Women Asia Cup 2026: মহিলা এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। শেফালি ভার্মার ৬৪ রানের ইনিংসে ভর করে ভারত ১৫৯/৯ তোলে। জবাবে দীপ্তি শর্মা এবং নন্দিনী শর্মার দুরন্ত বোলিংয়ে থাইল্যান্ড মাত্র ৬৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। দুজনেই তিনটি করে উইকেট নেন।
Women Asia Cup 2026: দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার, মহিলাদের এশিয়া কাপ ২০২৬-এর ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ব্যাটিং এবং বোলিং, দুই বিভাগেই দাপট দেখান ভারতের মেয়েরা। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৫৯/৯ রান তোলে। জবাবে থাইল্যান্ডের ইনিংস মাত্র ১৬.১ ওভারে ৬৫ রানেই গুটিয়ে যায় (asia cup women 2026)।
বোলারদের দাপটে দিশেহারা থাইল্যান্ড
১৬০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে, থাইল্যান্ড শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে থাইল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরার কোনও সুযোগই দেয়নি। ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় থাইল্যান্ড। মাত্র ৪ রান করে ক্রান্তি গৌড়ের বলে আউট হন নাথাকান চান্থাম। এরপর ফান্নিতা মায়াও (৬) নন্দিনী শর্মার শিকার হন। পাওয়ার প্লে-র মধ্যে মাত্র ১৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে থাইল্যান্ড। শ্রী চারণীও দুর্দান্ত বোলিং করে চাপ বাড়াতে থাকেন। তিনি তার তিন ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। তার বলে আউট হন আফিসারা সুওয়ানচোনরাথি (১) এবং চান্দা সুত্থিরুয়াং (৫)। ৭.৪ ওভারে থাইল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৪৩/৪।
India A Women Cricket: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় মহিলা দলের দাপট, বড় স্কোর
এরপর আক্রমণে এসে দীপ্তি শর্মা নবম ওভারে নাওমি হ্যামিলটন (১) এবং নান্নাফাত চাইহানকে (০) আউট করে থাইল্যান্ডকে আরও বিপদে ফেলেন। ৮.৩ ওভারে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৪৪/৬। এরপর সুলিপরন লাওমি এবং নান্নাপাত কনচারোয়েনকাই মিলে ১৬ রানের একটি জুটি গড়েন। কিন্তু এই জুটি ভাঙতেই থাইল্যান্ডের ইনিংস তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। নন্দিনী শর্মা এবং দীপ্তি শর্মা বাকি উইকেটগুলো তুলে নেন। থাইল্যান্ড তাদের শেষ তিনটি উইকেট কোনও রান যোগ না করেই হারায়। কনচারোয়েনকাই শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন। থাইল্যান্ড ১৬.১ ওভারে ৬৫ রানে অলআউট হয়ে যায়।
থাইল্যান্ডের হয়ে একমাত্র লড়াই করেন কনচারোয়েনকাই। তিনি ৪৮ বলে ৪১ রানের একটি ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছয়টি চার ছিল। ভারতের স্পিনাররা পুরো ম্যাচেই দাপট দেখান। দীপ্তি শর্মা মাত্র ১.১ ওভারে কোনও রান না দিয়েই ৩ উইকেট নেন। শ্রী চারণী তিন ওভারে ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। মিডিয়াম পেসার নন্দিনী শর্মাও চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। ভারত তাদের পরের ম্যাচ খেলবে ৩ সেপ্টেম্বর হংকং, চায়না উইমেনের বিরুদ্ধে।
শেফালির হাফ-সেঞ্চুরির পরেও ভারতের মিডল অর্ডারে ধস
