
Unai Simon World Record: দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট পর বিশ্বকাপে অবশেষে গোল হজম করলেন স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমোন। গতকাল রাতে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৪১ মিনিটে গোল খান সিমোন। সেখানেই শেষ হয় বিশ্বকাপে ৬৪৯ মিনিট কোনও গোল না খাওয়ার নজির। ৩৬ বছর ধরে অটুট থাকা এক কিংবদন্তি গোলকিপিং রেকর্ড ভেঙে দিলেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন। ফিফা বিশ্বকাপে টানা ৬৪৯ মিনিট কোনও গোল না খেয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্বের ইতিহাসে দীর্ঘতম ক্লিন শিটের নতুন নজির গড়েছেন তিনি। এতদিন এই রেকর্ড ছিল ইতালির কিংবদন্তি গোলকিপার ওয়াল্টার জেঙ্গার দখলে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে তিনি টানা ৫১৮ মিনিট গোল হজম না করে ইতিহাস গড়েছিলেন। সেই রেকর্ড টানা ৩৬ বছর ধরে অক্ষত ছিল। অবশেষে চলতি বিশ্বকাপে সেই মাইলফলক পেরিয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন উনাই সিমোন।
গোলকিপার সিমোনের ৬৪৯ মিনিটের ক্লিন শিটের রেকর্ড শুরু হয় ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষ ৩৯ মিনিট থেকে। এরপর মরক্কোর বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ১২০ মিনিট। তারপর চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগের তিনটি ম্যাচ (কুরাসাও, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব), রাউন্ড অফ ৩২-এ অস্ট্রিয়া ও প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচেও একটা গোল হজম করেননি স্পেনের গোলকিপার। টানা ৬টি ম্যাচে গোল না খেয়ে তিনি ওয়াল্টার জেঙ্গার ৫১৮ মিনিটের পুরনো রেকর্ড ভেঙে ৬৪৯ মিনিটে পৌঁছন। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে প্রথম গোল হজম করে তাঁর এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার সমাপ্তি ঘটে। সিমোনের রেকর্ড থামে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারে গোলে।
স্পেনের দুর্দান্ত রক্ষণভাগ এবং সিমোনের অসাধারণ গোলকিপিংয়ের সৌজন্যে দলটি দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগই দেয়নি। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি শুধু দলকে ম্যাচে টিকিয়েই রাখেননি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজের নাম সোনার অক্ষরে লিখে ফেলেছেন। তবে এই অবিশ্বাস্য ক্লিন শিটের ধারাবাহিকতা শেষ হয় চলতি বিশ্বকাপে স্পেন প্রথম গোল হজম করার পর। তবুও ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নজির এখন বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্বের সর্বকালের সেরা রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেল। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলে গোলকিপারের ভূমিকা আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উনাই সিমোনের এই কীর্তি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগেরও বড় প্রমাণ। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা ইতিমধ্যেই এই ঐতিহাসিক রেকর্ডকে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।