
Sports Genomics: খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নত করতে এবং সঠিক প্রতিভা খুঁজে বের করতে এবার এক নতুন বৈজ্ঞানিক দিশা দেখাতে চলেছে গুজরাত। রাজ্য সরকার একটি বিশেষ 'স্পোর্টস জিনোমিক্স প্রোগ্রাম' চালু করেছে, যার মাধ্যমে অ্যাথলিটদের জিনগত গঠন, শারীরিক ক্ষমতা এবং পারফরম্যান্সের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশজুড়ে ক্রীড়া বিজ্ঞান, খেলোয়াড় চিহ্নিতকরণ এবং উচ্চমানের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে তথ্য-ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
Bangladesh Athletics: শরীরে পুরুষের সব লক্ষণ প্রমাণিত, নির্বাসিত বাংলাদেশের ২ 'মহিলা' অ্যাথলিট
গুজরাতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অর্জুন মোধওয়াড়িয়া একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, "মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের তত্ত্বাবধানে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। গুজরাত বায়োটেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার (GBRC) জিনোমিক্সের সঙ্গে স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওলজি এবং নিউট্রিশনকে একত্রিত করে প্রতিভা খোঁজার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তৈরি করতে চাইছে। গুজরাতই ভারতের প্রথম রাজ্য, যারা এই ধরনের স্পোর্টস জিনোমিক্স প্রোগ্রাম চালু করল।" তিনি আরও যোগ করেন, "GBRC-র বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন খেলার অ্যাথলিটদের থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু করেছেন। প্রথম দফায় গুজরাট স্টেট টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (GSTA) টেনিস খেলোয়াড়দের নমুনা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিজয়ী ভারত ফাউন্ডেশনের তীরন্দাজি, ফেন্সিং, জুডো এবং শুটিংয়ের খেলোয়াড়দের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এই বছর মোট ২,০০০ নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।"
আগামী ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমসকে কেন্দ্র করে গুজরাতের প্রস্তুতির নিরিখে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈজ্ঞানিকভাবে অ্যাথলিটদের প্রোফাইলিং করলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের জন্য খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তাদের তৈরি করা সহজ হবে। স্পোর্টস জিনোমিক্স একটি নতুন ক্ষেত্র, যা জিনগত ভিন্নতার সঙ্গে অ্যাথলেটিক বৈশিষ্ট্যের (যেমন পেশির গঠন, সহনশীলতা, মেটাবলিজম, ব্যায়ামের প্রতিক্রিয়া, পুনরুদ্ধার এবং আঘাতের প্রবণতা) সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করে। তবে এই গুজরাত প্রোগ্রাম এটাও স্বীকার করে যে, শুধুমাত্র জিনই খেলোয়াড়ের সাফল্যের একমাত্র কারণ নয়। প্রশিক্ষণ, কোচিং, পুষ্টি, পরিকাঠামো, সামাজিক সমর্থন এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণও একজন অ্যাথলিটের বিকাশে বড় ভূমিকা পালন করে।
এই প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন খেলার সেরা অ্যাথলিটদের স্ক্রিনিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ নমুনার হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং বিশ্লেষণ করা হবে। অর্থাৎ, পাঁচ বছরে প্রায় ১০,০০০ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। যে খেলাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, বক্সিং, কুস্তি, জুডো, তায়কোয়ান্দো, জিমন্যাস্টিকস এবং ফেন্সিং। ফুটবল, হকি, হ্যান্ডবল, ভলিবল এবং বাস্কেটবলের মতো দলগত খেলাও এর অন্তর্ভুক্ত। তার পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, লন টেনিস, কবাডি এবং খো-খো-ও রয়েছে। তীরন্দাজি, শুটিং এবং দাবা-র মতো খেলাও এই পরিকল্পনার অংশ। বিভিন্ন বয়সের অ্যাথলিটদের এর আওতায় আনা হবে, যার মধ্যে ১৪ বছরের কম, ১৪ থেকে ১৮ বছর এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী খেলোয়াড়রা থাকবেন। রাজ্য ও জাতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়নদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে হাই-পারফর্মিং অ্যাথলিটদের জিনগত এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলি অধ্যয়ন করার সুযোগ পাওয়া যায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।