বরং পদ্ধতিগত জবাবদিহিতার বিষয়। সকলের দৃষ্টি এখন তদন্তের দিকে এবং পাকিস্তান হকি তার হারানো মর্যাদা ফিরে পাবে কি না তার দিকে।