
Novak Djokovic Knocked Out: টেনিস বিশ্বে ইন্দ্রপতন। গত ২৩ বছরে যা হয়নি, পুরুষদের পেশাদার টেনিসে তেমনটাই হচ্ছে। ইউএস ওপেনে শুরুতেই বড় ধাক্কা নোভাক জকোভিচের। রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন নিয়ে কোর্টে নামলেও প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিতে হল সার্বিয়ার তারকাকে। আর্জেন্টিনার বিশ্ব ক্রমতালিকায় ৪৯ নম্বরে থাকা মারিয়ানো নাভোনের কাছে পাঁচ সেটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হারলেন ৩৯ বছরের জকোভিচ। চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের ম্যারাথন ম্যাচে জকোভিচকে ৭-৬ (৭-৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে হারান নাভোনে। জকোভিচের কেরিয়ারে কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে এটাই সবচেয়ে দীর্ঘ ম্যাচ। একইসঙ্গে ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামে এটাই তাঁর সবচেয়ে দ্রুত বিদায়।
এই জয়ের ফলে একাধিক নজির গড়েছেন ২৫ বছরের নাভোনে। ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডে প্রথমবার জকোভিচকে হারালেন তিনি। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে জকোভিচকে হারানো প্রথম খেলোয়াড়ও হলেন নাভোনে। পাশাপাশি কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামে প্রথমবারের মতো ATP Raking-এর সেরা দশ খেলোয়াড়কে হারানোর নজিরও গড়লেন আর্জেন্টিনার এই টেনিস তারকা। ম্যাচের শুরু থেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় জকোভিচকে। নিউইয়র্কের গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ম্যাচ চলাকালীন একাধিকবার বমিও করেন। শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ায় শেষের দিকে তাঁর নড়াচড়াও কঠিন হয়ে যায়।
দেখুন ভিডিও
Novak Djokovic with a heartfelt moment to the crowd after his 1st round loss at the U.S. Open
He struggled with his body tonight, but kept fighting for 4 hours & 36 minutes at 39 years old
Leaving with grace and & nothing but love
What a legend. 🥹 pic.twitter.com/wDO16xpKsa— The Tennis Letter (@TheTennisLetter) August 31, 2026
২০০৩ সালের পর এই প্রথম কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের দ্বিতীয় রাউন্ডে দেখা যাবে না নোভাক জকোভিচ, রজার ফেডেরার বা রাফায়েল নাদালের কাউকেই।** দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেনিসের তিন মহাতারকার কেউই গ্র্যান্ড স্ল্যামের দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিতে পারলেন না।
কীভাবে হারেন জোকার
প্রথম সেটে ৩-০ গেমে এগিয়ে গিয়েও টাইব্রেকে সেটটি হারান জকোভিচ। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান তিনি। ৬-৫ গেমে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক নিয়ে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান। তৃতীয় সেটও ৬-৪ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে যান সার্বিয়ান তারকা। কিন্তু চতুর্থ সেট থেকে পরিস্থিতি বদলে যায়। শরীর আর সঙ্গ না দেওয়ায় জকোভিচের গতি কমে যায়। এক পর্যায়ে শট মারার পর অস্বস্তিকরভাবে পড়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ সেট ৬-২ এবং পঞ্চম সেট ৬-১ ব্যবধানে জিতে ম্যাচ নিজের নামে করেন নাভোনে।
ম্যাচে মোট ৭০টি আনফোর্সড এরর করেন জকোভিচ। পঞ্চম সেটে একসময় তাঁকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেও দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মধ্যরাতের ঠিক আগে ইউএস ওপেন থেকে বিদায় নেন তিনি।
ম্যাচের পর জকোভিচ বলেন, কোর্টে তাঁর অভিজ্ঞতা একেবারেই ভালো ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে যে শারীরিক সমস্যার সঙ্গে তিনি লড়াই করছেন, সেটিই ফের তাঁকে ভুগিয়েছে বলে জানান সার্বিয়ান তারকা। তাঁর কথায়, ম্যাচের এক পর্যায়ে শরীরে ক্র্যাম্প ও ব্যথা শুরু হয়। শেষদিকে পিঠ ও কাঁধেও সমস্যা দেখা দেয়।
জকোভিচ আরও জানান, এই সমস্যা ঠিক করা সম্ভব কি না, তা তিনি জানেন না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই হারের পর আরও একটি বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে জকোভিচের কেরিয়ারে। প্রায় আট বছর পর প্রথমবার ATP র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম দশের বাইরে চলে যাবেন তিনি।
হারলেন ভেনাস উইলিয়ামসও
জকোভিচের বিদায়ের সঙ্গে পুরুষদের টেনিসেও তৈরি হয়েছে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের দ্বিতীয় রাউন্ডে নোভাক জকোভিচ, রজার ফেডেরার বা রাফায়েল নাদালের কেউই নেই। অর্থাৎ দীর্ঘ ২৩ বছর পর তিন কিংবদন্তির কাউকেই গ্র্যান্ড স্ল্যামের দ্বিতীয় রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে মহিলাদের বিভাগেও নজর কেড়েছে সোফিয়া কেনিন ও ভেনাস উইলিয়ামসের ম্যাচ। দুই মার্কিন তারকার লড়াইয়ে ৬-২, ৭-৬ (৮-৬) ব্যবধানে জয় পান কেনিন। দ্বিতীয় সেটে ভেনাস ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও টাইব্রেকে ম্যাচ জিতে নেন কেনিন। ম্যাচটি শুরু হয় রাত ১২টা ১৩ মিনিটে, যা ইউএস ওপেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দেরিতে শুরু হওয়া মহিলাদের ম্যাচের নজির তৈরি করেছে।