এর আগে শেফালি ভার্মার বিস্ফোরক হাফ-সেঞ্চুরি সত্ত্বেও থাইল্যান্ডের বোলাররা, বিশেষ করে সুলিপরন লাওমি এবং সুনিদা চাতুরংরাত্তানা, দারুণ বোলিং করে ভারতকে ১৫৯/৯ রানে আটকে দেয়। একটা সময়ে ভারতের স্কোর ছিল ১০৮/২, কিন্তু পরের পাঁচ ওভারে ব্যাটিং ধসের কারণে স্কোর দাঁড়ায় ১৩৬/৭। শেফালি ৩৬ বলে ৬৪ রান করেন, যার মধ্যে আটটি চার ও তিনটি ছয় ছিল। তিনিই ভারতের সর্বোচ্চ স্কোরার। এই ম্যাচে টস জিতে থাইল্যান্ড ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায়। এই ম্যাচে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক করেন প্রতিক্ষা রাওয়াল। অন্যদিকে, দীপ্তি শর্মা ভারতের হয়ে তার ১৫০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। হরমনপ্রীত কৌর (২০২) এবং স্মৃতি মন্ধানার (১৭১) পর তিনি তৃতীয় ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
স্মৃতি মন্ধানা প্রথম ওভারে ফান্নিতা মায়ার বলে তিনটি চার মেরে দারুণ শুরু করেন। পরের ওভারে শেফালিও থিপাৎচা পুত্থাওংয়ের বলে দুটি চার মারেন। তৃতীয় ওভারে মায়ার বলে স্মৃতি একটি চার এবং শেফালি একটি ছয় মারেন। কিন্তু এরপরই ১০ বলে ১৯ রান করে রান আউট হয়ে যান স্মৃতি। তিন ওভারে ভারতের স্কোর ছিল ৩৮/১। স্মৃতি আউট হলেও শেফালি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। অন্যদিকে, প্রতিক্ষা তার টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারের চতুর্থ বলেই প্রথম ছয় মারেন। ৪.১ ওভারে ভারত ৫০ রানের গণ্ডি পার করে। পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৬৫/১। তখন শেফালি (৩৩*) এবং প্রতিক্ষা (১৩*) ক্রিজে ছিলেন।
সুনিদা চাতুরংরাত্তানার দ্বিতীয় ওভারে ১৫ রান আসে। শেফালি তার ২৬ বলে ১৯তম টি-টোয়েন্টি হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও তিনটি ছয়। তবেপরের বলেই সুলিপরন লাওমির বলে ১৮ বলে ২২ রান করে আউট হন প্রতিক্ষা। ৯ ওভারে ভারতের স্কোর ছিল ৯১/২। ১০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ১০১/২। শেফালি (৫৯*) এবং অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর (১*) ব্যাট করছিলেন।
এরপরই পুত্থাওং এবং লাওমি ভারতীয় ইনিংসে ধস নামান। হরমনপ্রীতকে (৫) বোল্ড করেন পুত্থাওং। এরপর লাওমি পরপর দুই বলে শেফালি (৩৬ বলে ৬৪) এবং বিপজ্জনক রিচা ঘোষকে (০) আউট করেন। ১৩ ওভারে ভারতের স্কোর ১১২/৫ হয়ে যায়।
এরপর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব পড়ে ভারতী ফুলমালি এবং দীপ্তি শর্মার ওপর। দুজনে কয়েকটি বাউন্ডারি মারলেও দীপ্তি (৫) রান আউট হয়ে যান। এরপর ফুলমালিও (১৩) চাতুরংরাত্তানার বলে আউট হন। ১৬.৩ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৩৬/৭।
থাইল্যান্ডের বোলাররা এরপরও চাপ বজায় রাখে। প্রেমা রাওয়াত (৬) এবং নন্দিনী শর্মা (০) দ্রুত আউট হলে ১৭.২ ওভারে ভারতের স্কোর হয় ১৩৭/৯। শেষদিকে ক্রান্তি গৌড় (৮ বলে ১৫*) এবং শ্রী চারণী (৬*) লড়াই করে দলকে ২০ ওভারে ১৫৯/৯ রানে পৌঁছে দেন।
থাইল্যান্ডের হয়ে লাওমি ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন। চাতুরংরাত্তানা তিন ওভারে ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। অধিনায়ক পুত্থাওং এবং চান্দা সুত্থিরুয়াং একটি করে উইকেট পান।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


